ঢাকা ভোর ৫:৪৫, বুধবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কলেজ ছাত্র মেহেদী হাসান হত্যাকান্ডের রহস্য উম্মোচনে গ্রেফতার-৫

গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সম্মান শেষ বর্ষের ছাত্র মেহেদী হাসান তুহিন (২৩) পিতা- মোঃ রফিকুল ইসলাম,সাং-মজলিশপুর কাজীপাড়া, থানা- বাসন, জিএমপি।মেহেদী লেখাপড়ার পাশাপাশি গত ৬ মাস যাবৎ জিএমপি’র কোনাবাড়ীর রুনু সুপার মার্কেটের একটি OPPO মোবাইল কোম্পানীর দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছিল।গত ১২ ডিসেম্বর-২১ ইং তারিখে জিএমপি’র বাসন থানাধীন গাজীপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাওজোড় এলাকায় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা গলাকেটে হত্যা করে মেহেদী হাসান তুহিনকে। উক্ত ঘটনায় মৃতের বাবা মোঃ রফিকুল ইসলাম (৪৮) কর্তৃক অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জিএমপি’র বাসন থানার মামলা দায়ের করেন।
উক্ত ঘটনাটি দেশজুড়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বেশ গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হলে সিআইডি ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর পিপিএম উক্ত ক্লুলেস মামলার রহস্য উন্মোচন করেন। পরবর্তীতে তার দিক নির্দেশনায় সমস্ত বিষয়াদি যাচাই করে ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্ত করা হয় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে উক্ত হত্যায় জড়িত ০১ নম্বর আসামী মোঃ সুমন হোসেন,মোঃ হযরত’কে ঢাকা জেলার কেরাণীগঞ্জ এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্য মোতাবেক যাচাই বাছাই পূর্বক উক্ত ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী ০৩ নম্বর আসামী,মোঃ মাসুদ রানা,মোঃ অলিয়ার রহমান (রাজু),মোঃ ফখরুল ইসলাম পেশায় অটোচালককে ছিনতাইকালে ব্যবহৃত অটোসহ ডেমরা থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা স্বীকার করে যে,তারা মূলত ছিনতাইকারী দলের সক্রিয় সদস্য। উক্ত এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় নির্দিষ্ট অটোবাইক নিয়ে গভীর রাত হতে ভোর পর্যন্ত রাস্তায় চলাচলকারী পথচারীদের টার্গেট করে তারা তাদের অপরাধ কর্ম চালিয়ে থাকে। কেউ ছিনতাইকালে বাধা প্রদান করলে তারা তাদের সাথে থাকা ধারালো চাপাতি, লোহার রড দিয়ে আঘাত করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ঘটনার তারিখ ও সময়ে মেহেদী হাসান তুহিন কোনাবাড়ীর রুনু মার্কেটস্থ ”লোটাস টেলিকম” হতে কাজ শেষে মজলিশপুরস্থ তার ভাড়া বাসায় ফেরার সময় নাওজোড়স্থ আঃ মালেক সরকার নিউ সুপার মার্কেটের সামনে পৌছালে তার কাছে থাকা মূল্যবান সামগ্রী আসামীরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ভিক্টিম তুহিন প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে আসামীরা তাদের নিকট থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে গলা কেটে দ্রুত পালিয়ে যায়।
এরূপ মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার অজ্ঞাতনামা আসামীদের দ্রুত সময়ে চিহ্নিতপূর্বক গ্রেফতার সিআইডি তথা বাংলাদেশ পুলিশের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

এ বিভাগের আরও সংবাদ