দীর্ঘদিনের শিক্ষক – শিক্ষার্থীদের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ৬২০ দিন পর আজ থেকে স্বশরীরে ক্লাস, পরীক্ষা শুরু হয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)তে ।
২৩ শে নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে ২৮ শে নভেম্বর (রবিবার) বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্বান্ত গ্রহণ করা হয়। তারপর পরই স্বশরীরে ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
করোনা মহামারীর ভয়াল ছোবলে ১৭ ই মার্চ ২০২০ সাল ১৪ দিনের ছুটিতে বাড়িতে ফিরে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা। কিন্তু সে ছুটি দীর্ঘ হয় প্রায় ২০ মাস। দীর্ঘদিন স্বশরীরে শ্রেণি ও পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ছিল নোবিপ্রবিতে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২৮ শে নভেম্বর (রবিবার) সকাল থেকে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে জুড়ে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে সকাল থেকে ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করে নোবিপ্রবি শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। প্রশাসনিক ভবন, গোলচত্তর, প্রশান্তির পার্ক, নীলদিঘি, হতাশার মোড়, সেন্টাল ফিল্ড সহ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি।
দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে স্বশরীরে ক্লাস করতে পেরে আনন্দিত নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাজনীন আক্তার শিখা বলেন, ” দীর্ঘদিনের বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার ক্লাসে ফিরার আনন্দ বলে প্রকাশ করার মতো নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক ভাবে চলবে ছাত্র- শিক্ষক, স্টাফ সবার পদচারণায় মুখরিত হবে ক্যাম্পাস৷ শিক্ষা জীবনের শেষ সময়ে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই চিরচেনা পরিচিত রুপ এমনভাবে পাবো আশা করিনি। কোভিড -১৯ এর কারনে এমন টা হয়েছে৷ যাই হোক বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম দ্রুতই স্বাভাবিক হোক এবং সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। সামনের অনাগত দিনগুলো সবার জন্য সুখমন্ডিত হোক, একটি সুস্থ পৃথিবী গড়ে উঠুক।
নোবিপ্রবির আরেক শিক্ষার্থী রিয়াজুল কবির পলক বলেন, অনলাইন ক্লাসের যুগ থেকে বেরিয়ে আমরা ফিরে আসেছি স্বশরীরে ক্লাসে। বন্ধুবান্ধবদের সাথে দেখা হবে আবার, আনন্দ – আড্ডায় মেতিতে উঠবে ১০১ একরের নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস।
নোবিপ্রবির এপ্লাইড কেমিস্টি ও ক্যামিকেল ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহমদ আরাফাত রিজভী বলেন, ” দীর্ঘদিন স্বশরীরে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় সেশনজটে আটকে ছিলো আমাদের শিক্ষাজীবন। আশা করি এবার আমাদের শিক্ষাজীবনের গতিময়তা ফিরবে আগের মতো।


























