ঢাকা মেট্রো-পূর্ব বিভাগ, বাংলাদেশ পুলিশ, সিআইডি,ঢাকা এর একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে ৩০ নম্ভেবর-২১ ইং তারিখে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার শাজাহানপুর থানাধীন ৪৯,শান্তিবাগ (শান্তিবাগ কটেজ) থেকে আসামী মোঃ আঃ মান্নান কে নিম্ম বর্ণিত মালামালসহ গ্রেফতার করা হয়। আসামীর দেয়া তথ্যমতে গুলশান থানাধীন কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে তার অপর সহযোগী মোঃ আতাউর রহমান’কে গ্রেফতার করা হয়। আসামীদ্বয় নিজে এবং দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিদেশ গমনে ইচ্ছুক লোকদের সংগ্রহ করে সুইডেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নামে মোটা অংকের টাকার চুক্তি করে। চূক্তিকৃত টাকার কিছু অংশ আসামী আঃ মান্নান এর হাতে আসলে সে তাদের বিদেশ গমনে প্রলুব্ধ করার লক্ষ্যে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য প্রথমে জনপ্রতি ১০,৫০০/- টাকা করে নেয়। পরবর্তীতে চক্রটি তাদের নির্ধারিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মাধ্যমে ভুক্তভোগিদের ভূয়া মেডিকেল কার্যক্রম সম্পন্ন করে। এক্ষেত্রে যে পরিমান টাকার প্রয়োজন হয়, চক্রের সদস্যরা তার চেয়ে ৩/৪ গুন বেশী টাকা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে গ্রহন করে। ডাক্তারী পরীক্ষার পর বিভিন্ন ভুয়া এজেন্সী’তে পাসপোর্ট জমা দেয়ার নামে তারা চুক্তিকৃত টাকার বেশীর ভাগ অংশ নিয়ে নেয়। কিছু দিন পর তারা বিভিন্ন দেশের জাল ভিসার স্টিকার তৈরী করে পাসপোর্টে সংযুক্ত করার মাধ্যমে বিদেশ গমনে ইচ্ছুক প্রার্থীদের পাসপোর্ট ফেরৎ দিয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে। এভাবে চক্রটি বিভিন্ন এয়ারের টিকেট প্রস্তুত করে চুক্তিকৃত সমুদয় টাকা হাতিয়ে নেয়। আসামীরা জাল ভিসা প্রদানের মাধ্যমে শুধুমাত্র এই ভুক্তভোগীদের নিকট থেকে ৭৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা প্রাপ্ত এয়ার টিকেট ও ভিসাসমুহ যাচাই করে জাল বলে জানতে পারেন। আসামী মোঃ আব্দুল মান্নান প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশ গমনে ইচ্ছুক লোকজনদেরক প্রস্তুত করে এবং অপর আসামী মোঃ আতাউর রহমান প্রস্তুতকৃত লোকজনদেরকে ডাক্তারী পরীক্ষার কাজ করানোসহ বিবিধ দায়িত্ব পালন করে। আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে প্রতারনামূলকভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ জাল ভিসা সংযোজন ও কাগজপত্র সৃজন করে সাধারন মানুষের নিকট থেকে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিল। জিজ্ঞাসাবাদে আসামীগন জাল ভিসা প্রস্তুত ও সৃজন করা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্যাদি প্রদান করে। প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে উদ্ধার ও গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন,মোঃ আব্দুল মান্নান,মোঃ আতাউর রহমান’কে কালাচাঁদপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়।এ ঘটনায় শাহজাহানপুর থানায় গ্রেফতারকৃতসহ চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে পেনাল কোড এর ১৯৭৮ সালের পাসপোর্ট আইন এর ১১ (৩) ধারায় এজাহার দায়ের করে মামলা রুজু হয়।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ


























