০৮:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে জাবির আবাসিক হলে ভাঙচুর

ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ রফিক-জব্বার হলের দুটি কক্ষে ভাংচুর করা হয়েছে। আবাসিক হলটির জব্বার ব্লকের ২৩৭ ও ২৩৮ নম্বর রুম ভাংচুরের বিষয়ে দোষীদের শাস্তি দাবি করে প্রক্টর বরাবর অভিযোগপত্র দিয়েছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫ তম ব্যাচের আহ্সান আমিন ফাহিম ও মো: সোহেল রানা ৪৭ ব্যাচের চারজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগপত্র জমা দেয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ১ ডিসেম্বর হল মাঠে চলমান টুর্নামেন্টের একটি ম্যাচকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে অর্থাৎ ২ ডিসেম্বর রাতে ২টায় শহীদ রফিক জব্বার হলের ৪৭ তম ব্যাচের কতিপয় শিক্ষার্থী আয়োজক ৪৬ ব্যাচের সাথে বাক বিতন্ডায় লিপ্ত হয়। উক্ত ঘটনার জের ধরে আনুমানিক রাত ৩টায় ৪৭ ব্যাচের অর্থনীতি বিভাগের মোস্তফা ফয়সাল রাফি, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের হাসান আল মাসুদ, বাংলা বিভাগের অলক কুমার পাল ও ইতিহাস বিভাগের আকাশ তালুকদার ২৩৭ ও ২৩৮ নং কক্ষে বেপরোয়াভাবে ভাংচুর চালায়। এ ঘটনার চাক্ষুস প্রমাণ শহীদ রফিক-জব্বার হল ৪৫তম ব্যাচ ও হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আরো উল্লেখ করা হয়, ঘটনা সংগঠিত হওয়ার পরে ঐ রাতেই হলের প্রভোস্ট ও একজন সহকারী প্রক্টর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কক্ষে ভাংচুরের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি সাধনের বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবী জানান শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান জানান, শহীদ রফিক জব্বার হলের রুম ভাংচুরের ঘটনার একটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। তবে এটা হলের আভ্যন্তরীণ ঘটনা। হল প্রভোস্ট এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। প্রয়োজন হলে আমরা প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করবো।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ‘শর্ট পিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত ও দর্শকের স্লেজিং করাকে কেন্দ্র করে খেলোয়াড়দের মনে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। এর জেরে দুটি রুমের জানালা ও হল মসজিদের সামনের ফুলের টব ভাংচুর করে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন এবং একজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন।’

খেলার আয়োজক কমিটির সদস্য ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী কেফায়েত বলেন, ‘৪৫ ব্যাচের সাথে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে ৪৭ ব্যাচ হেরে যায়। ম্যাচ শেষে ৪৭ ব্যাচ বিপক্ষ দলের আচরণ ও আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলে মাঠ ছাড়ে। আয়োজক কমিটি মাঠে আসতে বললেও পরপর দুটি ম্যাচে তারা মাঠে আসেনি। পরে সমঝোতার জন্য উভয় পক্ষের সাথে আমরা বসি। কিন্তু ৪৭ ব্যাচ সিদ্ধান্ত না মেনে উগ্রভাবে রুম থেকে বের হয়ে আসে। পরবর্তীতে তারা মসজিদের সামনে ফুলের টব এবং ২৩৭ ও ২৩৮ নং রুমের গ্লাস ভাংচুর করে।’

হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, ‘ঘটনা শুনার সাথে সাথেই আমি হলে গিয়েছিলাম। খেলাকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটছে। তবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি সাধনের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তে যারা দোষী সাব্যস্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে হল আইনে শাস্তি প্রদান করা হবে।’

সরোজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা ঐ ঘটনার পর থেকেই হলের বাহিরে আছে। তাদের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার শহীদ রফিক-জব্বার হলের ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ২১ টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হয় ৭ দিন ব্যাপী ‘ইয়াকুব-মিশু স্মৃতি শর্টপিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২১’। ৩ ডিসেম্বর শুক্রবার খেলার ফাইনাল ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ময়মনসিংহে ৩ দিনব্যাপী কৃষি মেলা শুরু

ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে জাবির আবাসিক হলে ভাঙচুর

প্রকাশিত : ০৫:৩৯:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২১

ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ রফিক-জব্বার হলের দুটি কক্ষে ভাংচুর করা হয়েছে। আবাসিক হলটির জব্বার ব্লকের ২৩৭ ও ২৩৮ নম্বর রুম ভাংচুরের বিষয়ে দোষীদের শাস্তি দাবি করে প্রক্টর বরাবর অভিযোগপত্র দিয়েছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫ তম ব্যাচের আহ্সান আমিন ফাহিম ও মো: সোহেল রানা ৪৭ ব্যাচের চারজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগপত্র জমা দেয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ১ ডিসেম্বর হল মাঠে চলমান টুর্নামেন্টের একটি ম্যাচকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে অর্থাৎ ২ ডিসেম্বর রাতে ২টায় শহীদ রফিক জব্বার হলের ৪৭ তম ব্যাচের কতিপয় শিক্ষার্থী আয়োজক ৪৬ ব্যাচের সাথে বাক বিতন্ডায় লিপ্ত হয়। উক্ত ঘটনার জের ধরে আনুমানিক রাত ৩টায় ৪৭ ব্যাচের অর্থনীতি বিভাগের মোস্তফা ফয়সাল রাফি, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের হাসান আল মাসুদ, বাংলা বিভাগের অলক কুমার পাল ও ইতিহাস বিভাগের আকাশ তালুকদার ২৩৭ ও ২৩৮ নং কক্ষে বেপরোয়াভাবে ভাংচুর চালায়। এ ঘটনার চাক্ষুস প্রমাণ শহীদ রফিক-জব্বার হল ৪৫তম ব্যাচ ও হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আরো উল্লেখ করা হয়, ঘটনা সংগঠিত হওয়ার পরে ঐ রাতেই হলের প্রভোস্ট ও একজন সহকারী প্রক্টর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কক্ষে ভাংচুরের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি সাধনের বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবী জানান শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান জানান, শহীদ রফিক জব্বার হলের রুম ভাংচুরের ঘটনার একটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। তবে এটা হলের আভ্যন্তরীণ ঘটনা। হল প্রভোস্ট এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। প্রয়োজন হলে আমরা প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করবো।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ‘শর্ট পিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত ও দর্শকের স্লেজিং করাকে কেন্দ্র করে খেলোয়াড়দের মনে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। এর জেরে দুটি রুমের জানালা ও হল মসজিদের সামনের ফুলের টব ভাংচুর করে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন এবং একজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন।’

খেলার আয়োজক কমিটির সদস্য ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী কেফায়েত বলেন, ‘৪৫ ব্যাচের সাথে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে ৪৭ ব্যাচ হেরে যায়। ম্যাচ শেষে ৪৭ ব্যাচ বিপক্ষ দলের আচরণ ও আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলে মাঠ ছাড়ে। আয়োজক কমিটি মাঠে আসতে বললেও পরপর দুটি ম্যাচে তারা মাঠে আসেনি। পরে সমঝোতার জন্য উভয় পক্ষের সাথে আমরা বসি। কিন্তু ৪৭ ব্যাচ সিদ্ধান্ত না মেনে উগ্রভাবে রুম থেকে বের হয়ে আসে। পরবর্তীতে তারা মসজিদের সামনে ফুলের টব এবং ২৩৭ ও ২৩৮ নং রুমের গ্লাস ভাংচুর করে।’

হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, ‘ঘটনা শুনার সাথে সাথেই আমি হলে গিয়েছিলাম। খেলাকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটছে। তবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি সাধনের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তে যারা দোষী সাব্যস্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে হল আইনে শাস্তি প্রদান করা হবে।’

সরোজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা ঐ ঘটনার পর থেকেই হলের বাহিরে আছে। তাদের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার শহীদ রফিক-জব্বার হলের ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ২১ টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হয় ৭ দিন ব্যাপী ‘ইয়াকুব-মিশু স্মৃতি শর্টপিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২১’। ৩ ডিসেম্বর শুক্রবার খেলার ফাইনাল ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর