০২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

নলডাঙ্গায় বাফার গুদাম নির্মাণে টালবাহানা, ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা

তিনটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় ২০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন বিসিআইসির সারের গুদাম নির্মাণে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের জন্য জমির মালিকদের ৪ ধারার নোটিশ দিয়েছিলেন জেলা প্রশাসন। কিন্তু গত চার বছর অতিবাহিত হলেও বাফার গুদাম নির্মাণে কোন অগ্রগতি দেখা মিলছে না।

এতে একদিকে জমির মালিকরা যেমন জমি বিক্রি করতে পারছেন না। অপরদিকে তারা জমিতে কোন প্রকার ফসল ফলাতে পারছেন না। এমনকি তারা কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে পারছেন না। ফলে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন জমির মালিকরা। তাই তারা পূর্বনির্ধারিত স্থানেই বাফার গোডাউন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, নলডাঙ্গা উপজেলায একটি অনুন্নত এবং অপেক্ষাকৃত দরিদ্র এলাকা হিসেবে পরিচিত। এছাড়া হালতিবিল ও চলনবিল বিধৌত হওয়ায় উপজেলাটি উত্তরাঞ্চলের শস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত। তবে কৃষিনির্ভর এলাকার কৃষকরা সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এরপরেও এখানকার উৎপাদিত বিভিন্ন সবজি ও ফসল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এই এলাকায় সার সংরক্ষণের কোন গুদাম না থাকায় বোরো মৌসুমের সারের জন্য কৃষকদের অনেক বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। এছাড়া সময় ও সুবিধা মতো সার না পাওয়ার কারণে কৃষকদের ফসলের ক্ষতি সাধন হয়। পাশাপাশি এলাকায় কোন শিল্প কারখানা কিংবা কর্মসংস্থানের কোন ব্যবস্থা নেই। অথচ এই উপজেলায় কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথ সুবিধা থাকায় জেলার সাতটি উপজেলাসহ দেশের অন্যান্য জেলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ ও সুবিধাজনক। এছাড়া অন্যান্য উপজেলার তুলনায় এই এলাকাটি উঁচু ও সমতল হওয়ায় বর্ষা কালীন সময়ে বন্যামুক্ত থাকে। এসব বিবেচনায় ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে নাটোর জেলায় ২০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি বাফার গোডাউন নির্মাণের লক্ষ্যে সড়ক, রেল ও নৌপথ যোগাযোগ সুবিধা সম্বলিত ৫ দশমিক ৯৬ একর জমি নির্বাচন করার জন্য বিসিআইসি থেকে নলডাঙ্গা উপজেলাকে বেছে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে জমি নির্বাচন করতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে চিঠি দেয় বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ। ওই চিঠির প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে বাফার গুদাম নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করে ভূমির স্কেচ ম্যাপ ও জমির দাগ নম্বর সহ একটি প্রতিবেদন বিসিআইসিতে দাখিল করেন।

পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের নির্দেশে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ভূমির মালিকদের ৪ (চার) ধারা নোটিশ প্রদান করা হয়। এরপরে ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল বাফার গোডাউন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু গত চার বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও বাফার গোডাউন নির্মাণের কোন অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি, বিসিআইসি কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও একটি স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তের কারণে বাফার গোডাউন নির্মাণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সহ ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলমান থাকার কারনে ৪৫ জন কৃষক তাদের জমিতে চাষাবাদ করা থেকে বিরত রয়েছেন। এমনকি জমি কেনাবেচাও বন্ধ রয়েছে। এতে ওই এলাকা ভুক্তভোগী কৃষকরা কোটি কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ নিয়ে স্থানীয় কৃষক, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি সহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ পূর্ব নির্ধারিত স্থানে বাফার গোডাউন নির্মাণের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। একইসঙ্গে মানববন্ধন করাসহ প্রধানমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী, শিল্প সচিব, বিসিআইসি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি পেশ করেন। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল বাফার গোডাউন নির্মাণে দুই দফা ডিও লেটার প্রদান করেছেন। এরপরেও বাফার গোডাউন নির্মাণের প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ফাইলবন্দি হয়ে আছে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল মজিদ, আলী সরদার ও আহমেদ সরদার জানান, ৪ ধারা নোটিশ দেয়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে এসব জমির চারিধারে লাল নিশানা দিয়ে চিহ্নিত করা হয় এবং জমিতে চাষাবাদ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। পরবর্তীতে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ে। এতে তারা ওই জমিতে ফসল ফলাতে পারছেন না, এমনকি জমিও বিক্রি করতে পারছেন না। তাদের দাবি গত আড়াই বছরে এসব জমিতে চাষাবাদ করতে না পারায় প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। জমি কেনাবেচার সুযোগ থাকলেও সরকারি নির্দেশনা না পাওয়ায় জমি বিক্রি করতে পারছেন না তারা। এছাড়া নির্মাণ করতে পারছেন না কোন স্থাপনা।

নাটোর জেলা জমি হুকুম দখল অফিস সূত্রে জানা যায়, নলডাঙ্গা এলাকায় বাফার গোডাউন নির্মাণে জমি অধিগ্রহণের জন্য জমির মালিকদের ৪ ধারা নোটিশ দেওয়া হয়। এছাড়া জমির মূল্য পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রায় ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় ।

নলডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মনিরুজ্জামান বলেন, নলডাঙ্গা উপজেলায় কোন ভারী শিল্পকারখানা নেই। এখানে বাফার গোডাউন নির্মাণ করা হলে এলাকাবাসীর একটি স্বপ্ন পূরণ হবে এবং কর্মসংস্থানের পথ সুগম হবে। পাশাপাশি হালতিবিল, চলনবিলসহ রাজশাহীর বাগমারা, পুঠিয়া, নওগাঁর আত্রাই, রানীনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় সঠিক ও সুবিধামতো সময়ে সার সরবরাহের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে একদিকে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, অপরদিকে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন।
নাটোর জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ জানান, বিষয়টি নিয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনা চলছে। শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে খুব শীঘ্রই এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিবেন আশা করছি। সেখান থেকে নির্দেশনা পেলে বাফার গুদাম নির্মাণ নিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হবে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান শাহ মোঃ এমদাদুল হক জানান, খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বরত সচিব জাকিয়া সুলতানা জানান, নলডাঙ্গায় বাফার গুদাম নির্মাণ প্রক্রিয়া চলমান আছে। এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। বিষয়টি বিবেচনায় আছে।

নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল জানান, নলডাঙ্গা উপজেলায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের শর্তের তিনটি সড়ক, নৌ ও রেলপথ বিদ্যমান রয়েছে। তিনি বাফার গুদাম নির্মাণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তিনি আশাবাদী পূর্বনির্ধারিত স্থানেই বাফার গুদাম নির্মাণ করা হবে। এ ব্যাপারে সচেষ্ট মন্ত্রণালয়ে তার পক্ষ থেকে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

স্বামী-শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নির্যাতন, প্রতারণা ও হত্যার হুমকির অভিযোগে যশোরে সংবাদ সম্মেলন

নলডাঙ্গায় বাফার গুদাম নির্মাণে টালবাহানা, ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা

প্রকাশিত : ০৫:১৩:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২১

তিনটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় ২০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন বিসিআইসির সারের গুদাম নির্মাণে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের জন্য জমির মালিকদের ৪ ধারার নোটিশ দিয়েছিলেন জেলা প্রশাসন। কিন্তু গত চার বছর অতিবাহিত হলেও বাফার গুদাম নির্মাণে কোন অগ্রগতি দেখা মিলছে না।

এতে একদিকে জমির মালিকরা যেমন জমি বিক্রি করতে পারছেন না। অপরদিকে তারা জমিতে কোন প্রকার ফসল ফলাতে পারছেন না। এমনকি তারা কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে পারছেন না। ফলে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন জমির মালিকরা। তাই তারা পূর্বনির্ধারিত স্থানেই বাফার গোডাউন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, নলডাঙ্গা উপজেলায একটি অনুন্নত এবং অপেক্ষাকৃত দরিদ্র এলাকা হিসেবে পরিচিত। এছাড়া হালতিবিল ও চলনবিল বিধৌত হওয়ায় উপজেলাটি উত্তরাঞ্চলের শস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত। তবে কৃষিনির্ভর এলাকার কৃষকরা সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এরপরেও এখানকার উৎপাদিত বিভিন্ন সবজি ও ফসল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এই এলাকায় সার সংরক্ষণের কোন গুদাম না থাকায় বোরো মৌসুমের সারের জন্য কৃষকদের অনেক বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। এছাড়া সময় ও সুবিধা মতো সার না পাওয়ার কারণে কৃষকদের ফসলের ক্ষতি সাধন হয়। পাশাপাশি এলাকায় কোন শিল্প কারখানা কিংবা কর্মসংস্থানের কোন ব্যবস্থা নেই। অথচ এই উপজেলায় কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথ সুবিধা থাকায় জেলার সাতটি উপজেলাসহ দেশের অন্যান্য জেলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ ও সুবিধাজনক। এছাড়া অন্যান্য উপজেলার তুলনায় এই এলাকাটি উঁচু ও সমতল হওয়ায় বর্ষা কালীন সময়ে বন্যামুক্ত থাকে। এসব বিবেচনায় ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে নাটোর জেলায় ২০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি বাফার গোডাউন নির্মাণের লক্ষ্যে সড়ক, রেল ও নৌপথ যোগাযোগ সুবিধা সম্বলিত ৫ দশমিক ৯৬ একর জমি নির্বাচন করার জন্য বিসিআইসি থেকে নলডাঙ্গা উপজেলাকে বেছে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে জমি নির্বাচন করতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে চিঠি দেয় বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ। ওই চিঠির প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে বাফার গুদাম নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করে ভূমির স্কেচ ম্যাপ ও জমির দাগ নম্বর সহ একটি প্রতিবেদন বিসিআইসিতে দাখিল করেন।

পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের নির্দেশে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ভূমির মালিকদের ৪ (চার) ধারা নোটিশ প্রদান করা হয়। এরপরে ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল বাফার গোডাউন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু গত চার বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও বাফার গোডাউন নির্মাণের কোন অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি, বিসিআইসি কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও একটি স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তের কারণে বাফার গোডাউন নির্মাণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সহ ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলমান থাকার কারনে ৪৫ জন কৃষক তাদের জমিতে চাষাবাদ করা থেকে বিরত রয়েছেন। এমনকি জমি কেনাবেচাও বন্ধ রয়েছে। এতে ওই এলাকা ভুক্তভোগী কৃষকরা কোটি কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ নিয়ে স্থানীয় কৃষক, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি সহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ পূর্ব নির্ধারিত স্থানে বাফার গোডাউন নির্মাণের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। একইসঙ্গে মানববন্ধন করাসহ প্রধানমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী, শিল্প সচিব, বিসিআইসি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি পেশ করেন। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল বাফার গোডাউন নির্মাণে দুই দফা ডিও লেটার প্রদান করেছেন। এরপরেও বাফার গোডাউন নির্মাণের প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ফাইলবন্দি হয়ে আছে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল মজিদ, আলী সরদার ও আহমেদ সরদার জানান, ৪ ধারা নোটিশ দেয়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে এসব জমির চারিধারে লাল নিশানা দিয়ে চিহ্নিত করা হয় এবং জমিতে চাষাবাদ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। পরবর্তীতে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ে। এতে তারা ওই জমিতে ফসল ফলাতে পারছেন না, এমনকি জমিও বিক্রি করতে পারছেন না। তাদের দাবি গত আড়াই বছরে এসব জমিতে চাষাবাদ করতে না পারায় প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। জমি কেনাবেচার সুযোগ থাকলেও সরকারি নির্দেশনা না পাওয়ায় জমি বিক্রি করতে পারছেন না তারা। এছাড়া নির্মাণ করতে পারছেন না কোন স্থাপনা।

নাটোর জেলা জমি হুকুম দখল অফিস সূত্রে জানা যায়, নলডাঙ্গা এলাকায় বাফার গোডাউন নির্মাণে জমি অধিগ্রহণের জন্য জমির মালিকদের ৪ ধারা নোটিশ দেওয়া হয়। এছাড়া জমির মূল্য পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রায় ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় ।

নলডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মনিরুজ্জামান বলেন, নলডাঙ্গা উপজেলায় কোন ভারী শিল্পকারখানা নেই। এখানে বাফার গোডাউন নির্মাণ করা হলে এলাকাবাসীর একটি স্বপ্ন পূরণ হবে এবং কর্মসংস্থানের পথ সুগম হবে। পাশাপাশি হালতিবিল, চলনবিলসহ রাজশাহীর বাগমারা, পুঠিয়া, নওগাঁর আত্রাই, রানীনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় সঠিক ও সুবিধামতো সময়ে সার সরবরাহের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে একদিকে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, অপরদিকে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন।
নাটোর জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ জানান, বিষয়টি নিয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনা চলছে। শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে খুব শীঘ্রই এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিবেন আশা করছি। সেখান থেকে নির্দেশনা পেলে বাফার গুদাম নির্মাণ নিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হবে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান শাহ মোঃ এমদাদুল হক জানান, খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বরত সচিব জাকিয়া সুলতানা জানান, নলডাঙ্গায় বাফার গুদাম নির্মাণ প্রক্রিয়া চলমান আছে। এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। বিষয়টি বিবেচনায় আছে।

নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল জানান, নলডাঙ্গা উপজেলায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের শর্তের তিনটি সড়ক, নৌ ও রেলপথ বিদ্যমান রয়েছে। তিনি বাফার গুদাম নির্মাণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তিনি আশাবাদী পূর্বনির্ধারিত স্থানেই বাফার গুদাম নির্মাণ করা হবে। এ ব্যাপারে সচেষ্ট মন্ত্রণালয়ে তার পক্ষ থেকে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর