০২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

সাবমেরিন কেবলে মনপুরায় বিদ্যুৎ, নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি মহাপরিকল্পনা

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বড় ধরনের উন্নয়ন উদ্যোগ। সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে আন্তর্জাতিক মানের টেন্ডার আহ্বান করেছে পশ্চিম অঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (WZPDCL)। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে এটি হতে পারে যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

বিদ্যুত জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিভিউশন কোম্পানী লিমিটেড “মনপুরা দ্বীপে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ (MIUEPDS)” প্রকল্পের আওতায় এ দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন সার্বিক পৃস্টপোষকতা করেছেন।

প্রকাশিত টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, টার্নকি ভিত্তিতে ৩৩ কেভি সাবমেরিন কেবলের নকশা, সরবরাহ, স্থাপন, পরীক্ষণ ও কমিশনিংসহ সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৪টি রানসহ মোট ২৮ কিলোমিটার ১সি ৩০০ বর্গমিলিমিটার সাবমেরিন কেবল স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে অত্যাধুনিক ল্যান্ডিং স্টেশন।

দরপত্রটি “ওয়ান স্টেজ টু এনভেলপ টেন্ডারিং মেথড (OSTETM)” পদ্ধতিতে আহ্বান করা হয়েছে এবং প্রকল্পের অর্থায়ন করা হবে WZPDCL-এর নিজস্ব তহবিল থেকে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগ্রহী ঠিকাদারদের গত ১০ বছরের মধ্যে কমপক্ষে দুটি অনুরূপ প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ৩৩ কেভি বা তার অধিক ক্ষমতার সাবমেরিন কেবল স্থাপন, পরীক্ষণ ও চালুকরণের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে বাংলাদেশের অনুরূপ ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলে বিদেশে অন্তত একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অগ্রাধিকার পাবে।

এ ছাড়া, সাবমেরিন কেবল স্থাপনে ব্যবহৃত জাহাজের মডেল, ধরন ও সক্ষমতার প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে। আগামী ২৫ জুন ২০২৬ দরপত্র জমা দেওয়া যাবে এবং একই দিন বিকেল দরপত্র খোলা হবে। দরপত্রের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মনপুরায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা হবে। দীর্ঘদিন ডিজেলনির্ভর ও সীমিত বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে থেকে যাওয়া দ্বীপবাসী নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সেবার আওতায় আসবে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মনপুরার মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ক্ষুদ্র শিল্প ও পর্যটন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

সাবমেরিন কেবলে মনপুরা দ্বীপে বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনায় অগ্রনায়ক ভোলা -৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন।তিনি নির্বাচনীকালে জনগনকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সাবমেরিন কেবলে বিদ্যুত চালু হলে মনপুরার প্রায় ৯০ হাজার সুবিধাভোগি এই সেবার আওতায় আসবে।

ডিএস,./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

স্বামী-শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নির্যাতন, প্রতারণা ও হত্যার হুমকির অভিযোগে যশোরে সংবাদ সম্মেলন

সাবমেরিন কেবলে মনপুরায় বিদ্যুৎ, নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি মহাপরিকল্পনা

প্রকাশিত : ০১:৩০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বড় ধরনের উন্নয়ন উদ্যোগ। সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে আন্তর্জাতিক মানের টেন্ডার আহ্বান করেছে পশ্চিম অঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (WZPDCL)। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে এটি হতে পারে যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

বিদ্যুত জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিভিউশন কোম্পানী লিমিটেড “মনপুরা দ্বীপে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ (MIUEPDS)” প্রকল্পের আওতায় এ দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন সার্বিক পৃস্টপোষকতা করেছেন।

প্রকাশিত টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, টার্নকি ভিত্তিতে ৩৩ কেভি সাবমেরিন কেবলের নকশা, সরবরাহ, স্থাপন, পরীক্ষণ ও কমিশনিংসহ সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৪টি রানসহ মোট ২৮ কিলোমিটার ১সি ৩০০ বর্গমিলিমিটার সাবমেরিন কেবল স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে অত্যাধুনিক ল্যান্ডিং স্টেশন।

দরপত্রটি “ওয়ান স্টেজ টু এনভেলপ টেন্ডারিং মেথড (OSTETM)” পদ্ধতিতে আহ্বান করা হয়েছে এবং প্রকল্পের অর্থায়ন করা হবে WZPDCL-এর নিজস্ব তহবিল থেকে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগ্রহী ঠিকাদারদের গত ১০ বছরের মধ্যে কমপক্ষে দুটি অনুরূপ প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ৩৩ কেভি বা তার অধিক ক্ষমতার সাবমেরিন কেবল স্থাপন, পরীক্ষণ ও চালুকরণের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে বাংলাদেশের অনুরূপ ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলে বিদেশে অন্তত একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অগ্রাধিকার পাবে।

এ ছাড়া, সাবমেরিন কেবল স্থাপনে ব্যবহৃত জাহাজের মডেল, ধরন ও সক্ষমতার প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে। আগামী ২৫ জুন ২০২৬ দরপত্র জমা দেওয়া যাবে এবং একই দিন বিকেল দরপত্র খোলা হবে। দরপত্রের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মনপুরায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা হবে। দীর্ঘদিন ডিজেলনির্ভর ও সীমিত বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে থেকে যাওয়া দ্বীপবাসী নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সেবার আওতায় আসবে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মনপুরার মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ক্ষুদ্র শিল্প ও পর্যটন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

সাবমেরিন কেবলে মনপুরা দ্বীপে বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনায় অগ্রনায়ক ভোলা -৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন।তিনি নির্বাচনীকালে জনগনকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সাবমেরিন কেবলে বিদ্যুত চালু হলে মনপুরার প্রায় ৯০ হাজার সুবিধাভোগি এই সেবার আওতায় আসবে।

ডিএস,./