১০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ইবি শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

বহিরাগতদের আক্রমণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পাঁচজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি রয়েছেন।

মঙ্গলবার (০৭ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী আনন্দ নগর গ্রামের বড় মসজিদের সামনের একটি মেসে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এ ঘটনায় আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের কামাল উদ্দীন গুরুতর জখম অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে চিকিৎসারত। এছাড়া হামলায় আহত সমাজ কল্যাণ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম নাইম, রাষ্ট্র্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুলতানসহ আরো বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করে মেডিকেলে অবস্থান করছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমাদের মেসের পাশ্ববর্তী বাড়ির মালিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ জাহিদুল ইসলাম এসে বলেন, ‘তোমরা বেশি জোরে কথা বলো, তোমাদের আওয়াজে আমার রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেছে।’ পরে আমরা ওনাকে বলি যে না আমরা তেমন চেচামেচি করিনি তবুও আপনি যেহেতু বলছেন আমরা সতর্ক থাকবো। পরে রাত ৯টার দিকে হঠাৎ করে ওই কর্মকর্তা স্থানীয় ২৫/৩০জন সন্ত্রাসী নিয়ে মেসের মধ্যে ঢুকে আমাদের ওপর অতর্কিতভাবে আক্রমণ করে। আমরা এঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চাই।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কামাল উদ্দীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-কোরআন বিভাগের সহকারী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম স্থানীয় লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর যে হামলা করে গুরুতর জখম করেছে আমি বিশ্বিবদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই এবং ক্যাম্পাসের পাশ্ববর্তী মেসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দাবি জানাই।

এ ব্যাপারে আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ অসত্য, আমি তাদের কেনো মারবো? যারা অভিযোগ করেছে অহেতুক আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে ইবি ও শৈলকূপা থানায় কথা বলেছি। কেন এই ঝামেলা গুলো ঘটছে তা নিয়ে কাল আমরা বসবো এলাকার লোকজনের সাথে।

এদিকে, এ ঘটনা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তার স্থায়ী বহিষ্কার ও আশেপাশে অবস্থিত নিরাপত্তা নিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বেশ কিছু দাবি নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও উপাচার্যের বাসভবনে সামনে গভীর রাতে পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অবস্থান করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন, সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম উপাচার্যের বাসভবন সামনে এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন। একই সাথে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সাথে এঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনায় বসার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ময়মনসিংহে ৩ দিনব্যাপী কৃষি মেলা শুরু

ইবি শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

প্রকাশিত : ০৫:৩০:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২১

বহিরাগতদের আক্রমণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পাঁচজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি রয়েছেন।

মঙ্গলবার (০৭ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী আনন্দ নগর গ্রামের বড় মসজিদের সামনের একটি মেসে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এ ঘটনায় আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের কামাল উদ্দীন গুরুতর জখম অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে চিকিৎসারত। এছাড়া হামলায় আহত সমাজ কল্যাণ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম নাইম, রাষ্ট্র্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুলতানসহ আরো বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করে মেডিকেলে অবস্থান করছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমাদের মেসের পাশ্ববর্তী বাড়ির মালিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ জাহিদুল ইসলাম এসে বলেন, ‘তোমরা বেশি জোরে কথা বলো, তোমাদের আওয়াজে আমার রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেছে।’ পরে আমরা ওনাকে বলি যে না আমরা তেমন চেচামেচি করিনি তবুও আপনি যেহেতু বলছেন আমরা সতর্ক থাকবো। পরে রাত ৯টার দিকে হঠাৎ করে ওই কর্মকর্তা স্থানীয় ২৫/৩০জন সন্ত্রাসী নিয়ে মেসের মধ্যে ঢুকে আমাদের ওপর অতর্কিতভাবে আক্রমণ করে। আমরা এঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চাই।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কামাল উদ্দীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-কোরআন বিভাগের সহকারী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম স্থানীয় লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর যে হামলা করে গুরুতর জখম করেছে আমি বিশ্বিবদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই এবং ক্যাম্পাসের পাশ্ববর্তী মেসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দাবি জানাই।

এ ব্যাপারে আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ অসত্য, আমি তাদের কেনো মারবো? যারা অভিযোগ করেছে অহেতুক আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে ইবি ও শৈলকূপা থানায় কথা বলেছি। কেন এই ঝামেলা গুলো ঘটছে তা নিয়ে কাল আমরা বসবো এলাকার লোকজনের সাথে।

এদিকে, এ ঘটনা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তার স্থায়ী বহিষ্কার ও আশেপাশে অবস্থিত নিরাপত্তা নিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বেশ কিছু দাবি নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও উপাচার্যের বাসভবনে সামনে গভীর রাতে পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অবস্থান করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন, সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম উপাচার্যের বাসভবন সামনে এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন। একই সাথে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সাথে এঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনায় বসার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর