গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার বনখড়িয়া এলাকার বহুল আলোচিত “শরীফুল ইসলাম” হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন,আসামী গ্রেফতার করলো পিবিআই গাজীপুর।মামলার ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আসামী মোঃ শফিকুল ইসলাম জামাই শফিকুল (২৫)পিতা আঃ রশিদ, জেলা গাজীপুর ইং ১৭ ডিসেম্বর ২১ ইং তারিখ রাতে বনখড়িয়া অপর আসামী আফ্রিদি (১৯),
পিতা,মোঃ আমজাদ হোসেন গাজীপুরকে একই রাতে বনখড়িয়া এলাকা থেকে মোঃ রাকিব হোসেন (২২), পিতা মোঃ নিয়ত আলী,জেলা-গাজীপুর,মোঃ রাজিব শেখ (২২) পিতা মোঃ হাসান,মোঃ জুয়েল রানা (২৭), পিতা শফিকুল ইসলাম,গাজীপুরদের কে ১৬ ডিসেম্বর ২১ ইং তারিখে রাত ০১ ঘটিকার সময় ভাওয়াল মিজার্পুর এলাকা থেকে অপর আসামী মোঃ হানিফ (২৭), পিতা-মৃহ শাহাজ গাজীপুর’কে ১৭ ডিসেম্বর রাতে বনখড়িয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অত্র মামলার বাদী মোঃ সেকান্দার, পিতা-মৃত নায়েব আলী সাং-বনখড়িয়া, থানা-শ্রীপুর, জেলা-গাজীপুর এর ছোট ভাই শরিফুল ইসলাম (২০) ভাড়ায় অটোরিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। প্রতিদিনের ন্যায় বাদীর ছোট ভাই মোঃ শরিফুল ইসলাম গত ইং ০৯ ডিসেম্বর ২১ ইং সকাল অনুমান ১০ ঘটিকার সময় বাসা হতে অটোরিক্সা নিয়ে ভাড়ায় চালানোর উদ্দেশ্যে বের হয়। ঐ দিন ০৯ ডিসেম্বর ২১ বিকাল অনুমান ০৫ ঘটিকার সময় জনৈক মোঃ রোমান হোসেন ভিকটিমের ভাড়ায় চালিত অটোরিক্সাটি রাস্তার পাশে দেখতে পেয়ে অটোরিক্সার পিছনে লেখা মোবাইল নম্বর এর মালিক মোঃ মোশারফ হোসেন (৪০), পিতা-মৃত আব্দুল মজিদ সাং-ভাওয়াল গাজীপুর, থানা-সদর, জিএমপি গাজীপুরকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানায় যে, শ্রীপুর থানাধীন বনখড়িয়া সাকিনস্থ বনখড়িয়া বাজার হতে রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টমেন্ট বিপসট গেইট(চেকপোষ্ট-১) গামী রাস্তার মাঝামাঝি জায়গায় রাস্তার বাম পাশে তার মালিকানাধীন অটোরিক্সাটি পড়ে আছে। অটোর মালিক মোঃ মোশারফ হোসেন বাদীকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি অবগত করলে বাদীসহ তার পরিবারের লোকজন বর্ণিত ঠিকানায় পৌঁছে অটোরিক্সাটি দেখতে পান। বাদী লোকজন নিয়ে তার ছোট ভাইকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ১০ ডিসেম্বর ২১ ইং তারিখ সকাল অনুমান ০৮ ঘটিকার সময় বনখড়িয়া বাজার হতে রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টমেন্ট বিপসট গেইট (চেকপোষ্ট-১) গামী রাস্তার মাঝামাঝি জায়গা হতে রাস্তার ডান দিকে অনুমান ৫০০ গজ ভেতরে সরকারি গজারি বনের ভেতরে বাদীর ছোট ভাই শরিফুল ইসলাম এর মৃত দেহ গলা কাটা অবস্থায় দেখতে পায়। এ সংক্রান্তে ভিকটিম এর বড় ভাই মোঃ সেকান্দার ঐদিনে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করে শ্রীপুর থানার মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি রুজু হওয়ার পর উক্ত মামলাটি পিবিআই এর সিডিউলভুক্ত হওয়া পিবিআই হেডকোয়ার্টার্স ঢাকার নির্দেশক্রমে পিবিআই গাজীপুর জেলা কর্তৃক তদন্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হলে মামলাটি অধিগ্রহন করা হয়।
ডিআইজি পিবিআই বনজ কুমার মজুমদার. বিপিএম (বার), পিপিএম এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই গাজীপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার, মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এর সার্বিক সহযোগীতায় মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান মামলাটি তদন্ত করেন।
আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, মামলার ভিকটিম শরিফুল ঘটনার ১০/১২ দিন আগে জনৈক কারিমা (১৮), পিতা-মঞ্জুরুল ইসলাম, সাং-ভাওয়াল মির্জাপুর, থানা-জয়দেবপুর, জেলা-গাজীপুর নামের মেয়ের সাথে কারিমার পরিবারের মতামত ছাড়াই গোপনে বিবাহ করে। ঘটনার পরের দিন কারিমাকে পারিবারিক ভাবে অনুষ্ঠান করে ভিকটিমদের বাড়িতে নেওয়ার কথা ছিল। কারিমার বড় ভাই খোরশেদ আলম এর শ্যালক রাজিব শেখ (২২), পিতা- মোঃ হাসান, সাং-দর্জিপাড়া, থানা-ইসলামপুর জেলা-জামালপুর, এ/পি-ভাওয়াল মির্জাপুর ইব্রাহিমের বাড়ির ভাড়াটিয়া, থানা-জয়দেবপুর জেলা-গাজীপুর পছন্দ করত এবং কারিমার বড় দুই বোনের স্বামী রাকিব হোসেন ও জুয়েল রানাসহ পরিবারের সদস্যরা বিয়েতে রাজী না থাকায় তারা ভিকটিমের ঘনিষ্ট বন্ধু আছমত ও তারেকের সাথে যোগাযোগ করে ভিকটিমকে হত্যার জন্য ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) প্রদান করবে মর্মে চুক্তি করে। পরবর্তীতে ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামী আছমত ও তারেক তার সহযোগী অন্যান্য আসামীদের নিয়ে ভিকটিমের বিবাহের আনুষ্ঠানিকতার পূর্বের দিন ভিকটিমকে নিয়ে সিগারেট খাওয়ার কথা বলে অত্র মামলার ঘটনাস্থল গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন প্রহলাদপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত বনখড়িয়া সাকিনস্থ বনখড়িয়া বাজার টু রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট বিপসট গেইট (চেকপোষ্ট-১) গামী রাস্তার মাঝামাঝি জায়গা হতে হাতের ডানদিকে আনুমানিক ৫০০ গজ ভিতরে জনৈক এএসএম আঃ রাজ্জাক এর জমির পশ্চিম পাশের্বর সরকারি গজারী বনের ভিতর নিয়ে ভিকটিমসহ সকলে সিগারেট ও গাজা সেবন করে এক পর্যায়ে আসামীরা ভিকটিমকে চেপে ধরে মাটিতে শুইয়ায়ে ফেলে গলায় ধঁাড়ালে ছুড়ি দিয়ে প্রথমে গলায় পার মারে পরে জবাই করে হত্যা নিশ্চিত করে।
এ বিষয়ে পিবিআই এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা কান্ড।
গ্রেফতারকৃত আসামী আফ্রিদি, মোঃ শফিকুল ইসলাম জামাই শফিকুল ইং ১৭ ডিসেম্বর ২১ ইং তারিখে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে উক্ত আসামীদ্বয় নিজেদেরকে জড়িয়ে এবং মামলার ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামীদের নাম উল্লেখ করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ


























