জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স (এফএমবি) বিভাগের একমাত্র গবেষণার কাজে ব্যবহারিত ব্রুড পনড (মা মাছের প্রজননের জন্য ব্যবহারিত পুকুর বা জলাধার)।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি আবাসিক হলের ময়লা পানি সহ খাবারের উচ্ছিষ্ট ও মসজিদের ব্যবহারিত পানি সরাসরি ফেলা হচ্ছে পুকুরটিতে। এতে করে নষ্ট হচ্ছে পুকুরের পানির গুনুগত মান, ব্যাহত হচ্ছে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন।
মূলত পুকুরটির অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি আবাসিক হল ও কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন হওয়ায় এবং ভবনগুলোর পানি নিস্কাশনের জন্য আলাদা কোন ব্যবস্থা না থাকার জন্য সরাসরি পুকুরে ফেলা হচ্ছে আবাসিক হলের দূষিত পানি ও ময়লা আবর্জনা। এতে করে নষ্ট হচ্ছে পুকুরের পানির গুনগতমান, ব্যাহত হচ্ছে মাছের প্রজনন ও স্বাভাবিক বৃদ্ধি। পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুকুরে জন্মাচ্ছে শ্যাওলা যা মাছের প্রাকৃতিক খাবার তৈরিতে বাঁধা সৃষ্টি করছে। পুকুরটি খনন, সংস্কার ও পাড় বেধে করে ছোট ছোট ব্রুড পনড করার কথা থাকলেও করোনাকালীন সময়ে সেটা করা সম্ভব হয়নি । পুকুরের অবস্থা খারাপ হওয়ায় ইতিমধ্যে পুকুরটি থেকে বেশকিছু পরিমাণ মা মাছকে অন্য গবেষণা পুকুরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, পুকুরটিকে এখন আর গবেষণা কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না। মূলত আমরা এটিকে মা মাছের মজুদ পুকুর হিসেবে ব্যবহার করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকার কারণে হলের পানি ও ময়লা আবর্জনাগুলো পুকুরে ফেলা হচ্ছে । এতে করে পানির গুনগতমান নষ্ট হচ্ছে। ফলে মাছ চাষ ও গবেষণার জন্য প্রকৃত অর্থে এই পুকুরটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা পুকুরটি খনন ও উঁচু করে পাড় বেঁধে একাধিক ছোট ছোট গবেষণা পুকুর করার পরিকল্পনা করেছিলাম। তবে করোনাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে সেটা করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন আমরা আশা করছি দ্রুত এটির সংস্কার কার্য শুরু করে আগামী মৌসুম থেকে গবেষণার জন্য পুকুরটি ব্যবহার করার। আমরা ইতিমধ্যে বেশকিছু পরিমাণ মা মাছকে নতুন গবেষণা পুকুরে স্থানান্তর করেছি। মা মাছের প্রজননের জন্য বড় ও আলাদা ধরনের জলাধার প্রয়োজন হয়। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গার সংকট ও আমাদের লোকবলের অভাবে আমরা পরিপূর্ণভাবে কাজগুলো চালিয়ে যেতে পারছিনা। এই বিষয়ে আমরা উপাচার্য মহোদয়কে জানিয়েছি এবং তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা বর্ধিত করা হলে আমাদের জন্য আলাদা গবেষণা পুকুরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর


























