০৪:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

আর্ন্তজাতিক বানিজ্য মেলায় দোকান বরাদ্দে দালাল দৌড়াত্বের অভিযোগ

করোনার ধাক্কা সামলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপ-শহরের পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে বসেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বানিজ্যমেলার ২৬ তম আসর। ১ লা জানুয়ারি শনিবার সকালে বানিজ্যমেলার উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেলা উদ্বোধন হয়ে গেলেও কয়েকটি স্টল বাদে বেশিরভাগ স্টলের কাজই এখনো সম্পন্ন হয়নি। বানিজ্য মেলার দোকান বরাদ্দে দালাল দৌড়াত্বের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে এ শ্রেণীর দালালরা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ইপিবি থেকে নির্ধারিত মূল্যে দোকান বরাদ্দ নিয়ে তিনগুন মূল্যে বিদেশী ব্যবসায়ী ও দেশী ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। এছাড়া পূর্বাচলের আশেপাশে দুইকক্ষের ৫ হাজার টাকার ফ্ল্যাটের ভাড়ার নেওয়া হচ্ছে ৫০-৬০ হাজার টাকা। যা কিনা রাজধানীর গুলশান, বনানী ও উত্তরাসহ বিভিন্ন আভিজাত এলাকা থেকেও অনেক বেশি। এতো টাকা ভাড়া নেওয়ার পরও ফ্ল্যাটের পরিবেশ খুব একটা ভাল না।

ইবিপি কর্তৃপক্ষ জানায়, এবারের বানিজ্য মেলায় মোট ২২৫ টি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্কয়ার ফুট হিসেবে একেক দোকানের মূল্য একেক রকম ধরা হয়েছে। তবে বানিজ্যমেলার ভেতরের ২০ স্কয়ার ফুট দোকান গুলো ৩ লাখ টাকার কাছাকাছি বা তার একটু বেশি দামে ১ মাসের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর ১০ স্কয়ার ফুটের দোকান গুলো বরাদ্দ হয়েছে দেড় থেকে দুই লাখ টাকায়। এবারের বানিজ্য মেলায় আধুনিক সুযোগ সুবিধাসহ শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত এক্সিবিশন সেন্টারের নিজস্ব জায়গায় (প্রায় ১,৫৫,০০০ বর্গফুট) আয়তনের ২টি হলে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন ক্যাটাগরীর মোট ২৩টি প্যাভিলিয়ন, ২৭টি মিনি প্যাভিলিয়ন, ১৬২টি স্টল, ১৫টি ফুট স্টল দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এবছর দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, টার্কি, ভারত, থাইল্যান্ড, তুরস্কসহ ১১টি বিদেশী প্রতিষ্ঠানের স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মেলায় আসা দর্শনার্থীদের সুবিধার লক্ষ্যে কুড়িল বিশ^ রোড থেকে মেলা প্রাঙ্গনে আসার জন্য বিআরটিসির ৩০টি বাস বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যার ভাড়া ধরা হয়েছে ৩০ টাকা। মেলায় প্রবেশ ফি ৪০ টাকা শিশু বাচ্চাদের জন্য ধরা হয়েছে ২০ টাকা। শারিরিক প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রবেশ ফ্রি করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ১৬০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, একটি দালাল চক্র ইপিবির কাছে নির্ধারিত মূল্যে দোকান বরাদ্দ নিয়ে দ্বিগুন মূল্যে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। যারা দোকান পাননি তারা নিরুপায় হয়েছে অধিক মূল্যে দালালদের কাছ থেকে দোকান কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। দালাল চক্রটি ১০ স্কয়ার ফুটের দোকান বিক্রি করছে ৫-৬ লাখ টাকায়। ইপিবি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দালাল চক্ররা দোকান বরাদ্দ নিয়ে অধিক মূল্যে দোকান বিক্রি করছেন।

ব্যবসায়ীরা আরো অভিযোগ করে বলেন, মাহবুবুর রহমান ও তার সহযোগী আওলাদ নামে দুজন ব্যবসায়ীদের কাছে অধিক মূল্যে দোকান বিক্রি করছেন। তারা দুজন ইপিবি নির্ধারিত মূল্যে দোকান বরাদ্দ নিয়ে অধিক মূল্যে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন।

ভারতের কাশ্মীর থেকে আসা আদিল নামে এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, তিনি গত ১১ বছর ধরে বানিজ্য মেলায় এসে ব্যবসা করছেন। তবে এবার পূর্বাচলে ঢাকা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার আসর বসায় তারা কিছুটা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। এবারের আসরে তারা কাশ্মীর থেকে ২’শ জন লোক এসেছেন। তবে তিনি সরাসরি ইপিবির কাছ থেকে ১০ স্কয়ার ফুটের দুইটি দোকান বরাদ্দ নিয়েছেন। প্রতিটির মূল্য পড়েছে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে সাথের অনেক ব্যবসয়ীরাই দোকান বরাদ্দ না পেয়ে বাধ্য হয়ে অধিক মূল্যে দালালদের কাছ থেকে দোকান কিনেছে। যার মূল্য পড়েছে ৫-৬ লাখ টাকা। পূর্বাচলে দুই কক্ষের একটি ফ্ল্যাটের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৫০-৬০ হাজার টাকা। যা রীতিমত অন্যায়। রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলোতে দুইকক্ষের ফ্ল্যাট ভাড়া এতো বেশি না। অধিক ভাড়া নেওয়ার ব্যাপারে ইপিবি কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

রাজেন্দর নামে আরেক কাশ্মীরী ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, পূর্বাচলের রাস্তা গুলোতে কোন সড়ক বাতি না থাকায় রাতে এক প্রকার ভয়ঙ্কর পরিবেশ বিরাজ করে। এ কারণে আমরা রাস্তাঘাটে বের হতেও ভয় পাচ্ছি। আমাদের সঙ্গে টাকা পয়সা থাকে ছিনতাইকারী যদি নিয়ে যায় তাহলে আমাদের কে দেখবে। আমরা তো এখানে তেমন কাউকে চিনিও না। পূর্বাচলে বাড়ি ভাড়া ১০ গুন বেশি নেওয়ায় কষ্ট করে তাদের এক ফ্ল্যাটে ২০-২৫ জন করে থাকতে হচ্ছে। এদিকে স্টল নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়াার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বানিজ্য মেলা কর্তৃপক্ষ কার্যক্রম শুরু করতে দেরি করায় তারা স্টল নির্মাণ দেরী হচ্ছে। স্টল নির্মাণ শেষ হতে আরো ৪-৫ দিন সময় লাগতে পারে। এই ৪-৫ দিন তো আমাদের লোকসান গুনতে হবে। একদিকে দালালদের কারণে অধিক মূল্যে কিনতে হচ্ছে অপরদিকে ৪-৫ দিনের আগে দোকানের নির্মাণ কাজ শেষ হবে না। দোকান নির্মাণ কাজ শেষ না হলে মেলাও তেমন জমবে না।

ব্যবসায়ীদের কাছে অধিকমূল্যে স্টল বিক্রির ব্যাপারে অভিযোগ পেয়ে অভিযোগ যাচাই করতে প্রতিবেদক স্টল ক্রেতা সেজে মাহবুব ও তার সহযোগী আওলাদের কাছে গিয়ে স্টল ক্রয় করার ব্যাপারে কথা বলেন। এসময় তিনি ১০ স্কয়ার ফুট দোকানের জন্য মূল্য চায় ৬ লাখ টাকা। এর কম হলে তিনি দোকান দিবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এসময় প্রতিবেদক তার পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে তিনি নিজেকে বানিজ্যমেলার পারসিপেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় প্রদান করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কারো কাছে অধিকমূল্যে স্টল বিক্রি করিনি। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে। এসময় প্রতিবেদক তাকে ক্রেতা সেজে তার কাছে স্টল ক্রয় করতে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে উচ্চস্বরে রাগারাগি করতে থাকেন। এসময় তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে ফোনটি কেটে দেন।

এ ব্যাপারে ইপিবির সচিব ও বানিজ্য মেলার পরিচালক ইখতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, প্রতিবছরই মেলা শুরুর দুই তিনদিন পর স্টল নির্মাণ সম্পন্ন হয়। এখানে এবারই প্রথম আন্তর্জাতিক বানিজ্যমেলার আসর বসেছে। বিদেশী ব্যবসায়ীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করে দালালদের কাছ থেকে দোকান কিনবে কেন। এটি সম্পূর্ণ তাদের দোষ। গত একমাস আগে স্টল বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের উচিত ছিল আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দোকান নেওয়া।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এর মহা-পরিচালক-১ মাহবুবুর রহমান বলেন, স্কয়ার ফুট হিসেবে সামনে স্টল ও প্যাভিলিয়ন গুলো একেক দোকানের মূল্য একেক রকম ধরা হয়েছে। তবে বানিজ্যমেলার ভেতরের ২০ স্কয়ার ফুট দোকান গুলো ৩ লাখ টাকার কাছাকাছি বা তার একটু বেশি দামে ১ মাসের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর ১০ স্কয়ার ফুটের দোকান গুলো বরাদ্দ হয়েছে দেড় থেকে দুই লাখ টাকায়। দালাল দৌড়াত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোন অভিযোগ এখনো পাইনি। যেহেতু বিষয়টি এখন আপনার কাছে জানলাম। দালাল দৌড়াত্বের বিষয়টি আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব। আমরা দোকান বরাদ্দ দেওয়ার সময় উৎপাদনকারী ব্যবসায়ী যারা তাদেরকেই যাচাই করেই দোকান বরাদ্দ দিয়েছি। তবে কেউ যদি দোকান বরাদ্দ পেয়ে বিক্রি করে দেয় তাহলে সেটি কনট্রোল করা আমাদের জন্য কষ্ট সাধ্য। পূর্বাচলের আশেপাশে অতিরিক্ত বাড়িভাড়া আদায়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমি শুনেছি। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কৃষকের মেরুদণ্ড শক্তশালী হলে জাতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী হবে: ফারজানা শারমিন পুতুল

আর্ন্তজাতিক বানিজ্য মেলায় দোকান বরাদ্দে দালাল দৌড়াত্বের অভিযোগ

প্রকাশিত : ০৬:৪৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ জানুয়ারী ২০২২

করোনার ধাক্কা সামলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপ-শহরের পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে বসেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বানিজ্যমেলার ২৬ তম আসর। ১ লা জানুয়ারি শনিবার সকালে বানিজ্যমেলার উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেলা উদ্বোধন হয়ে গেলেও কয়েকটি স্টল বাদে বেশিরভাগ স্টলের কাজই এখনো সম্পন্ন হয়নি। বানিজ্য মেলার দোকান বরাদ্দে দালাল দৌড়াত্বের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে এ শ্রেণীর দালালরা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ইপিবি থেকে নির্ধারিত মূল্যে দোকান বরাদ্দ নিয়ে তিনগুন মূল্যে বিদেশী ব্যবসায়ী ও দেশী ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। এছাড়া পূর্বাচলের আশেপাশে দুইকক্ষের ৫ হাজার টাকার ফ্ল্যাটের ভাড়ার নেওয়া হচ্ছে ৫০-৬০ হাজার টাকা। যা কিনা রাজধানীর গুলশান, বনানী ও উত্তরাসহ বিভিন্ন আভিজাত এলাকা থেকেও অনেক বেশি। এতো টাকা ভাড়া নেওয়ার পরও ফ্ল্যাটের পরিবেশ খুব একটা ভাল না।

ইবিপি কর্তৃপক্ষ জানায়, এবারের বানিজ্য মেলায় মোট ২২৫ টি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্কয়ার ফুট হিসেবে একেক দোকানের মূল্য একেক রকম ধরা হয়েছে। তবে বানিজ্যমেলার ভেতরের ২০ স্কয়ার ফুট দোকান গুলো ৩ লাখ টাকার কাছাকাছি বা তার একটু বেশি দামে ১ মাসের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর ১০ স্কয়ার ফুটের দোকান গুলো বরাদ্দ হয়েছে দেড় থেকে দুই লাখ টাকায়। এবারের বানিজ্য মেলায় আধুনিক সুযোগ সুবিধাসহ শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত এক্সিবিশন সেন্টারের নিজস্ব জায়গায় (প্রায় ১,৫৫,০০০ বর্গফুট) আয়তনের ২টি হলে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন ক্যাটাগরীর মোট ২৩টি প্যাভিলিয়ন, ২৭টি মিনি প্যাভিলিয়ন, ১৬২টি স্টল, ১৫টি ফুট স্টল দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এবছর দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, টার্কি, ভারত, থাইল্যান্ড, তুরস্কসহ ১১টি বিদেশী প্রতিষ্ঠানের স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মেলায় আসা দর্শনার্থীদের সুবিধার লক্ষ্যে কুড়িল বিশ^ রোড থেকে মেলা প্রাঙ্গনে আসার জন্য বিআরটিসির ৩০টি বাস বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যার ভাড়া ধরা হয়েছে ৩০ টাকা। মেলায় প্রবেশ ফি ৪০ টাকা শিশু বাচ্চাদের জন্য ধরা হয়েছে ২০ টাকা। শারিরিক প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রবেশ ফ্রি করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ১৬০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, একটি দালাল চক্র ইপিবির কাছে নির্ধারিত মূল্যে দোকান বরাদ্দ নিয়ে দ্বিগুন মূল্যে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। যারা দোকান পাননি তারা নিরুপায় হয়েছে অধিক মূল্যে দালালদের কাছ থেকে দোকান কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। দালাল চক্রটি ১০ স্কয়ার ফুটের দোকান বিক্রি করছে ৫-৬ লাখ টাকায়। ইপিবি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দালাল চক্ররা দোকান বরাদ্দ নিয়ে অধিক মূল্যে দোকান বিক্রি করছেন।

ব্যবসায়ীরা আরো অভিযোগ করে বলেন, মাহবুবুর রহমান ও তার সহযোগী আওলাদ নামে দুজন ব্যবসায়ীদের কাছে অধিক মূল্যে দোকান বিক্রি করছেন। তারা দুজন ইপিবি নির্ধারিত মূল্যে দোকান বরাদ্দ নিয়ে অধিক মূল্যে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন।

ভারতের কাশ্মীর থেকে আসা আদিল নামে এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, তিনি গত ১১ বছর ধরে বানিজ্য মেলায় এসে ব্যবসা করছেন। তবে এবার পূর্বাচলে ঢাকা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার আসর বসায় তারা কিছুটা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। এবারের আসরে তারা কাশ্মীর থেকে ২’শ জন লোক এসেছেন। তবে তিনি সরাসরি ইপিবির কাছ থেকে ১০ স্কয়ার ফুটের দুইটি দোকান বরাদ্দ নিয়েছেন। প্রতিটির মূল্য পড়েছে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে সাথের অনেক ব্যবসয়ীরাই দোকান বরাদ্দ না পেয়ে বাধ্য হয়ে অধিক মূল্যে দালালদের কাছ থেকে দোকান কিনেছে। যার মূল্য পড়েছে ৫-৬ লাখ টাকা। পূর্বাচলে দুই কক্ষের একটি ফ্ল্যাটের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৫০-৬০ হাজার টাকা। যা রীতিমত অন্যায়। রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলোতে দুইকক্ষের ফ্ল্যাট ভাড়া এতো বেশি না। অধিক ভাড়া নেওয়ার ব্যাপারে ইপিবি কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

রাজেন্দর নামে আরেক কাশ্মীরী ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, পূর্বাচলের রাস্তা গুলোতে কোন সড়ক বাতি না থাকায় রাতে এক প্রকার ভয়ঙ্কর পরিবেশ বিরাজ করে। এ কারণে আমরা রাস্তাঘাটে বের হতেও ভয় পাচ্ছি। আমাদের সঙ্গে টাকা পয়সা থাকে ছিনতাইকারী যদি নিয়ে যায় তাহলে আমাদের কে দেখবে। আমরা তো এখানে তেমন কাউকে চিনিও না। পূর্বাচলে বাড়ি ভাড়া ১০ গুন বেশি নেওয়ায় কষ্ট করে তাদের এক ফ্ল্যাটে ২০-২৫ জন করে থাকতে হচ্ছে। এদিকে স্টল নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়াার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বানিজ্য মেলা কর্তৃপক্ষ কার্যক্রম শুরু করতে দেরি করায় তারা স্টল নির্মাণ দেরী হচ্ছে। স্টল নির্মাণ শেষ হতে আরো ৪-৫ দিন সময় লাগতে পারে। এই ৪-৫ দিন তো আমাদের লোকসান গুনতে হবে। একদিকে দালালদের কারণে অধিক মূল্যে কিনতে হচ্ছে অপরদিকে ৪-৫ দিনের আগে দোকানের নির্মাণ কাজ শেষ হবে না। দোকান নির্মাণ কাজ শেষ না হলে মেলাও তেমন জমবে না।

ব্যবসায়ীদের কাছে অধিকমূল্যে স্টল বিক্রির ব্যাপারে অভিযোগ পেয়ে অভিযোগ যাচাই করতে প্রতিবেদক স্টল ক্রেতা সেজে মাহবুব ও তার সহযোগী আওলাদের কাছে গিয়ে স্টল ক্রয় করার ব্যাপারে কথা বলেন। এসময় তিনি ১০ স্কয়ার ফুট দোকানের জন্য মূল্য চায় ৬ লাখ টাকা। এর কম হলে তিনি দোকান দিবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এসময় প্রতিবেদক তার পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে তিনি নিজেকে বানিজ্যমেলার পারসিপেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় প্রদান করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কারো কাছে অধিকমূল্যে স্টল বিক্রি করিনি। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে। এসময় প্রতিবেদক তাকে ক্রেতা সেজে তার কাছে স্টল ক্রয় করতে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে উচ্চস্বরে রাগারাগি করতে থাকেন। এসময় তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে ফোনটি কেটে দেন।

এ ব্যাপারে ইপিবির সচিব ও বানিজ্য মেলার পরিচালক ইখতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, প্রতিবছরই মেলা শুরুর দুই তিনদিন পর স্টল নির্মাণ সম্পন্ন হয়। এখানে এবারই প্রথম আন্তর্জাতিক বানিজ্যমেলার আসর বসেছে। বিদেশী ব্যবসায়ীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করে দালালদের কাছ থেকে দোকান কিনবে কেন। এটি সম্পূর্ণ তাদের দোষ। গত একমাস আগে স্টল বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের উচিত ছিল আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দোকান নেওয়া।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এর মহা-পরিচালক-১ মাহবুবুর রহমান বলেন, স্কয়ার ফুট হিসেবে সামনে স্টল ও প্যাভিলিয়ন গুলো একেক দোকানের মূল্য একেক রকম ধরা হয়েছে। তবে বানিজ্যমেলার ভেতরের ২০ স্কয়ার ফুট দোকান গুলো ৩ লাখ টাকার কাছাকাছি বা তার একটু বেশি দামে ১ মাসের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর ১০ স্কয়ার ফুটের দোকান গুলো বরাদ্দ হয়েছে দেড় থেকে দুই লাখ টাকায়। দালাল দৌড়াত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোন অভিযোগ এখনো পাইনি। যেহেতু বিষয়টি এখন আপনার কাছে জানলাম। দালাল দৌড়াত্বের বিষয়টি আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব। আমরা দোকান বরাদ্দ দেওয়ার সময় উৎপাদনকারী ব্যবসায়ী যারা তাদেরকেই যাচাই করেই দোকান বরাদ্দ দিয়েছি। তবে কেউ যদি দোকান বরাদ্দ পেয়ে বিক্রি করে দেয় তাহলে সেটি কনট্রোল করা আমাদের জন্য কষ্ট সাধ্য। পূর্বাচলের আশেপাশে অতিরিক্ত বাড়িভাড়া আদায়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমি শুনেছি। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ