নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপ-শহরের বঙ্গবন্ধু চায়না-বাংলাদেশ এক্সিবিশন সেন্টারে বসা ঢাকা আন্তর্জাতিক বানিজ্যমেলা থেকে ফেরার পথে পরিবহণ না পেয়ে দর্শনার্থীরা যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইবিপি) কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বানিজ্যমেলায় আসার জন্য ৩০ টি বাস চালু করার কথা থাকলেও এর অর্ধেক বাসও চলছে না বলে অভিযোগ করেন মেলায় আসা দর্শনার্থী ও মেলার ব্যবসায়ীরা ও দোকানের কর্মচারীরা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বানিজ্যমেলা সকাল ১০ টা থেকে রাত সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে মূল মেলা জমে উঠে বিকেল থেকে। এ কারণে দর্শনার্থীরাও আসা শুরু করে বিকেল থেকেই। পূর্বাচল উপ-শহরে সন্ধ্যার পর থেকে একপ্রকার সুনশান নিরবতা বিরাজ করে। ঠিকভাবে পাওয়া যায়নি কোন পরিবহণ। অথচ পূর্বাচলে বানিজ্য মেলা পর্যন্ত ৩০ টি বিআরটিসি বাস চালু করার কথা বলা হয়। তবে বাস্তবিক অর্থে ৩০ টি বাস চলাচল করছে না বলে অভিযোগ করেছেন মেলার ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও দর্শনার্থীরা।
মেলার ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে জানান, সকালে কুড়িল থেকে মেলায় আসার জন্য বিআরটিসি বাসের জন্য দাড়িয়ে থাকতে হয় অনেকক্ষণ। মেলার আসার জন্য এই বাস ছাড়া অন্যকোন উপায়ই নেই। আবার অনেক সময় বাস চালক ও হেলপাররা মেলা থেকে অনেক দূর নামিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে ফেলেন। তখন পায়ে হেটে মেলায় যেতে হয়। এ কারণে দোকান খুলতেও অনেক দেরী হয়ে যায়। সাড়ে ৯ টায় মেলা বন্ধ হলেও দোকান গোছাতে গোছাতে ১০ থেকে ১১ টা বেজে যায়। তখন যাওয়ার জন্য পরিবহণ পাওয়া যায় না। ইপিবির দেওয়া বিআরটিসি বাসও থাকে না প্রায় সময়ই। তখন বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ সিএনজি অথবা ফিটনেস বিহীন প্রাইভেটকার দিয়ে যেতে হয়। তার উপর আবার এশিয়ান হাইওয়ে বাইস মহাসড়ক ও তিনশ ফুট সড়কে কোন প্রকার সড়ক বাত্বির ব্যবস্থা করা হয়নি। সন্ধ্যার পর এ রাস্তা দিয়ে চলাচলে গা শিউরে উঠে। ইবিপি কর্তৃপক্ষ যদি আরো কিছু বাস বাড়িয়ে দেয় তাহলে ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা আরো জানান, পূর্বাচলের বাড়ির মালিকরা ১০ গুন অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কারণে তিনি ঢাকা থেকে এসে যেয়ে মেলায় ব্যবসা করছেন। ঠিক মতো বাস না পাওয়ার কারণে তিনি ভোগান্তিতে পড়েছেন। দিনের চেয়ে রাতের বেলায় পড়তে হয় বেশি বিড়ম্বনায়। তখন বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে সিনজিতে করে বাসায় যেতে হয়েছে তাকে। সিএনজিতে গুনতে হয়ে কয়েকগুন ভাড়া। পূর্বাচল থেকে স্বাভাবিক সিএনজি ভাড়া ২’শ থেকে ২৫০ টাকা। কিন্তু সিএনজি দিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে গুনতে হয়েছে ৬ টাকা। ইপিবি কর্তৃপক্ষকে এই রুটে আরো বাস বাড়ানো দাবি জানান তিনি।
দর্শনার্থীরা জানান, কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত রাস্তাঘাটের দূরাবস্থা এখনো অনেকটা রয়ে গেছে। অপরদিকে সময়মতো বাস না পাওয়ার বিড়ম্বনা তো রয়েছেই। এ কারণে ভোগান্তিতে পড়ছি আমরা। মেলা থেকে ফেরার পথে ঠিকমতো গাড়ি পাওয়া যায় না। ইপিবি কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র কুড়িল বিশ্বরোড থেকে মেলায় আসার পরিবহণের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু ভুলতা ও গাজীপুর বাইপাসসহ আশপাশের এলাকা থেকে আসার জন্য সরাসরি কোন বাসের ব্যবস্থা রাখেনি। এসব এলাকা থেকে মেলায় আসতে যাতায়াতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। ভাড়াও নেওয়া হচ্ছে দ্বিগুণ।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মেলায় ঘুরতে আসা আরো কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, রাতের বেলায় সড়ক বাতি না থাকার কারণে তিনশ ফুট সড়ক দিয়ে চলাচল অনেকটা দূষ্কর হয়ে পড়ে। পূর্বাচলে এমনিতেই অনেক অপরাধ সংঘঠিত হয় বলে শুনেছি। পূর্বাচল দিয়ে মেলায় আসা যাওয়ার সময় কিছুটা আতঙ্কে থাকতে হয়।
রাজধানীর মতিঝিল থেকে গত ১ লা জানুয়ারি এসেছিলেন পূর্বাচলের বানিজ্যমেলায় ঘুরতে এসেছিলেন জিয়া নামে এক দর্শনার্থী। তিনি আজও এসেছেন এখানে ঘুরতে। যাতায়াতে কোন ভোগান্তির হচ্ছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তিনি রেগে যান। এসময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সন্ধ্যার পরই বিআরটিসি বাস ঠিক মতো পাওয়া যায়না। বাস না পেয়ে বাধ্য হেটে কাঞ্চন ব্রীজের সামনে গিয়ে পড়ে দ্বিগুণ ভাড়ায় সিএনজিতে করে বাড়ি যেতে হয়েছে। এই রুটে বিআরটিসি বাস ছাড়া অন্য কোন গনপরিবহণ চলাচল করে না। মেলা কর্তৃপক্ষ যে বাস দিয়েছে সে বাসও সময় মতো পাওয়া যায়না। আমার কয়েকজন আত্বীয়ও মেলায় এসে এভাবে হয়রানী হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইপিবির সচিব ও বানিজ্যমেলার পরিচালক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমাদের কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বানিজ্যমেলা পর্যন্ত ৩০ টি বাসই চলাচল করছে। তবে মাঝে মাঝে একটু গ্যাপ হয়ে যায় হয়তো। তবে আমি নিজে সবকিছু তদারকি করছি। তবে দর্শনার্থীদের প্রয়োজনে বাসের সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে।
এ ব্যাপারে বিআরটিসির গাজীপুর ডিপোর ব্যবস্থাপক কামরুজ্জামান বলেন, কুড়িল থেকে মেলা পর্যন্ত ৩০টি বাসই চলাচল করছে। তবে কোন চালক যদি মেলার অনেক আগে যাত্রীদের নামিয়ে হয়রানী করে থাকে এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















