বাংলা চলচ্চিত্রের প্রকৃত উন্নয়ন কিভাবে সম্ভব! এ বিষয়ে পরিস্কারভাবে পাঁচটি পদক্ষেপ নেয়ার কথা বললেন বহুল আলোচিত চলচ্চিত্রকার এ এইচ এম এনামুল হক। বিজনেস বাংলাদেশ এর সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রথমত, ১৮ কোটি মানুষের দেশে মাত্র ৪২৮ জন অভিনয় শিল্পী চলচ্চিত্রের সাথে জড়িত। বিষয়টি বিস্মিত হওয়ার মতো। ইউটিউব, অ্যাপস, টি ভি নাটক, বিজ্ঞাপন, সিনেমা নির্মাণের চাহিদা মেটাতে যেই সংখ্যক অভিনয় শিল্পীর প্রয়োজন সেই পরিমান শিল্পীর যোগান পাওয়া যাচ্ছে না। পরিচালকরা অভিনয় শিল্পীদের সিডিউল পেতে তীর্থের কাকের মতো চেয়ে থাকেন। চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নিতে হলে, সর্বাগ্রে ন্যূনতম ১৮,০০০ অভিনয় শিল্পী বাছাই করা দরকার দেশের সকল জেলা থেকে।
দ্বিতীয়ত, অভিনয় শিল্পীদেরকে ন্যূনতম এক মাস আগে পুরো পান্ডুলিপিটি পৌছে দিতে হবে যাতে শিল্পীরা গল্পের পটভূমিসহ নিজের চরিত্রটি মনে প্রাণে ধারণ করতে পারে। তৃতীয়ত, প্রম্পট করার কালচার থেকে বেরিয়ে না আসলে আধুনিক যুগের সিনেমাগুলোর সাথে প্রতিযোগীতায় টিকে থাকতে পারবেনা বাংলা সিনেমা। কেননা অভিনয় করার সময় যদি একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রী ক্যামেরার সামনে কান খাঁড়া রাখে পরের সংলাপটি কি তা শোনার জন্য তাহলে সে মূহর্তেই ছিটকে পড়ে চরিত্রটি থেকে। তখন সেই শিল্পীর অভিনয় দর্শকপ্রিয় হতে পারে না। চতূর্থত, প্রযোজকদের অবশ্যই কম বাজেটের ছবি নির্মাণের মানসিকতা পরিহার করতে হবে। পঞ্চমত, সরকারী পৃষ্টপোষকতায় চলচ্চিত্র পরিচালক হাবিবুল ইসলাম হাবিবের দাবী অনুযায়ী বাংলাদেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে ৩০০ আধুনিক মানের সিনেপ্লেক্স নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করতে হবে।
ইন্টারনেটের যুগে অধিক বিনোয়োগই পারবে বিশ্ব মঞ্চে বাংলা চলচ্চিত্রের শির উচু করতে। একাধিকবার সরকারী অনুদান প্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার এ এইচ এনামুল হক আশা করেন, তার মতামতরে প্রতি যদি প্রয়োজক, পরিচালক ও শিল্পী সমিতির নেতারা সদয় হন তাহলে বাংলা চলচ্চিত্র তার পুরনো গৌরব নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

























