০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

নতুন করে মুন

দরাজ কন্ঠের অধিকারী কন্ঠশিল্পী হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে মুনের আলাদা কদর রয়েছে। মূলত ফোক ঘরানার কন্ঠশিল্পী হিসেবে সেই ক্যাসেট-সিডির আমল থেকেই সারা দেশে পরিচিতি মুনের। লোকজ ফোক ফিউশনের বাইরে সেই সময় গেয়েছেন অসংখ্য ভান্ডারি, মারফতি গানও। এসব গান এখনও গ্রাম বাংলার মানুষের মুখে মুখে রয়ে গেছে। বছর পাঁচেক আগে সংগীতা থেকে মুক্তি পাওয়া ‘হাবীবি’ গানটি শ্রোতারা দারুন পছন্দ করে। এর বাইরে মুনের গাওয়া আধুনিক মৌলিক গানও রয়েছে বেশ কিছু। যেগুলোর রয়েছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা। করেছেন সিনেমার প্লে ব্যাকও। হঠাৎ করে অডিও সিডি থেকে ইউটিউবে পাল্টে যাওয়া অডিও ইন্ডাস্ট্রিকে ঠিক বুঝে ওঠতে পারেননি মুন। তাই মাঝখানে গেছে বেশ কিছুদিনের বিরতি। তবে বিরতির নীরবতা ভেঙ্গে আবার সরব হচ্ছেন মুন। একাধিক লেবেল কোম্পানির ব্যানারে মৌলিক গানসহ নিজের চ্যানেল শুরু করতে যাচ্ছেন মুন। যেখানে শ্রোতা দর্শকদের জন্য নতুন নতুন গান উপহার দেবেন তিনি। ফিরে আসা নিয়ে মুন বলেন ‘নানা কারনে অনেকদিন কাজ করা হয়নি। মাঝখানে কেবল একটি পূজোর গান করেছিলাম। এবার অনেক দিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। বেশ কিছু অডিও তৈরি। মৌলিক গানের পাশাপাশি আমার প্রিয় কিছু রবীন্দ্র সংগীত ও ফোক গান করছি। কয়েকটি লেবেল কোম্পানির জন্য নতুন গান করছি। বাকী গানগুলো নিয়ে নিজের চ্যানেল শুরু করতে চাই। আশা করছি শ্রোতারা আমাকে নতুন করে পাবেন।’

ঠিক কেন এমন বিরতি নিয়েছিলেন মুন? এ প্রসঙ্গে সদা হাস্যোজ্জ্বল কণ্ঠশিল্পী বলেন, ‘আসলে ঠিক বিরতি নিয়েছি তা নয়। টুকটাক শো করেছি। গানও করেছি। আসলে অডিও ইন্ডাস্ট্রি যখন হারিয়ে যাচ্ছিল তখনই বিরতিটা আসে। এর মধ্যেই আবার ইউটিউবের মধ্য দিয়ে সব কিছু চাঙ্গা হয়। আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও একটু ব্যস্ততা ছিল। তাই মাঝখানে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে।’ বলা হয়ে থাকে মুনের যে পরিমাণ গান জনপ্রিয় গান রয়েছে মুন সে পরিমাণ এক্সপোজড না। বরং মুনের চেয়েও কম জনপ্রিয় দেরিতে শুরু করা কণ্ঠশিল্পীরা এগিয়ে গেছে অনেক দূর। এই ব্যাপারটি কী মুনকে কষ্ট দেয়?

জবাব দিতে হাসলেন মুন। তারপর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বললেন, ‘আসলে জেনারেশনের চাহিদা। নতুনরা ভালো করছে-করবে। এতে আমার কোনো কষ্ট নেই। তবে আমার নিজের অবস্থান নিয়ে খানিক আফসোস আছে। বাংলাদেশের অনেক বড় বড় কণ্ঠশিল্পী ও মিউজিশিয়ানরা আমাকে বলেছে একটু যদি অভিভাবকের পরামর্শ থাকতো তাহলে আমার অবস্থা অন্যরকম থাকতো। মূল ধারার ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অবস্থানটা শুক্ত করতে পারতাম। কিন্তু আমি হতাশ নই। আর এ কারনেই আবার নতুন করে শুরু করতে যাচ্ছি।’ নিজের চ্যানেল প্রসঙ্গে মুন বলেন, ‘এখন সবাই চ্যানেল করছে। আপনি দেখুন আমার পুরনো গানগুলো থেকে কোম্পানিরা এখনো টাকা ইনকাম করছে। কিন্তু সেখানে আমার রয়্যালিটি কই। এসব নিয়ে কথা বলতে গেলে ঝামেলা হয়ে যায়। তাই কোম্পানির জন্য গান করার পাশাপাশি একেবারে নিজের জন্য কিছু গান করতে চাই। এখানে মৌলিক গান যেমন থাকবে, তেমনি ফোক কিংবা রবীন্দ্রসংগীতের মতো আমার পছন্দের কিছু গান তৈরি করবো। আর আমি যেহেতু নতুন করে শুরু করছি তাই শ্রোতারা আমাকে নতুন করেই খুঁজে পাবেন।’

বি.বা./রই

জনপ্রিয়

সেলিম প্রধানের মুক্তির দাবিতে এবার নারায়ণগঞ্জে মানববন্ধন

নতুন করে মুন

প্রকাশিত : ০১:১০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২২

দরাজ কন্ঠের অধিকারী কন্ঠশিল্পী হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে মুনের আলাদা কদর রয়েছে। মূলত ফোক ঘরানার কন্ঠশিল্পী হিসেবে সেই ক্যাসেট-সিডির আমল থেকেই সারা দেশে পরিচিতি মুনের। লোকজ ফোক ফিউশনের বাইরে সেই সময় গেয়েছেন অসংখ্য ভান্ডারি, মারফতি গানও। এসব গান এখনও গ্রাম বাংলার মানুষের মুখে মুখে রয়ে গেছে। বছর পাঁচেক আগে সংগীতা থেকে মুক্তি পাওয়া ‘হাবীবি’ গানটি শ্রোতারা দারুন পছন্দ করে। এর বাইরে মুনের গাওয়া আধুনিক মৌলিক গানও রয়েছে বেশ কিছু। যেগুলোর রয়েছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা। করেছেন সিনেমার প্লে ব্যাকও। হঠাৎ করে অডিও সিডি থেকে ইউটিউবে পাল্টে যাওয়া অডিও ইন্ডাস্ট্রিকে ঠিক বুঝে ওঠতে পারেননি মুন। তাই মাঝখানে গেছে বেশ কিছুদিনের বিরতি। তবে বিরতির নীরবতা ভেঙ্গে আবার সরব হচ্ছেন মুন। একাধিক লেবেল কোম্পানির ব্যানারে মৌলিক গানসহ নিজের চ্যানেল শুরু করতে যাচ্ছেন মুন। যেখানে শ্রোতা দর্শকদের জন্য নতুন নতুন গান উপহার দেবেন তিনি। ফিরে আসা নিয়ে মুন বলেন ‘নানা কারনে অনেকদিন কাজ করা হয়নি। মাঝখানে কেবল একটি পূজোর গান করেছিলাম। এবার অনেক দিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। বেশ কিছু অডিও তৈরি। মৌলিক গানের পাশাপাশি আমার প্রিয় কিছু রবীন্দ্র সংগীত ও ফোক গান করছি। কয়েকটি লেবেল কোম্পানির জন্য নতুন গান করছি। বাকী গানগুলো নিয়ে নিজের চ্যানেল শুরু করতে চাই। আশা করছি শ্রোতারা আমাকে নতুন করে পাবেন।’

ঠিক কেন এমন বিরতি নিয়েছিলেন মুন? এ প্রসঙ্গে সদা হাস্যোজ্জ্বল কণ্ঠশিল্পী বলেন, ‘আসলে ঠিক বিরতি নিয়েছি তা নয়। টুকটাক শো করেছি। গানও করেছি। আসলে অডিও ইন্ডাস্ট্রি যখন হারিয়ে যাচ্ছিল তখনই বিরতিটা আসে। এর মধ্যেই আবার ইউটিউবের মধ্য দিয়ে সব কিছু চাঙ্গা হয়। আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও একটু ব্যস্ততা ছিল। তাই মাঝখানে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে।’ বলা হয়ে থাকে মুনের যে পরিমাণ গান জনপ্রিয় গান রয়েছে মুন সে পরিমাণ এক্সপোজড না। বরং মুনের চেয়েও কম জনপ্রিয় দেরিতে শুরু করা কণ্ঠশিল্পীরা এগিয়ে গেছে অনেক দূর। এই ব্যাপারটি কী মুনকে কষ্ট দেয়?

জবাব দিতে হাসলেন মুন। তারপর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বললেন, ‘আসলে জেনারেশনের চাহিদা। নতুনরা ভালো করছে-করবে। এতে আমার কোনো কষ্ট নেই। তবে আমার নিজের অবস্থান নিয়ে খানিক আফসোস আছে। বাংলাদেশের অনেক বড় বড় কণ্ঠশিল্পী ও মিউজিশিয়ানরা আমাকে বলেছে একটু যদি অভিভাবকের পরামর্শ থাকতো তাহলে আমার অবস্থা অন্যরকম থাকতো। মূল ধারার ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অবস্থানটা শুক্ত করতে পারতাম। কিন্তু আমি হতাশ নই। আর এ কারনেই আবার নতুন করে শুরু করতে যাচ্ছি।’ নিজের চ্যানেল প্রসঙ্গে মুন বলেন, ‘এখন সবাই চ্যানেল করছে। আপনি দেখুন আমার পুরনো গানগুলো থেকে কোম্পানিরা এখনো টাকা ইনকাম করছে। কিন্তু সেখানে আমার রয়্যালিটি কই। এসব নিয়ে কথা বলতে গেলে ঝামেলা হয়ে যায়। তাই কোম্পানির জন্য গান করার পাশাপাশি একেবারে নিজের জন্য কিছু গান করতে চাই। এখানে মৌলিক গান যেমন থাকবে, তেমনি ফোক কিংবা রবীন্দ্রসংগীতের মতো আমার পছন্দের কিছু গান তৈরি করবো। আর আমি যেহেতু নতুন করে শুরু করছি তাই শ্রোতারা আমাকে নতুন করেই খুঁজে পাবেন।’

বি.বা./রই