ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক পদে আরিফুল ইসলামকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রগতিশীল শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপির মাধ্যমে উপাচার্যের নিকট প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ৫৩ জন শিক্ষক সাক্ষরিত ঐ লিখিত প্রতিবাদে বিতর্কিত শিক্ষক নিয়োগ বন্ধের জোর দাবি জানান তারা।
স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির পিতার আদর্শে উজ্জীবিত একটি দেশ গড়ার নিমিত্তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিক সেই মুহুর্তে এ ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ বিব্রত ও মর্মাহত। আমরা এই বিতর্কিত নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং পরবর্তীতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল রাজনৈতিক চর্চাকে আরো দূর্বিষহ করবে বলে মনে করছি।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন আরিফুল ইসলাম। তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। সিন্ডিকেটে নিয়োগ চূড়ান্ত হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ছাত্রদল সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তার নিয়োগ বাতিল করেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ আসকারী। এরপর তার বিষয়ে যাচাইয়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর একটি আবেদন করে কর্তৃপক্ষ। সেই সময়ে তদন্ত প্রতিবেদনে আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় তৎকালীন প্রশাসন আরিফুল ইসলামের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করেন এবং পরবর্তী সিন্ডিকেটে রিপোর্ট করেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তখন আরিফুল ইসলাম আদালতে মামলাও করেন। যেটি এখনও বিচারাধীন।
গত (৭ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫৪ তম সিন্ডিকেটে পুনরায় তার নিয়োগ চূড়ান্ত করেছেন বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে এই নিয়োগের প্রেক্ষিতে সিন্ডিকেট সদস্য শাহজাহান আলম সাজু তাৎক্ষণিকভাবে নোট অব ডিসেন্ট দিলেও উপাচার্য তার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী জানান, ছাত্রলীগসহ প্রগতিশীল সংগঠনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার আলোকে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে উক্ত নিয়োগটি বাতিল করা হয়েছিল।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, তাকে যে আমি নতুন নিয়োগ দিয়েছি এমনটা না। একটা অভিযোগের ভিত্তিতে তার নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছিলো। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ ছিলো তার ভিত্তিতে পুলিশ, এন এস আই এসব কিছুর তদন্তের পর তার বিরুদ্ধে কোন ক্রিমিনাল ওফেন্স পাওয়া যায়নি। একজন মানুষ কোন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। যেহেতু তার কোন ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই তাই এই নিয়োগ বাতিল করে দেওয়া যায়না। এমনকি আমরা তিনজন আইনজীবীর পরামর্শ নিয়েছি। তারাও তার পক্ষে মতামত দিয়েছে। এছাড়া সিন্ডিকেটের বেশিরভাগ সদস্যই তার পক্ষে মতামত দিয়েছে। তাই আমরা সর্বসম্মতি ক্রমে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ






















