শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষা (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সম্ভাব্য যা যা করার দরকার, সরকারের পক্ষ থেকে তার সব ব্যবস্থাই করা হয়েছে। তিনি আরো আশা করেন, এবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না। সব পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সমাপ্ত হবে।
সোমবার রাজধানীর বেইলি রোডে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনের পর সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, অভিযোগ ওঠা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু সেটা গোড়ায় গিয়ে দেখা উচিত, তা সত্য না মিথ্যা।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করছি, শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। এই ক্ষেত্রে আপনাদের বলতে চাই, নানা ধরনের সমস্যা হয়তো প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে। আমরা সম্ভাব্য যা হতে পারে এবং যা যা আমাদের জানার মধ্যে আছে, আপনারা আমাদের জানাইছেন বা অন্যান্য মাধ্যমে জানছি, এই সবকিছু মোকাবিলা করে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।’
‘আগেও বলেছি, মানুষের পক্ষে যা যা করা সম্ভব, আমাদের এই বাস্তবতায় সেই অনুসারে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা আশা করি, সবাই সহযোগিতা করবেন। আমাদের এই পরীক্ষাগুলো শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে,’ যোগ করেন শিক্ষামন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, এত কিছুর পরেও কেউ প্রশ্ন ফাঁস করলে তিনিই দায়ী থাকবেন এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এরপর সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় প্রথম দিনের পরীক্ষা। প্রথম দিন এইচএসসিতে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র, সহজ বাংলা প্রথম পত্র, বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রথম পত্র এবং ডিআইবিএস-এ বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্রের পরীক্ষা হবে।
আর মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় সকালে বাংলা-২ (নতুন সিলেবাস) ও বাংলা-২ (পুরাতন সিলেবাস) এবং বিকেলে বাংলা-১ (সৃজনশীল নতুন সিলেবাস) ও বাংলা-১ (সৃজনশীল পুরাতন সিলেবাস) পরীক্ষা হবে।
নিয়ম মেনে সকালে ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগেই পরীক্ষার্থীরা আসন গ্রহণ করতে আসে। লাইন ধরে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করে। কেন্দ্র থেকে মাইকে পরীক্ষার হলে প্রবেশের নিয়ম বলা হচ্ছিল।
চলতি বছর আট হাজার ৯৪৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেবে। এর মধ্যে ছয় লাখ ৯২ হাজার ৬৭৩ জন ছেলে ও ছয় লাখ ১৮ হাজার ৭২৭ জন মেয়ে। এবার তত্ত্বীয় পরীক্ষা সোমবার থেকে শুরু হয়ে ১৩ মে এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৪ মে থেকে শুরু হয়ে ২৩ মে শেষ হবে।
২০১৭ সালে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৬ জন এবং ২০১৮ সালে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন। ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে মোট পরীক্ষার্থী বেড়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ৭৭১ জন, বৃদ্ধির হার ১০ দশমিক ৭৯ শতাংশ। মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৭৯টি এবং মোট কেন্দ্র বেড়েছে ৪৪টি।

























