বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার মামলা নং-১৭,গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ খ্রিঃ, ধারাঃ ৩০২/ ২০১/ ৩৪ পেনাল কোড এর তদন্তে প্রাপ্ত আসামী মোঃ করিম মোল্লা (২৩), পিতাঃ মাহতাব মোল্লা, মাতাঃ মাছুমা বেগম, গ্রামঃ বিহারীপুর, থানাঃ বাকেরগঞ্জ, জেলাঃ বরিশাল-কে বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২২ খ্রিঃ তারিখ ঢাকা জেলার ধামরাই থানাধীন বরাত নগর এলাকা হতে গ্রেফতার করলো পিবিআই বরিশাল জেলা।
অত্র মামলার বাদী থানায় অভিযোগ করেন যে, গত ২১ ফেব্রুয়ারি ১৭ খ্রিঃ তারিখ সকাল ০৯.ঘটিকার সময় বাদীর ছেলে মামুন খাঁ (২৩) ঢাকা থেকে বাড়ীতে আসেন। বাড়ীতে আসার পরে দুপুর খাওয়া দাওয়া করে বিশ্রাম নেয়। বিশ্রামের সময় বাদীনির ছেলের ফোনে একাধিকবার কল আসে। একই তারিখ বিকাল ০৫.ঘটিকার সময় ঘুম থেকে জেগে বাংলাবাজার নামক স্থানে সেভ করার জন্য যায় বলে বাদীকে জানায়। রাত্র অনুমান ১০.ঘটিকার মধ্যে বাড়ীতে ফেরৎ না আসায় বাদীনির নম্বার থেকে বাদীর ছেলে মামুন খাঁ-কে ফোন দিলে ফোন বন্ধ পায়। বাদীর ছেলে মামুন খাঁ রাত্রে আর বাড়িতে আসে না।২২ ফেব্রুয়ারি ১৭ খ্রিঃ তারিখ সকাল ০৭.ঘটিকার সময় লোকের মুখে বাদীর ছেলে মামুন খাঁর সংবাদ পাইয়া জনৈক আয়ুব আলীর বাগানে গাছের সাথে গলায় ওড়না দিয়া ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান। বাদীর ধারনা অজ্ঞাতনামা আসামীরা একই উদ্দেশ্যে সাধনকল্পে বাদীর ছেলেকে হত্যা করে লাশের গলায় ফাঁস দিয়ে রাখেন।
মামলাটি পিবিআই বরিশাল জেলায় স্ব-উদ্যোগে গৃহীত হলে তদন্তের জন্য পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র)মোঃ আবু জাফরকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এটি ক্লু-বিহীন হত্যা মামলা। মামলাটি তদন্তকালে প্রকাশ পায় যে, মামলার ভিকটিম মামুন খাঁ এর সাথে পার্শ্ববর্তী কাফিলা গ্রামের জনৈকা সাথী আক্তার ঝর্ণার প্রেমের সর্ম্পক ছিল। কিন্তু সাথী আক্তার ঝর্ণার সাথে নাজমুল ইসলাম রুবেল এর বিবাহ হয়। বিয়ের পরেও ঝর্ণা এবং মামুনের মধ্যে শারীরিক সর্ম্পক অব্যাহত থাকে। এক পর্যায়ে তাদের সর্ম্পকের কথা ঝর্ণার স্বামী নাজমুল ইসলাম রুবেল জানতে পারে। ঝর্ণার স্বামী নাজমুল ইসলাম রুবেল ভিকটিম মামুনকে একাধিকবার সম্পর্ক ছেদ করার জন্য বলে। কিন্তু তারপরও মামুন ও ঝর্ণার সাথে সর্ম্পক বিদ্যমান ছিল।
নাজমুল ইসলাম রুবেল এর সাথে গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ করিম মোল্লার বন্ধু নাজমুল তালুকদারের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের সর্ম্পক ছিল। বন্ধুত্বের সুবাদে নাজমুল ইসলাম রুবেল ৩০,০০০/- টাকার বিনিময়ে নাজমুল তালুকদারের সাথে ঘটনার এক সপ্তাহ আগে মামুনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী মামুনকে নাজমুল তালুকদার ২১ ফেব্রুয়ারি ১৭ খ্রিঃ তারিখ ঢাকা থেকে নিজ খরচে মাহফিলের কথা বলে বাকেরগঞ্জ নিয়ে আসে। একই দিন নাজমুল তালুকদার বেলা অনুমান ১২.ঘটিকার দিকে গ্রেফতারকৃত আসামী করিম মোল্লাকে ফোন দেয়। করিম ও নাজমুল তালুকদার মিলে নাজমুল তালুকদারের বাড়ীর পিছনে কথা বলে। এ সময় নাজমুল তালুকদার ভিকটিম মামুনকে হত্যার বিষয়ে করিমের সাথে আলাপ আলোচনা করে। এ সময় গ্রেফতারকৃত আসামী করিম মোল্লার সামনে নাজমুল ইসলাম রুবেল নাজমুল তালুকদারকে ফোনে ভিকটিম মামুনকে হত্যার বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে পরিকল্পনা করার জন্য বলে। এরপর তারা বাড়ী চলে যায়। সন্ধ্যার দিকে নাজমুল তালুকদার গ্রেফতারকৃত আসামী করিম মোল্লাকে ফোন দিয়ে বাহিরে আসতে বলে। করিম মোল্লা বাহিরে এসে দেখে নাজমুল তালুকদার, রহিম সাজ্জাল ও সাদ্দাম (নাজমুল তালুকদারের ফুপাতো ভাই) একসাথে আছে। তারা সবাই রাত ০৮.টা পর্যন্ত ঘোরাফেরা করে। রাত ০৮.টার দিকে নাজমুল তালুকদার সাদ্দামকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। সাদ্দাম ভিকটিম মামুনকে হত্যা করার বিষয়ে কিছুই জানত না। এরপর গ্রেফতারকৃত আসামী করিম মোল্লা, নাজমুল তালুকদার, রহিম সাজ্জালসহ বাকেরগঞ্জের কাফিলায় নাপিত বাড়ী গিয়ে কার্ড খেলে। ঐ সময় ঝর্ণা নাজমুল তালুকদারকে ফোন দিয়ে মামুনকে হত্যার পরিকল্পনার বিষয়ে বলে যে, “মামুনকে তোরা (নাজমুল তালুকদাররা) ফোন দিয়ে তোদের সাথে নিয়ে আয়। রাতে সে (ঝর্ণা) মামুনকে তার বাড়িতে ডাকবে। মামুন আসার পর তাদের (আঃ রহিম, নাজমুল তালুকদার, মোঃ করিম মোল্লা) পিছন পিছন আসতে বলে। মামুন ঝর্ণার বাসায় আসলে ঝর্ণা, নাজমুল ইসলাম রুবেল মামুনকে ধরবে। সাথে সাথে অন্যান্য আসামীদেরকেও পিছন থেকে ধরতে বলবে। এইভাবে তারা মামুনকে শেষ করে ফেলবে।” এর কিছুক্ষণ পর ঝর্ণা নাজমুল তালুকদারকে ফোন করে ভিকটিম মামুনকে ডেকে এনে গ্রেফতারকৃত আসামী করিম মোল্লার সাথে কার্ড খেলার ছলে ব্যস্ত রাখতে বলে। নাজমুল তালুকদার পরিকল্পনামত ভিকটিম মামুনকে রাত্র অনুমান ১০.টার দিকে নাপিত বাড়ী ডেকে আনে। আসামী করিম মোল্লা, ভিকটিম মামুন, নাজমুল তালুকদার ও রহিম কার্ড খেলতে থাকে। রাত অনুমান ০৪.টার দিকে ঝর্ণা মামুনের মোবাইলে ফোন করে তার বাড়িতে ডাকে। মামুন ফোন পেয়ে ঝর্ণার বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। আসামী করিম মোল্লা, নাজমুল তালুকদার ও রহিম ভিকটিম মামুনের পিছু নেয়। নাজমুল তালুকদার আসামী করিম মোল্লাকে পাহারায় থাকতে বলে। করিম মোল্লা পাহারা দেয়। হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী মামুন যখন ঝর্ণার ঘরের পাশে যায় তখন ঝর্ণা ও তার স্বামী নাজমুল ইসলাম রুবেল ভিকটিম মামুনকে ঝাপটে ধরে। সাথে সাথে নাজমুল তালুকদার ও আঃ রহিম ভিকটিম মামুনকে চেপে ধরে। নাজমুল ইসলাম রুবেল ভিকটিম মামুনকে গলা চেপে ধরে, ঝর্ণা মামুনের পা চেপে ধরে, রহিম মামুনের মুখ চেপে ধরে, নাজমুল তালুকদার মামুনের হাত চেপে ধরে। এক পর্যায়ে মামুন নিস্তেজ হয়ে পড়ে। মামুন মারা গেছে বুঝতে পেরে ঝর্ণার পরিহিত ওড়না দিয়ে নাজমুল ইসলাম রুবেল মামুনের ফাঁস দেওয়ার মত করে বাঁধে। তারপর সবাই মিলে ভিকটিম মামুনকে গাব গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে। এরপর আসামীরা যার যার মত সবাই বাড়ীতে চলে যায়।
অ্যাডিশনাল আইজিপি, পিবিআই বনজ কুমার মজুমদার, বিপিএম (বার), পিপিএম এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই বরিশাল জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মোঃ হুমায়ুন কবির এর সার্বিক সহযোগিতায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই বরিশাল জেলার পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ আবু জাফর সহযোগী আই.ও এসআই মোঃ নাঈমুর রহমান এবং অন্যান্য অফিসার ও ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ করিম মোল্লা-কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ আদালতে সে নিজেকে জড়িয়ে ফৌঃ কাঃ ১৬৪ ধারামতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।মামলা তদন্ত অব্যাহত আছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ


























