০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

আমাদের নারীরা সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এসএমই মেলায় অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অধিকাংশই নারীদের। এটা খুব ভালো লক্ষণ। আমাদের নারীরা সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে এটাও তার প্রমাাণ। নারী উদ্যোক্তরা সফল হোক আমি এটাই চাই’। এসএমই মেলার সাফল্য কামনা করেছেন তিনি।

বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৬ষ্ঠ এসএমই মেলা-২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর গলার অবস্থা ভালো না থাকায় তিনি মাইকে দাঁড়িয়ে শুধু বলেন, ‘আমার গলার অবস্থা ভাল নয়। এ জন্য বক্তব্য দিতে পারছি না, দুঃখিত’। পরে তার লিখিত বক্তব্য উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সুরক্ষার মাধ্যমে দেশের সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে তার সরকার ‘জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬’-তে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে শিল্প উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম হিসাবে গণ্য করেছে।

তিনি বলেন, তার সরকারের গৃহীত কর্মসূচির ফলে দেশব্যাপী টেকসই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের দ্রুত প্রসার ঘটছে। উদ্যোক্তাবান্ধব নীতির কারণে প্রতিনিয়ত নারীরা ব্যবসায়ে মনোনিবেশ করছে। ফলে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়নসহ আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির অনেক সূচকে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে।

pm 22

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে শিল্পের প্রসারে ১০০টি ইকোনোমিক জোন করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পের প্রসারে বিভিন্ন ট্রেডে ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা আছে। ভালো মানের পণ্যে উৎপাদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য আমরা পুরস্কার দিচ্ছি’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে যখন সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেই, তখন বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। অনেক দেশ বিশ্বমন্দার অভিঘাত কাটিয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু আমরা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছি।

বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বে এখন বাংলাদেশ মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বর্তমানে আমাদের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৫২ মার্কিন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি পেয়ে ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশে উন্নীত।

সরকার প্রধান বলেন, বর্তমানে ১৯৯টি দেশে ৭৫০টি পণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে ৪১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানির হার বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার। যা ২০২১ সালে ৬০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে।

তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সারা দেশে ১০০টি ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইকোনমিক জোনসমূহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

বাংলাদেশে কুটির শিল্পের সুদীর্ঘ গৌরবের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমাদের ঐতিহ্যবাহী জামদানি, নকশিকাঁথা এবং সিলেটের শীতল পাটি ইতোমধ্যে ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য-তালিকায় স্থান পেয়েছে।

উদ্যোক্তারা এসব পণ্যের ব্র্যান্ডিং এর পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে পারেন, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশীয় কাঁচামালনির্ভর শিল্পায়নের পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক কাঁচামালের সহজলভ্যতা বিবেচনা করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকার উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা প্রদান করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পণ্যের বাজার অনুসন্ধান এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী সেসব পণ্য উৎপাদন করতে হবে। মুষ্টিমেয় কয়েকটি পণ্যের ওপর রপ্তানি নির্ভরশীলতা কমিয়ে আমাদের এখন রপ্তানি বহুমুখীকরণের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এজন্য সরকারের সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

এসএমই খাতের সম্প্রসারণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের খণ্ডচিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার নিজেরা ব্যবসা করে না। সহায়কের ভূমিকা পালন করে। ফলে আজ দেশে বেসরকারি খাত ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে।

তিনি বলেন, সারা দেশ থেকে বাছাইকৃত ২৬৭টি এসএমই প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে এ মেলায় অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ৬৭ শতাংশই নারী উদ্যোক্তা।

prize

মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বিভিন্ন দেশের পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তি আয়ত্বকরণ এবং পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

সরকার প্রধান আশা প্রকাশ করেন-এসএমই মেলা দেশে উৎপাদিত এসএমই পণ্যের পরিচিতি বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্রেতা আকর্ষণ ও বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এ ধরনের মেলা আয়োজনের মাধ্যমে এসএমই খাতের অনেক সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হবে এবং যথাযথ স্বীকৃতি পাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে স্বল্পন্নোত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছি। ২০২১ সালে আমরা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন’।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিল্প সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ও এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কে এম হাবিবুল্লাহ।

এবছর ‘জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার-২০১৭ বিজয়ী বর্ষসেরা নারী উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন- শাহীদা পারভীন ( বিসমিল্লাহ ট্রেন্ডস সলিউশন), বর্ষসেরা পুরুষ ক্যাটাগরিতে মোহাম্মদ শাহবুদ্দিন (দোয়েল ইন্টারন্যাশনাল), বর্ষসেরা মাঝারি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে- মাকসুদা হাসনাত (স্বতদল হস্তশিল্প) । মোহাম্মদ গাজী তৌহিদুল ইসলাম (এসএম প্লাস্টিক) এক লাখ টাকা পুরস্কার এবং ট্রফি ও সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

এসএমই মেলা চলবে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত। দেশে উৎপাদিত পাটজাত পণ্য, খাদ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, আইটি পণ্য, প্লাস্টিক ও অন্যান্য সিনথেটিক, হস্তশিল্প, ডিজাইন ও ফ্যাশন ওয়্যারসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের পণ্য মেলায় প্রদর্শন ও বিক্রি হবে।

মেলায় প্রবেশে কোনো ফি দিতে হবে না। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা উন্মুক্ত থাকবে।

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আমাদের নারীরা সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০১:০৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ এপ্রিল ২০১৮

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এসএমই মেলায় অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অধিকাংশই নারীদের। এটা খুব ভালো লক্ষণ। আমাদের নারীরা সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে এটাও তার প্রমাাণ। নারী উদ্যোক্তরা সফল হোক আমি এটাই চাই’। এসএমই মেলার সাফল্য কামনা করেছেন তিনি।

বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৬ষ্ঠ এসএমই মেলা-২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর গলার অবস্থা ভালো না থাকায় তিনি মাইকে দাঁড়িয়ে শুধু বলেন, ‘আমার গলার অবস্থা ভাল নয়। এ জন্য বক্তব্য দিতে পারছি না, দুঃখিত’। পরে তার লিখিত বক্তব্য উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সুরক্ষার মাধ্যমে দেশের সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে তার সরকার ‘জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬’-তে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে শিল্প উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম হিসাবে গণ্য করেছে।

তিনি বলেন, তার সরকারের গৃহীত কর্মসূচির ফলে দেশব্যাপী টেকসই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের দ্রুত প্রসার ঘটছে। উদ্যোক্তাবান্ধব নীতির কারণে প্রতিনিয়ত নারীরা ব্যবসায়ে মনোনিবেশ করছে। ফলে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়নসহ আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির অনেক সূচকে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে।

pm 22

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে শিল্পের প্রসারে ১০০টি ইকোনোমিক জোন করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পের প্রসারে বিভিন্ন ট্রেডে ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা আছে। ভালো মানের পণ্যে উৎপাদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য আমরা পুরস্কার দিচ্ছি’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে যখন সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেই, তখন বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। অনেক দেশ বিশ্বমন্দার অভিঘাত কাটিয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু আমরা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছি।

বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বে এখন বাংলাদেশ মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বর্তমানে আমাদের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৫২ মার্কিন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি পেয়ে ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশে উন্নীত।

সরকার প্রধান বলেন, বর্তমানে ১৯৯টি দেশে ৭৫০টি পণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে ৪১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানির হার বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার। যা ২০২১ সালে ৬০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে।

তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সারা দেশে ১০০টি ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইকোনমিক জোনসমূহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

বাংলাদেশে কুটির শিল্পের সুদীর্ঘ গৌরবের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমাদের ঐতিহ্যবাহী জামদানি, নকশিকাঁথা এবং সিলেটের শীতল পাটি ইতোমধ্যে ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য-তালিকায় স্থান পেয়েছে।

উদ্যোক্তারা এসব পণ্যের ব্র্যান্ডিং এর পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে পারেন, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশীয় কাঁচামালনির্ভর শিল্পায়নের পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক কাঁচামালের সহজলভ্যতা বিবেচনা করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকার উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা প্রদান করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পণ্যের বাজার অনুসন্ধান এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী সেসব পণ্য উৎপাদন করতে হবে। মুষ্টিমেয় কয়েকটি পণ্যের ওপর রপ্তানি নির্ভরশীলতা কমিয়ে আমাদের এখন রপ্তানি বহুমুখীকরণের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এজন্য সরকারের সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

এসএমই খাতের সম্প্রসারণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের খণ্ডচিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার নিজেরা ব্যবসা করে না। সহায়কের ভূমিকা পালন করে। ফলে আজ দেশে বেসরকারি খাত ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে।

তিনি বলেন, সারা দেশ থেকে বাছাইকৃত ২৬৭টি এসএমই প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে এ মেলায় অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ৬৭ শতাংশই নারী উদ্যোক্তা।

prize

মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বিভিন্ন দেশের পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তি আয়ত্বকরণ এবং পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

সরকার প্রধান আশা প্রকাশ করেন-এসএমই মেলা দেশে উৎপাদিত এসএমই পণ্যের পরিচিতি বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্রেতা আকর্ষণ ও বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এ ধরনের মেলা আয়োজনের মাধ্যমে এসএমই খাতের অনেক সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হবে এবং যথাযথ স্বীকৃতি পাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে স্বল্পন্নোত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছি। ২০২১ সালে আমরা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন’।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিল্প সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ও এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কে এম হাবিবুল্লাহ।

এবছর ‘জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার-২০১৭ বিজয়ী বর্ষসেরা নারী উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন- শাহীদা পারভীন ( বিসমিল্লাহ ট্রেন্ডস সলিউশন), বর্ষসেরা পুরুষ ক্যাটাগরিতে মোহাম্মদ শাহবুদ্দিন (দোয়েল ইন্টারন্যাশনাল), বর্ষসেরা মাঝারি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে- মাকসুদা হাসনাত (স্বতদল হস্তশিল্প) । মোহাম্মদ গাজী তৌহিদুল ইসলাম (এসএম প্লাস্টিক) এক লাখ টাকা পুরস্কার এবং ট্রফি ও সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

এসএমই মেলা চলবে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত। দেশে উৎপাদিত পাটজাত পণ্য, খাদ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, আইটি পণ্য, প্লাস্টিক ও অন্যান্য সিনথেটিক, হস্তশিল্প, ডিজাইন ও ফ্যাশন ওয়্যারসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের পণ্য মেলায় প্রদর্শন ও বিক্রি হবে।

মেলায় প্রবেশে কোনো ফি দিতে হবে না। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা উন্মুক্ত থাকবে।