১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবে ফিলিপাইন

মিয়ানমারে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। আর এই নির্যাতন থেকে বাঁচতে যারা পালিয়ে এসেছে তাদের আশ্রয় দেবে ফিলিপাইন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তে।

বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে দেশটির কৃষক ও কৃষি দফতরের কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

এ ঘটনায় ইউরোপেরও দায়িত্ব রয়েছে জানিয়ে রদ্রিগো দুয়ার্তে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে আমি সমব্যথী। আমি তাদের গ্রহণ করতে চাই। রোহিঙ্গাদের জন্য আমি সাহায্য করবো। তবে হ্যাঁ, আমাদের উচিত রোহিঙ্গাদের ইউরোপের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেয়া।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতার কথাও উল্লেখ করেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান তারা কি করতে পারে না! মাদকের বিরুদ্ধে তার কঠোর অভিযানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে করা অভিযোগ নিয়েও সমালোচনা করেন প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তে।

এদিকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য নাকচ করে দেয়া হয়েছে। মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ হতে বলেছেন, দুয়ার্তের মন্তব্যে ঘটনার প্রকৃত চিত্র উঠে আসেনি। মিয়ানমার সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যমতে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নতুন করে জাতিগত নিধনযজ্ঞ শুরু হলে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে এ জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। তবে অনেক বেসরকারি সংস্থা এ সংখ্যা ১০ লাখ বলে উল্লেখ করেছে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন এ ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞের পাঠ্যপুস্তকীয় দৃষ্টান্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব প্রশ্ন তুলেছেন, দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হলে তাকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ ছাড়া আর কী নামে ডাকা হবে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণকে রোহিঙ্গা তাড়ানোর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও এনেছে জাতিসংঘ। সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবে ফিলিপাইন

প্রকাশিত : ০৯:৫৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ এপ্রিল ২০১৮

মিয়ানমারে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। আর এই নির্যাতন থেকে বাঁচতে যারা পালিয়ে এসেছে তাদের আশ্রয় দেবে ফিলিপাইন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তে।

বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে দেশটির কৃষক ও কৃষি দফতরের কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

এ ঘটনায় ইউরোপেরও দায়িত্ব রয়েছে জানিয়ে রদ্রিগো দুয়ার্তে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে আমি সমব্যথী। আমি তাদের গ্রহণ করতে চাই। রোহিঙ্গাদের জন্য আমি সাহায্য করবো। তবে হ্যাঁ, আমাদের উচিত রোহিঙ্গাদের ইউরোপের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেয়া।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতার কথাও উল্লেখ করেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান তারা কি করতে পারে না! মাদকের বিরুদ্ধে তার কঠোর অভিযানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে করা অভিযোগ নিয়েও সমালোচনা করেন প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তে।

এদিকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য নাকচ করে দেয়া হয়েছে। মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ হতে বলেছেন, দুয়ার্তের মন্তব্যে ঘটনার প্রকৃত চিত্র উঠে আসেনি। মিয়ানমার সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যমতে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নতুন করে জাতিগত নিধনযজ্ঞ শুরু হলে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে এ জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। তবে অনেক বেসরকারি সংস্থা এ সংখ্যা ১০ লাখ বলে উল্লেখ করেছে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন এ ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞের পাঠ্যপুস্তকীয় দৃষ্টান্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব প্রশ্ন তুলেছেন, দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হলে তাকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ ছাড়া আর কী নামে ডাকা হবে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণকে রোহিঙ্গা তাড়ানোর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও এনেছে জাতিসংঘ। সূত্র: রয়টার্স