০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব ভর্তি পদ্ধতিতেই জবির পূর্বের মান ফিরবে?

২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে প্রথমবারের মতো দেশের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তিপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। তবে গুচ্ছ ভর্তিপরীক্ষার নানান অসংগতি ও ভোগান্তির সীমাহীন প্রভাব সবকিছু ছাপিয়ে সবশেষে পড়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রেও। অন্যান্য বছর নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা ও শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতো বিশ্ববিদ্যালয়টি।

তবে এবার চিত্র ছিল ভিন্ন। দশটি মেধাতালিকা দিয়েও কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার্থী না পাওয়ায় ১৫০টি আসন ফাঁকা রেখেই ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে দেশের শীর্ষ স্থানীয় এই বিশ্ববিদ্যালয়টি।

দেশের শীর্ষ ৪ বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে না আসায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়েও প্রশ্ন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের। এদিকে নামমাত্র নাম্বার পেয়ে শিক্ষার্থীদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া বিগত বছরগুলোর সব অর্জনকে ম্লান করেছে বলে দাবি শিক্ষকদের। একইসাথে মানসম্মত শিক্ষার্থী পেতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বের মান ফেরাতে এবার থেকে আবারও নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পরামর্শ তাদের।

সূত্র জানায়, দেশের সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে সর্বপ্রথম বিবিএ ও স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা লিখিত পদ্ধতিতে নেওয়া শুরু করে। সেসময় থেকে শিক্ষার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করে কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে প্রথম ধাপের প্রাথমিক আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট
ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী প্রাথমিক আবেদনকারীদের মধ্য হতে যোগ্যদের চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা হয়।

এই পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধার প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায় ব্যপকভাবে। পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় লিখিত ভর্তি পরীক্ষা প্রচলন করে।

তবে পরপর দুই বছর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে ব্যাপক সাড়া ফেললেও ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান।

গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের সার্বিক ভোগান্তি হ্রাস ও সুবিধার্থে আয়োজনের কথা বললেও প্রকৃত পক্ষে তার চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। শুরুতে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সুবিধা, যাতায়াত সুবিধা, থাকা-খাওয়ার সুবিধা সহ সার্বিক ভোগান্তি হ্রাসে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানায় আয়োজক কমিটি। তবে বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট শুরুতেই বাদ দেয়া, পরীক্ষার ফি আচমকাই বাড়িয়ে ফেলা, কর্মদিবসে পরীক্ষার তারিখ ফেলায় তীব্র যানজট, নিজের পছন্দের কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে না পারা এবং সর্বশেষ মানবিক ও বাণিজ্য অনুষদের পরীক্ষার ফলাফলে তীব্র অসংগতিতে সাধের গুচ্ছই তীব্র ভোগান্তির কারণ হয় হাজারো ভর্তিচ্ছুর জন্য।

এদিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় অন্য ৪ বিশ্ববিদ্যালয়- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে না আসায় বাধে বিপত্তি। এক্ষেত্রে গুচ্ছের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বাতন্ত্র্য বিলীন হয়ে আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে কিনা? এমন প্রশ্নও তোলেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

আবার দেশের শীর্ষ স্থানীয় ৪ বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে না আসায়, গুচ্ছে আসা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মানের দিক থেকে নিম্ন স্থনের বলেও মনে করছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের দাবি, অতি অল্পসময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় যতটা এগিয়ে গিয়েছিল, গুচ্ছে যাওয়ায় অনেকটা আবার পিছিয়ে গেছে। গুচ্ছ পদ্ধতির অসংগতির ফলেই এবার শিক্ষার্থী সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বারবার গণ সাক্ষাৎকার দেওয়ায় এখানে মেধার কোন মূল্যায়ন হয়নি। যারা নাম্বার পেয়েছে তারাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে এবার।

এদিকে গত ১৮ মার্চ গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদেয় নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। গুচ্ছে এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে কিনা? এমন মতামতের জন্য সময় চেয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দীন বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় খুব কম সময়ে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় হতে পেরেছিল নিজস্ব ভর্তি পদ্ধতির জন্য। কিন্তু গুচ্ছে নানান অসংগতি ছিল। এর প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টি অনেকটা পিছিয়ে গেছে। এবার শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রেও এটি ফুটে উঠেছে।

তিনি বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্ট্যান্ডার্ড মানের শিক্ষক রয়েছে কিন্তু আগের মতো মানসম্পন্ন শিক্ষার্থী এবার পাওয়া যায়নি। মান প্রত্যাশিত হয়নি। এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ভর্তি পদ্ধতিতে ফিরলে ছাত্র-শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় সবার জন্যই ভালো হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জাকারিয়া মিয়া বলেন, গুচ্ছ পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি হ্রাসে আয়োজন করা হলেও সেটি হয়নি। এটিকে আরও সুন্দর করা যেতো। এর অসংগতির ফলাফল শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর দিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত নিজস্ব ভর্তি পদ্ধতিতে ফেরা। শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করার অধিকার কারো নেই। ২০ বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে আসবে আর বাকি ৪টি আসবে না, এটি হতে পারেনা। সরকারের উচিত সব বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে গুচ্ছের ব্যবস্থা করা। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ময়মনসিংহে ৩ দিনব্যাপী কৃষি মেলা শুরু

নিজস্ব ভর্তি পদ্ধতিতেই জবির পূর্বের মান ফিরবে?

প্রকাশিত : ০৭:৫৫:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ মার্চ ২০২২

২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে প্রথমবারের মতো দেশের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তিপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। তবে গুচ্ছ ভর্তিপরীক্ষার নানান অসংগতি ও ভোগান্তির সীমাহীন প্রভাব সবকিছু ছাপিয়ে সবশেষে পড়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রেও। অন্যান্য বছর নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা ও শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতো বিশ্ববিদ্যালয়টি।

তবে এবার চিত্র ছিল ভিন্ন। দশটি মেধাতালিকা দিয়েও কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার্থী না পাওয়ায় ১৫০টি আসন ফাঁকা রেখেই ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে দেশের শীর্ষ স্থানীয় এই বিশ্ববিদ্যালয়টি।

দেশের শীর্ষ ৪ বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে না আসায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়েও প্রশ্ন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের। এদিকে নামমাত্র নাম্বার পেয়ে শিক্ষার্থীদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া বিগত বছরগুলোর সব অর্জনকে ম্লান করেছে বলে দাবি শিক্ষকদের। একইসাথে মানসম্মত শিক্ষার্থী পেতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বের মান ফেরাতে এবার থেকে আবারও নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পরামর্শ তাদের।

সূত্র জানায়, দেশের সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে সর্বপ্রথম বিবিএ ও স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা লিখিত পদ্ধতিতে নেওয়া শুরু করে। সেসময় থেকে শিক্ষার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করে কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে প্রথম ধাপের প্রাথমিক আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট
ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী প্রাথমিক আবেদনকারীদের মধ্য হতে যোগ্যদের চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা হয়।

এই পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধার প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায় ব্যপকভাবে। পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় লিখিত ভর্তি পরীক্ষা প্রচলন করে।

তবে পরপর দুই বছর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে ব্যাপক সাড়া ফেললেও ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান।

গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের সার্বিক ভোগান্তি হ্রাস ও সুবিধার্থে আয়োজনের কথা বললেও প্রকৃত পক্ষে তার চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। শুরুতে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সুবিধা, যাতায়াত সুবিধা, থাকা-খাওয়ার সুবিধা সহ সার্বিক ভোগান্তি হ্রাসে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানায় আয়োজক কমিটি। তবে বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট শুরুতেই বাদ দেয়া, পরীক্ষার ফি আচমকাই বাড়িয়ে ফেলা, কর্মদিবসে পরীক্ষার তারিখ ফেলায় তীব্র যানজট, নিজের পছন্দের কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে না পারা এবং সর্বশেষ মানবিক ও বাণিজ্য অনুষদের পরীক্ষার ফলাফলে তীব্র অসংগতিতে সাধের গুচ্ছই তীব্র ভোগান্তির কারণ হয় হাজারো ভর্তিচ্ছুর জন্য।

এদিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় অন্য ৪ বিশ্ববিদ্যালয়- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে না আসায় বাধে বিপত্তি। এক্ষেত্রে গুচ্ছের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বাতন্ত্র্য বিলীন হয়ে আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে কিনা? এমন প্রশ্নও তোলেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

আবার দেশের শীর্ষ স্থানীয় ৪ বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে না আসায়, গুচ্ছে আসা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মানের দিক থেকে নিম্ন স্থনের বলেও মনে করছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের দাবি, অতি অল্পসময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় যতটা এগিয়ে গিয়েছিল, গুচ্ছে যাওয়ায় অনেকটা আবার পিছিয়ে গেছে। গুচ্ছ পদ্ধতির অসংগতির ফলেই এবার শিক্ষার্থী সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বারবার গণ সাক্ষাৎকার দেওয়ায় এখানে মেধার কোন মূল্যায়ন হয়নি। যারা নাম্বার পেয়েছে তারাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে এবার।

এদিকে গত ১৮ মার্চ গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদেয় নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। গুচ্ছে এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে কিনা? এমন মতামতের জন্য সময় চেয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দীন বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় খুব কম সময়ে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় হতে পেরেছিল নিজস্ব ভর্তি পদ্ধতির জন্য। কিন্তু গুচ্ছে নানান অসংগতি ছিল। এর প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টি অনেকটা পিছিয়ে গেছে। এবার শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রেও এটি ফুটে উঠেছে।

তিনি বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্ট্যান্ডার্ড মানের শিক্ষক রয়েছে কিন্তু আগের মতো মানসম্পন্ন শিক্ষার্থী এবার পাওয়া যায়নি। মান প্রত্যাশিত হয়নি। এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ভর্তি পদ্ধতিতে ফিরলে ছাত্র-শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় সবার জন্যই ভালো হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জাকারিয়া মিয়া বলেন, গুচ্ছ পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি হ্রাসে আয়োজন করা হলেও সেটি হয়নি। এটিকে আরও সুন্দর করা যেতো। এর অসংগতির ফলাফল শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর দিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত নিজস্ব ভর্তি পদ্ধতিতে ফেরা। শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করার অধিকার কারো নেই। ২০ বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে আসবে আর বাকি ৪টি আসবে না, এটি হতে পারেনা। সরকারের উচিত সব বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে গুচ্ছের ব্যবস্থা করা। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর