গাজা সীমান্তে নতুন করে বিক্ষোভে ইসরাইলী বাহিনীর গুলিতে আরো ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এসময় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরাইলের সেনাবাহিনী বলেছে, বিক্ষোভকারীরা সীমান্তের বেড়া ভেঙে ফেলার চেষ্টা করলে সৈন্যরা গুলি ছোড়ে।
১৯৪৮ সালে শরণার্থী হওয়া লাখ লাখ মানুষকে নিজ ভূমিতে ফেরার অধিকারের দাবিতে শুক্রবার অষ্টম দিনের মতো ইসরাইল সীমান্তে ফিলিস্তিনিরা প্রতিবাদ সমাবেশ করলে সেনারা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এই ভূমি বর্তমানে ইসরাইলের দখলে রয়েছে।
ইসরাইলের অভিযোগ, গাজার ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস হামলা চালানোর উদ্দেশ্য নিয়ে সীমান্তে বিক্ষোভ করছে।
শুক্রবার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছেন, ইসরাইলি বাহিনীর ছোড়া গুলিতে অন্তত ২৯৩ জন আহত হয়েছে। এছাড়া টিয়ার গ্যাসসহ অন্যান্য কারণে শত শত লোক আহত হয়েছে।
এ নিয়ে গত আট দিনে গাজায় ৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও আড়াই হাজারের বেশি আহত হলো। গত সপ্তাহেই নিহত হয়েছে ২১ ফিলিস্তিনি।

‘ল্যান্ড ডে’ বা ভূমি দিবসের ৪২তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩০ মার্চ থেকে গাজা-ইসরাইল সীমান্তে শুরু হওয়া বিক্ষোভে অংশ নেন হাজারো ফিলিস্তিনি। ওই দিন ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১৬ ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী নিহত ও এক হাজার ৫০০ জন আহত হয়।
এরপর থেকে গত এক সপ্তাহ ধরেই গাজায় বিক্ষোভ চলছে। তবে গতকাল শুক্রবারের বিক্ষোভে মানুষের উপস্থিতি বেশি ছিল। ইসরাইল সীমান্তে এখনো স্নাইপারদের মোতায়েন রাখা হয়েছে।
এদিন খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চলের সংঘর্ষে প্রথম একজন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর আসে। নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে রয়েছে ১৬ ও ১৭ বছরের দুই কিশোর।
ফিলিস্তিনিরা প্রতি বছরের ৩০ মার্চকে ‘ভূমি দিবস’ হিসেবে পালন করে। ১৯৭৬ সালের এই দিনে ফিলিস্তিনিরা তাদের জমি দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করার সময় ইসরাইলি সৈন্যদের গুলিতে ছয়জন নিহত হয়।
ছ’সপ্তাহব্যাপী এই বিক্ষোভ শেষ হবে আগামী ১৫ মে, এই দিনটিকে ফিলিস্তিনিরা ‘নাকবা’ বা বিপর্যয় দিবস হিসেবে পালন করে। ১৯৪৮ সালের ওই দিনে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি তাদের বাড়িঘর ফেলে চলে আসতে বাধ্য হয়েছিল ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর। সূত্র: বিবিসি ও আল জাজিরা
























