১১:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

‘পরীক্ষা কেন্দ্রেই মিলত প্রশ্নপত্রের সমাধান’

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. আবদুল বাতেন জানিয়েছেন, পরীক্ষার দিনে চুক্তিবদ্ধ পরীক্ষার্থীদের কানে ও বাহুতে বিশেষ কায়দায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস স্থাপন করে পরীক্ষা কেন্দ্রেই প্রশ্নপত্রের সমাধান মিলত। ব্যাংক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি করার ঘটনায় পুলিশ তিন ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ১০ জনকে আটক করা হয়।

শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি জানান, শুক্রবার দিনভর রাজধানীর মিরপুর, নিউমার্কেট ও ফার্মগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে সুমন (পুবালী ব্যাংক), অসীম কুমার দাস (সোনালী ব্যাংক) ও মো. সোহেল আকন্দ (বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক) এবং মো. জহিরুল ইসলাম, সাদ্দাতুর রহমান ওরফে সোহান, মো. নাদিমুল ইসলাম, মো. এনামুল হক ওরফে শিশির, শেখ তারিকুজ্জামান, অর্ণব চক্রবর্তী ও মো. আরিফুর রহমান ওরফে শাহিন।

আটকদের কাছ থেকে ক্ষুদ্র ব্যাটারী ও ইয়ারফোনসহ ১৩টি বিশেষ ধরনের ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে আব্দুল বাতেন বলেন, জনৈক পুলকেশ দাস ওরফে বাচ্চু এই চক্রের মূল হোতা। সে তার অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী জনৈক কার্জনের সহযোগিতায় এই বিশেষ ডিভাইসগুলো সংগ্রহ করে। অন্যরা পরীক্ষার্থী সংগ্রহ ও তাদের সঙ্গে চুক্তি করে।

তিনি বলেন, নির্দিষ্ট পরীক্ষার দিনে চুক্তিবদ্ধ পরীক্ষার্থীদের কানে ও বাহুতে বিশেষ কায়দায় এই ইলেকট্রনিক ডিভাইসটি স্থাপন করা হয়। এ কায়দায় পরীক্ষার্থী কেবলমাত্র কল রিসিভ করতে পারে কিন্তু বাইরে কোনো কল করতে পারে না। এই চক্রের সদস্যরা পরীক্ষার হলের বাইরে থেকে এই ডিভাইসে কল করে পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে। প্রশ্ন সংগ্রহের পর চক্রের সদস্যরা দ্রুত উত্তর বের করে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর সঙ্গে থাকা ডিভাইসের মাধ্যমে সরবরাহ করে।

তিনি আরো বলেন, আটকরা ৭ থেকে ৮ বছর যাবৎ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় এ প্রক্রিয়ায় অপরাধ করে পরীক্ষার্থীদের নিকট হতে মোটা অংকের টাকা নেয় বলে জানায়।

গত বছর পাবলিক পরীক্ষাগুলোর প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পর এবার এসএসসি পরীক্ষায়ও প্রায় প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল।

এরপর এই মাসে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে এবং এখনো পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

>>রাজধানীতে প্রশ্নফাঁস চক্রের ১০ সদস্য আটক

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কৃষকের মেরুদণ্ড শক্তশালী হলে জাতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী হবে: ফারজানা শারমিন পুতুল

‘পরীক্ষা কেন্দ্রেই মিলত প্রশ্নপত্রের সমাধান’

প্রকাশিত : ০৪:০৪:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ এপ্রিল ২০১৮

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. আবদুল বাতেন জানিয়েছেন, পরীক্ষার দিনে চুক্তিবদ্ধ পরীক্ষার্থীদের কানে ও বাহুতে বিশেষ কায়দায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস স্থাপন করে পরীক্ষা কেন্দ্রেই প্রশ্নপত্রের সমাধান মিলত। ব্যাংক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি করার ঘটনায় পুলিশ তিন ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ১০ জনকে আটক করা হয়।

শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি জানান, শুক্রবার দিনভর রাজধানীর মিরপুর, নিউমার্কেট ও ফার্মগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে সুমন (পুবালী ব্যাংক), অসীম কুমার দাস (সোনালী ব্যাংক) ও মো. সোহেল আকন্দ (বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক) এবং মো. জহিরুল ইসলাম, সাদ্দাতুর রহমান ওরফে সোহান, মো. নাদিমুল ইসলাম, মো. এনামুল হক ওরফে শিশির, শেখ তারিকুজ্জামান, অর্ণব চক্রবর্তী ও মো. আরিফুর রহমান ওরফে শাহিন।

আটকদের কাছ থেকে ক্ষুদ্র ব্যাটারী ও ইয়ারফোনসহ ১৩টি বিশেষ ধরনের ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে আব্দুল বাতেন বলেন, জনৈক পুলকেশ দাস ওরফে বাচ্চু এই চক্রের মূল হোতা। সে তার অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী জনৈক কার্জনের সহযোগিতায় এই বিশেষ ডিভাইসগুলো সংগ্রহ করে। অন্যরা পরীক্ষার্থী সংগ্রহ ও তাদের সঙ্গে চুক্তি করে।

তিনি বলেন, নির্দিষ্ট পরীক্ষার দিনে চুক্তিবদ্ধ পরীক্ষার্থীদের কানে ও বাহুতে বিশেষ কায়দায় এই ইলেকট্রনিক ডিভাইসটি স্থাপন করা হয়। এ কায়দায় পরীক্ষার্থী কেবলমাত্র কল রিসিভ করতে পারে কিন্তু বাইরে কোনো কল করতে পারে না। এই চক্রের সদস্যরা পরীক্ষার হলের বাইরে থেকে এই ডিভাইসে কল করে পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে। প্রশ্ন সংগ্রহের পর চক্রের সদস্যরা দ্রুত উত্তর বের করে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর সঙ্গে থাকা ডিভাইসের মাধ্যমে সরবরাহ করে।

তিনি আরো বলেন, আটকরা ৭ থেকে ৮ বছর যাবৎ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় এ প্রক্রিয়ায় অপরাধ করে পরীক্ষার্থীদের নিকট হতে মোটা অংকের টাকা নেয় বলে জানায়।

গত বছর পাবলিক পরীক্ষাগুলোর প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পর এবার এসএসসি পরীক্ষায়ও প্রায় প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল।

এরপর এই মাসে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে এবং এখনো পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

>>রাজধানীতে প্রশ্নফাঁস চক্রের ১০ সদস্য আটক