সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর একটি সংঘবদ্ধ চক্র ২০২০ সাল হতে অদ্যবধি পর্যন্ত শহরের চলাচলরত মিরপুরলিংক,শিকড় পরিবহন, খাজাবাবা পরিবহন, প্রজাপতি পরিবহনসহ অন্যান্য পরিবহনের বাসে যাত্রীবেসে উঠে এবং অভিনবকায়দায় বাসের ব্লু-বুক ও রেজিষ্ট্রেশন সনদ সহ অন্যান্য কাগজপত্র চুরি করে। অতঃপর তারা গাড়ীর মালিক, ম্যানেজার ওড্রাইবারদের নম্বর সংগ্রহ করে চোরাইকৃত প্রতিটি গাড়ীর কাগজের জন্য ১০,০০০/-টাকা করে চাঁদা দাবী করে।
মালিকগন প্রথমদিকে চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে চক্রটি গাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করে ক্ষতিসাধন ও চালকদেরকে প্রাণ নাশেরহুমকি প্রদান করে। কাগজপত্র বিহীন অবস্থায় রাস্তায় বাস চালাতে না পারায় বাসের মালিকগন চক্রের দেয়া মোবাইল ফোনেরমাধ্যমে কথা বলে চাঁদার পরিমান কমিয়ে চোরাইকৃত প্রতি গাড়ীর কাগজের জন্য ৫/৭ হাজার টাকা তাদের দেয়া বিভিন্ন বিকাশেরমাধ্যমে প্রদান করে। তখন চক্রটি টাকা পেয়ে কিছু গাড়ীর কাগজপত্র ফেরৎ দেয় এবং কিছু কাগজপত্র আটকে রাখে।
আটকে রাখা গাড়ীর কাগজপত্র ফেরৎ দেয়ার শর্তে মিরপুর লিংক, খাজাবাবা ও বিকল্প পরিবহন বাসের মালিকদেরকে মাসিকচাঁদা দিতে বাধ্য করে। অন্যান্য মালিকগন মাসিক চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় চক্রের মূল হোতা তুফান নাম পরিচয় দিয়েমালিকদেরকে এমন হুমকি প্রদান করে যে “আমি তুফান, আমাকে ঢাকা শহরের অধিকাংশ পরিবহনের মালিকেরা মাসিক চাঁদাদেয়, কোন পরিবহনের মালিক মাসিক চাঁদা না দিলে আমি ঐ সমস্ত গাড়ীর কাগজ চুরি করেই যাব, ঢাকা শহরের কোন পুলিশআমাকে গ্রেফতার করতে পারবে না”। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গাড়ীর মালিকগন ঢাকার বিভিন্ন থানায় বিষয়টি অবহিতকরে সাধারণ ডায়েরী করেন। কিন্তু তাতেও কোন ফল না পাওয়ায় বাসের মালিকগণ বিষয়টি সিআইডি পুলিশকে অবহিতকরেন।
সিআইডি, ঢাকা মেট্রো-পশ্চিমের একটি টীম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় কৌশলে ১৬ জুলাই ২০২২ ইং তারিখ অপরাহ্নে ঢাকারমোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে তুফান পরিচয়দানকারী সহ মূল হোতা রাকিব মিয়া অরফে তুফান ও তার ০৩(তিন) সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের নিকট থেকে অনেকগুলো বাসের চোরাই রেজিষ্ট্রেশন সনদ, ফিটনেস সনদ ও ট্যাক্সটোকেন উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা স্বীকার করে দীর্ঘদিন যাবৎ তারা নিজেদের পরিচয় গোপন করার লক্ষ্যে ঢাকা শহরের বিভিন্ন আবাসিকএলাকা হতে মোবাইল চুরি করে এবং ঐ মোবাইল দিয়ে ফোন করে বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করে বিপুল পরিমানটাকা হাতিয়ে নেয়। বাসের মালিকগন চক্রটির কার্যক্রমে তাদের কাছে জিম্মি ও ভীতসন্ত্রস্ত হতো প্রতিনিয়ত।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন,রাকিব মিয়া তুফান(২৭), মোঃ শুকুর আলী(২৮)মোঃ হৃদয় হোসেন(২১)মোঃ শামিম(২৫)ঢাকা।গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি কাজে ব্যবহৃত সীম সহ ০২(দুই)টি মোবাইল সেট।বিভিন্ন বাসের চোরাই উদ্ধারকৃতরেজিষ্ট্রেশন সনদ, ফিটনেস সনদ ও ট্যাক্স টোকেন এর মূল কপি।
উক্ত বিষয়ে সাংবাদিক ব্রিফ করেন মোঃ ইমাম হোসাইন,এডিশনাল ডিআইজি ঢাকা মেট্রো সিআইডি।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

















