খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত বিএনপির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি একথা বলেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে ৬ সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল ইসি সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীসহ সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়।
এই ব্যাপারে হেলালুদ্দিন আহমেদ জানান, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পরে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। এছাড়া দুই সিটিতেই পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্তে ইসি অটল রয়েছে।
ইভিএম ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি ইভিএম ব্যবহারে আপত্তি তুলেছিল। কমিশন বলেছে, আইন ও বিধিতে প্রযুক্তি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কমিশন থেকে বিএনপির প্রতিনিধি দলকে বলা হয়েছে এই প্রযুক্তি খুবই আধুনিক। এটি হ্যাক করার কোনো সুযোগ নেই। এই প্রযুক্তি সম্পর্কে কোনো সন্দেহ থাকলে আপনারা এসে এটি দেখুন।
ইসি সচিব এসময় রংপুর সিটি নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন।
বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদাকে লিখিত দাবি জানায় প্রতিনিধিদল।
এ দাবিনামায় উল্লেখ করা হয়, দুই সিটি নির্বাচনের সাতদিন আগে থেকে নির্বাচনী এলাকায় টহলসহ প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সেনা মোতায়েন করতে হবে।
বিএনপি গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুণ অর রশীদকে প্রত্যাহার করারও দাবি জানিয়েছে। কেননা, নির্বাচনী অনিয়মের কারণে ২০১৬ সালে কমিশন তাকে প্রত্যাহার করেছিল। তিনি ২০১১ সালে ৬ জুলাই সেই সময়ের বিরোধীদলীয় চিপ হুইপ ও বিএনপি নেতা জয়নুল আবদীন ফারুককে পিটিয়েছিলেন। এছাড়া নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত করার কথাও দাবিনামায় উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, বিএনপি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তাকে বদলি ও প্রত্যাহারের কথা বলেছে। তারা নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের দিয়ে ভোট গ্রহণের কথা বলেছে। তাদের লিখিত দাবিতে গাজীপুরের এসপি হারুন উর রশিদের কথাও আছে। তবে তার বিষয়ে কমিশন থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়া হয়নি।
তিনি আরো বলেন, কমিশনের আইন ও বিধি মেনেই বিভাগীয় কমিশনারকে কোঅর্ডিনেটর করে নির্বাচনে সহযোগিতার জন্য সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ইসিতে যান। এই প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ।
উল্লেখ্য, আগামী ১৫ মে ওই দুই সিটি কর্পোরশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল ১২ এপ্রিল, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হয়েছে ১৫ ও ১৬ এপ্রিল। আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে শেষ দিন ২৩ এপ্রিল। এরপর ২৪ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে।

























