০১:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

মা‌কে হত‌্যা করা ঘাতক ডাক্তার‌দের স‌র্বোচ্চ বিচার দাবি পরিচালক রফিক শিকদারের

প্রায় চার বছর আগে চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক শিকদারের মা রওশন আরা মারা গেছেন। চিকিৎসকের অবহেলার কারণে মায়ের মৃত্যু হয়েছে, এমনই অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়াও অপা‌রেশ‌নের না‌মে কিডনি চু‌রির অভিযোগও তুলেন এই নির্মাতা।

রোববার (৭ আগস্ট) চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট চত্বরে মামলার ফাইল হাতে তোলা একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন রফিক শিকদার। তিনি লিখেছেন, ‘মা হত‌্যার বিচা‌রের দাবি‌তে এখ‌নও ঘুর‌ছি আদালত থে‌কে আদাল‌তে। অপা‌রেশ‌নের না‌মে কিডনি চু‌রির মাধ‌্যমে মা‌কে হত‌্যা করা ঘাতক ডাক্তার‌দের স‌র্বোচ্চ বিচার হ‌বে, ইনশাআল্লাহ।’ ‍

রফিক শিকদারের অভিযোগ, স্বাভাবিক কিডনি ভুল করে অপসারণ করে তার মাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) চার চিকিৎসক। ২০১৮ সাল থেকে অভিযোগ করলেও দুই বছর পর মামলা নিয়েছে পুলিশ। ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থানায় এ বিষয়ে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কিডনি জটিলতার কারণে ২০১৮ বিএসএমএমইউ-তে ভর্তি হন রফিক শিকদারের মা রওশন আরা। চিকিৎসকরা তাকে সুস্থ করে তুলতে তার বাম কিডনি কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বিএসএমএমইউ হাসপাতালে রফিক শিকদারের মায়ের অস্ত্রোপচার করেন কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিভাগের প্রধান হাবিবুর রহমান দুলাল। কিন্তু বাম কিডনির সঙ্গে কেটে ফেলা হয় ডান কিডনিও।

এর কিছুদিন পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রওশন আরাকে রাজধানীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষার পর দেখা যায়, তার দুটি কিডনির একটিও নেই। এর দুই মাস পর রওশন আরার মৃত্যু হয়।

এ প্রসঙ্গে বিএসএমএমইউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ‘ওই রোগীর জন্মগতভাবে কিডনি কমপ্লিকেশন (জটিলতা) ছিল। তাছাড়া অপারেশনে রক্তক্ষরণ ও ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ায় বাম কিডনি অপসারণ জরুরি হয়ে পড়েছিল। কিন্তু রোগীর কিডনি দুটি নিম্নমুখী ও সংযুক্ত বা জোড়া লাগানো ছিল; যাকে বলা হয় হর্ষ কিডনি। একটা ফেলতে গেলে আরেকটাও বেরিয়ে আসে। যেটা ডাক্তার দুর্ভাগ্যক্রমে ও অনিচ্ছাকৃতভাবে ফেলে দিয়েছিলেন। কারণ আলট্রাসনোগ্রাম ও সিটি স্ক্যানে বিষয়টি ধরা পড়েনি।’

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

মা‌কে হত‌্যা করা ঘাতক ডাক্তার‌দের স‌র্বোচ্চ বিচার দাবি পরিচালক রফিক শিকদারের

প্রকাশিত : ০৫:৪৮:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ অগাস্ট ২০২২

প্রায় চার বছর আগে চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক শিকদারের মা রওশন আরা মারা গেছেন। চিকিৎসকের অবহেলার কারণে মায়ের মৃত্যু হয়েছে, এমনই অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়াও অপা‌রেশ‌নের না‌মে কিডনি চু‌রির অভিযোগও তুলেন এই নির্মাতা।

রোববার (৭ আগস্ট) চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট চত্বরে মামলার ফাইল হাতে তোলা একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন রফিক শিকদার। তিনি লিখেছেন, ‘মা হত‌্যার বিচা‌রের দাবি‌তে এখ‌নও ঘুর‌ছি আদালত থে‌কে আদাল‌তে। অপা‌রেশ‌নের না‌মে কিডনি চু‌রির মাধ‌্যমে মা‌কে হত‌্যা করা ঘাতক ডাক্তার‌দের স‌র্বোচ্চ বিচার হ‌বে, ইনশাআল্লাহ।’ ‍

রফিক শিকদারের অভিযোগ, স্বাভাবিক কিডনি ভুল করে অপসারণ করে তার মাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) চার চিকিৎসক। ২০১৮ সাল থেকে অভিযোগ করলেও দুই বছর পর মামলা নিয়েছে পুলিশ। ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থানায় এ বিষয়ে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কিডনি জটিলতার কারণে ২০১৮ বিএসএমএমইউ-তে ভর্তি হন রফিক শিকদারের মা রওশন আরা। চিকিৎসকরা তাকে সুস্থ করে তুলতে তার বাম কিডনি কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বিএসএমএমইউ হাসপাতালে রফিক শিকদারের মায়ের অস্ত্রোপচার করেন কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিভাগের প্রধান হাবিবুর রহমান দুলাল। কিন্তু বাম কিডনির সঙ্গে কেটে ফেলা হয় ডান কিডনিও।

এর কিছুদিন পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রওশন আরাকে রাজধানীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষার পর দেখা যায়, তার দুটি কিডনির একটিও নেই। এর দুই মাস পর রওশন আরার মৃত্যু হয়।

এ প্রসঙ্গে বিএসএমএমইউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ‘ওই রোগীর জন্মগতভাবে কিডনি কমপ্লিকেশন (জটিলতা) ছিল। তাছাড়া অপারেশনে রক্তক্ষরণ ও ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ায় বাম কিডনি অপসারণ জরুরি হয়ে পড়েছিল। কিন্তু রোগীর কিডনি দুটি নিম্নমুখী ও সংযুক্ত বা জোড়া লাগানো ছিল; যাকে বলা হয় হর্ষ কিডনি। একটা ফেলতে গেলে আরেকটাও বেরিয়ে আসে। যেটা ডাক্তার দুর্ভাগ্যক্রমে ও অনিচ্ছাকৃতভাবে ফেলে দিয়েছিলেন। কারণ আলট্রাসনোগ্রাম ও সিটি স্ক্যানে বিষয়টি ধরা পড়েনি।’

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ