০৪:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

রক্তচাপের পেছনে অ্যালডোস্টেরন নামক হরমোন দায়ী

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোনো কারণ নেই, যাকে বলে এসেনশিয়াল হাইপারটেনশন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের পেছনে কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো হরমোনজনিত সমস্যা। ১০ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপের পেছনে অ্যালডোস্টেরন নামক হরমোনকে দায়ী করা হয়।

অ্যালডোস্টেরন হরমোনটি নিঃসৃত হয় অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে। এই হরমোনের নিঃসরণ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেলে রক্তে সোডিয়াম আয়ন তথা লবণের পরিমাণ বেড়ে যায়। পাশাপাশি কিডনি দিয়ে নিঃসরণ হতে থাকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম। সোডিয়াম বেড়ে গেলে বেড়ে যায় রক্তচাপ। পটাশিয়াম কমে যাওয়ায় মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। হৃদ্‌স্পন্দন এলোমেলো হয়ে যায়।

পটাশিয়ামের ঘাটতির কারণে ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। এ হরমোনের প্রভাবে রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কখনো কখনো রক্তনালির ভেতর গাত্রে ক্ষতি হওয়ায় কিছু কিছু অঙ্গ বিকল হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিডনি, হৃৎপিণ্ড ও চোখ।

কেন অ্যালডোস্টেরন হরমোন বেড়ে যায়
কোনো কারণে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিতে যদি টিউমার দেখা দেয় অথবা স্ফীত হয়ে যায়, তাহলে সেখান থেকে বেশি অ্যালডোস্টেরন নিঃসরণ হতে থাকে। এমনকি এ গ্রন্থির ক্যানসারও হতে পারে অতিরিক্ত হরমোন নিঃসরণের কারণ।

কাদের এই হরমোন পরীক্ষা করা জরুরি
উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত প্রায় সবারই এই হরমোনের মাত্রা জেনে নেওয়া উচিত। তবে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ তাঁরা—

যাঁরা তরুণ বয়সে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত।

যাঁদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য চার-পাঁচটি ওষুধের প্রয়োজন পড়ে।

যাঁদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা কম।

যাঁদের পরিবারে ৪০ বছরের কম বয়সে স্ট্রোক কিংবা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে।

অন্য কোনো কারণে পরীক্ষা করতে গিয়ে যাঁদের অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিতে টিউমার ধরা পড়েছে।

কীভাবে বোঝা যায়
অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির নিঃসরণ বেশি কি না, এটা পরীক্ষার জন্য রক্তে এই হরমোনের মাত্রা জেনে নিতে হয়। পাশাপাশি রক্তে রেনিন নামক আরেকটি উপাদানের মাত্রাও জেনে নিতে হয়। এ দুটির অনুপাতের ওপর নির্ভর করে অ্যালডোস্টেরন বেশি কি না। আরও কিছু পরীক্ষা–নিরীক্ষা করা প্রয়োজন পড়ে।

চিকিৎসা
অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির টিউমার কিংবা ক্যানসার ধরা পড়লে শল্যচিকিৎসার দরকার হয়।

অন্য কারণে অ্যালডোস্টেরন হরমোন বেড়ে গেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য কার্যকর নির্ধারিত কিছু ওষুধ খেতে হয়।

যেহেতু এ রোগে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যায়, সে জন্য মাত্রা ঠিক রাখার পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ ধরনের ওষুধ খেতে হয়।

এই বিশেষ ধরনের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/হাবিব

জনপ্রিয়

কৃষকের মেরুদণ্ড শক্তশালী হলে জাতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী হবে: ফারজানা শারমিন পুতুল

রক্তচাপের পেছনে অ্যালডোস্টেরন নামক হরমোন দায়ী

প্রকাশিত : ১০:১৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ অগাস্ট ২০২২

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোনো কারণ নেই, যাকে বলে এসেনশিয়াল হাইপারটেনশন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের পেছনে কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো হরমোনজনিত সমস্যা। ১০ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপের পেছনে অ্যালডোস্টেরন নামক হরমোনকে দায়ী করা হয়।

অ্যালডোস্টেরন হরমোনটি নিঃসৃত হয় অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে। এই হরমোনের নিঃসরণ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেলে রক্তে সোডিয়াম আয়ন তথা লবণের পরিমাণ বেড়ে যায়। পাশাপাশি কিডনি দিয়ে নিঃসরণ হতে থাকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম। সোডিয়াম বেড়ে গেলে বেড়ে যায় রক্তচাপ। পটাশিয়াম কমে যাওয়ায় মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। হৃদ্‌স্পন্দন এলোমেলো হয়ে যায়।

পটাশিয়ামের ঘাটতির কারণে ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। এ হরমোনের প্রভাবে রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কখনো কখনো রক্তনালির ভেতর গাত্রে ক্ষতি হওয়ায় কিছু কিছু অঙ্গ বিকল হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিডনি, হৃৎপিণ্ড ও চোখ।

কেন অ্যালডোস্টেরন হরমোন বেড়ে যায়
কোনো কারণে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিতে যদি টিউমার দেখা দেয় অথবা স্ফীত হয়ে যায়, তাহলে সেখান থেকে বেশি অ্যালডোস্টেরন নিঃসরণ হতে থাকে। এমনকি এ গ্রন্থির ক্যানসারও হতে পারে অতিরিক্ত হরমোন নিঃসরণের কারণ।

কাদের এই হরমোন পরীক্ষা করা জরুরি
উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত প্রায় সবারই এই হরমোনের মাত্রা জেনে নেওয়া উচিত। তবে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ তাঁরা—

যাঁরা তরুণ বয়সে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত।

যাঁদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য চার-পাঁচটি ওষুধের প্রয়োজন পড়ে।

যাঁদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা কম।

যাঁদের পরিবারে ৪০ বছরের কম বয়সে স্ট্রোক কিংবা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে।

অন্য কোনো কারণে পরীক্ষা করতে গিয়ে যাঁদের অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিতে টিউমার ধরা পড়েছে।

কীভাবে বোঝা যায়
অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির নিঃসরণ বেশি কি না, এটা পরীক্ষার জন্য রক্তে এই হরমোনের মাত্রা জেনে নিতে হয়। পাশাপাশি রক্তে রেনিন নামক আরেকটি উপাদানের মাত্রাও জেনে নিতে হয়। এ দুটির অনুপাতের ওপর নির্ভর করে অ্যালডোস্টেরন বেশি কি না। আরও কিছু পরীক্ষা–নিরীক্ষা করা প্রয়োজন পড়ে।

চিকিৎসা
অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির টিউমার কিংবা ক্যানসার ধরা পড়লে শল্যচিকিৎসার দরকার হয়।

অন্য কারণে অ্যালডোস্টেরন হরমোন বেড়ে গেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য কার্যকর নির্ধারিত কিছু ওষুধ খেতে হয়।

যেহেতু এ রোগে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যায়, সে জন্য মাত্রা ঠিক রাখার পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ ধরনের ওষুধ খেতে হয়।

এই বিশেষ ধরনের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/হাবিব