কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) রেজিস্ট্রার দপ্তরে নিজ পদে ফিরতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বরাবর চিঠি দিয়েছি নিয়োগপ্রাপ্ত স্থায়ী রেজিস্ট্রার মুজিবুর রহমান মজুমদার। চিঠিতে মৌলিক অধিকার ও সম্মান ফেরত চান তিনি। তবে উপাচার্যের কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হলেও গ্রহণ কপি না দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৫ অক্টোবর কুবির রেজিষ্ট্রার পদে নিয়োগ পায় মুজিবুর রহমান। পরে দুর্নীতিসহ নানা মৌখিক অভিযোগ এনে ২০১৮ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারী পদসহ কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে বদলি করেন তৎকালীন প্রশাসন। পরে একই দিনে রেজিস্ট্রারে চলতি দায়িত্বে নিয়োগ পায় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু তাহের। তৎকালীন উপাচার্যের শেষ সময়ে এসে ড. তাহেরকে রেজিস্ট্রার পদ থেকে সরিয়ে দিতে আন্দোলন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ। পরে উপাচার্যের সাথে সমন্বহীনতার কারণে দায়িত্ব পালনে অস্বস্তিবোধ জানিয়ে পদত্যাগ করেন ড. তাহের। পদত্যাগের পাচঁ মাস পর রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে নিয়োগ পায় ডেপুটি রেজিস্ট্রার আমিরুল হক চৌধুরী।
এদিকে নিজ পদে ফেরত না পেয়ে তৎকালীন ও বর্তমান প্রশাসনকে সাত বার চিঠি দেওয়া হলে কোন ধরণের পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ মুজিবুর রহমানের। রেজিস্ট্রার পদে না থাকা এবং লাইব্রেরীতে বদলী দায়িত্ব পালন পারছেন না উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এই পর্যন্ত কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী রেজিস্ট্রারকে অন্য দপ্তরে বদলী করা হয়েছে এমন উদাহরন বা দৃষ্টান্ত নেই। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন- ২০০৬ (ধারা-১৩) মোতাবেক রেজিস্ট্রার সংবিধিবদ্ধ পদ। আমি রেজিস্ট্রার হিসেবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত থাকা সত্ত্বেও অন্য পদের ব্যক্তিকে রেজিস্ট্রার ভারপ্রাপ্ত/অতিরিক্ত/চলতি দায়িত্ব দিয়ে রেজিস্ট্রারের কার্যাবলী সম্পাদন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বদলির আদেশের ফলে আমি আমার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এতে সামাজিক, পারিবারিক, শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করতে না দেয়া আইনের পরিপন্থী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত কাউকে দায়িত্ব পালন করতে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৬, জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নির্দেশকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে মুজিবুর রহমান বলেন, আমি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পেয়েছি, আমি পদে ফিরতে চাই। আমি একাধিকবার আবেদন করেছি কিন্তু কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। আমি নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। আমার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হয়তো আইনি পদক্ষেপ নিতে পারি। তিনি আরও বলেন, আমি উপাচার্য বরাবর আবেদন করলেও আবেদন গ্রহণ করেনি উপাচার্য দপ্তর।
এদিকে চিঠির গ্রহণ কপি না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্যের পিএস (চলতি দায়িত্ব) হোসাইন মোরশেদ ফরহাদ বলেন, উপাচার্যের নির্দেশ ছাড়া আমি রিসিভ কপি দিতে পারিনা।
এবিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন বলেন, রেজিস্ট্রারকে পদসহ অন্য দপ্তরে বদলি করে তৎকালীন প্রশাসন। আমি তো সবকছিু পরিবর্তন করে দিতে পারিনা। তখন উপাচার্য কিজন্য বদলি করেছে জানতে হবে। এখন যেহেতু আবেদন করছে বিষয়টি দেখব। চিঠি গ্রহণ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব আবেদন তো আমার কাছে থাকে। আমি কাউকে রিসিভ কপি দিই না।
ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জামিনুর রহমান বলেন, এরকম কোনো অভিযোগ না আসায় বিষয়টি জানতাম না। এখন যেহেতু জানলাম, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় আইনটি দেখব।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ
০৭:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম :
কুবি উপাচার্যকে চিঠি দিলেন কুবির সাবেক রেজিস্ট্রার
-
কুবি প্রতিনিধি: আবু জাফর - প্রকাশিত : ০৫:২১:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
- 67
ট্যাগ :
জনপ্রিয়


























