১২:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

১৭-১৮ বছর বয়সিদের গর্ভধারণ নিয়ে চিকিৎসকদের শঙ্কা

গর্ভধারণ সংক্রান্ত চিকিৎসা করতে আসা নারীদের বেশিরভাগই ১৭-১৮ বছর বয়সি। এসব নারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের কারো কারো বিয়ে হয়েছে ১৩-১৪ বছর বয়সে। এসব নারীদের নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এমনকি তাদের মধ্যেও জরায়ুমুখ ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকাল রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে হওয়া ‘ক্যারসিনোমা সারভিক্স’ (জরায়ু ক্যান্সার) বিষয়ে সেমিনারে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এ সময় কলেজটিতে হওয়া ক্যান্সারের দু’টি চিকিৎসার সার্বিক চিত্র ও রোগীর পরিস্থিতি সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়। পাশাপাশি জানানো হয় যে, খুব কম খরচে এ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সেমিনারে আরো জানানো হয়, সারা বিশ্বে প্রতি বছর তিন লাখের বেশি নারী মারা যাচ্ছেন জরায়ু ক্যান্সারে। বাংলাদেশে প্রতি বছর মারা যান প্রায় পাঁচ হাজার নারী। সচেতনার অভাবে সময়মতো চিকিৎসা করানো হয় না বলে মৃত্যু হার বেশি বলে মনে করা হয়।
কয়েকমাস আগে থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আট থেকে দশজন রোগীর জরায়ু ক্যান্সারের চিকিৎসা (অস্ত্রোপচার) করা হয়েছে। তাদেরকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলতে কেমোথেরাপিসহ অন্যান্য চিকিৎসা চলমান। তবে ওইসব রোগীরা এখন ভালো আছে।

মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান ডা. মো. আবু সাঈদের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজের গাইনোকোলজি ওনকোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপাক ডা. সাবেরা খাতুন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক ডা. ফৌজিয়া হোসাইন, সহকারি অধ্যাপক কাশফিয়া খাতুন, সহকারি অধ্যাপক ডা. নাসিমা আক্তার, ডা. রণজিৎ বিশ্বাস, ডা. ফোজিয়া আক্তার, ডা. মারিয়া পারভীন, ডা. জিনান রেজা, ডা. আইরিন আক্তার প্রমুখ।

মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. রণজিৎ বিশ্বাস জানান, সার্বিক সুবিধার ব্যবস্থা থাকায় এখানে জরায়ু মুখ ক্যান্সারের চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে। কলেজের চেয়ারম্যান ডা. আবু সাঈদ এ বিষয়ে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।

গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ফৌজিয়া জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিকিৎসা দিতে গিয়ে দেখা যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ১৭-১৮ বছর বয়সি মেয়েরা গর্ভধারণ করে চিকিৎসা নিতে আসছে। এক্ষেত্রে যতদূর সম্ভব সচেতনতা গড়ে তুলতে আমাদেরকেও কাজ করতে হবে।

অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন বলেন, ‘ডা. রণজিৎ বিশ্বাসের কেসস্টাডিতে যে বর্ণনা দেখলাম তাতে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের চিকিৎসা ভালোভাবেই সম্পন্ন করা হয়েছে। মফস্বল এলাকাতেও এ ধরণের চিকিৎসা সেবা পাওয়াটা চিকিৎসা ক্ষেত্রে বড় একটা সাফল্য। সেবাটা অব্যাহত রাখতে পারলে এখানকার মানুষ উপকৃত হবেন। ’ ১৭-১৮ বছর বয়সিদের গর্ভধারণের যে তথ্য উঠে এসেছে সেটি উদ্বেগজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান ডা. মো. আবু সাঈদ বলেন, ‘কারো জন্য কিছু একটা করতে পারা আমাদের টার্গেট। আর কিছু করতে পারলেই যেন আমাদেরকে সফল মনে হয়। জরায়ুমুখ ক্যান্সারের যে চিকিৎসা চালু করা হয়েছে সেটাকে আরো বেশি কার্যকর করতে সব ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বর-কনেসহ নিহত এক পরিবারের ৯ জনের দাফন সম্পন্ন

১৭-১৮ বছর বয়সিদের গর্ভধারণ নিয়ে চিকিৎসকদের শঙ্কা

প্রকাশিত : ০৯:১৬:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

গর্ভধারণ সংক্রান্ত চিকিৎসা করতে আসা নারীদের বেশিরভাগই ১৭-১৮ বছর বয়সি। এসব নারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের কারো কারো বিয়ে হয়েছে ১৩-১৪ বছর বয়সে। এসব নারীদের নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এমনকি তাদের মধ্যেও জরায়ুমুখ ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকাল রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে হওয়া ‘ক্যারসিনোমা সারভিক্স’ (জরায়ু ক্যান্সার) বিষয়ে সেমিনারে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এ সময় কলেজটিতে হওয়া ক্যান্সারের দু’টি চিকিৎসার সার্বিক চিত্র ও রোগীর পরিস্থিতি সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়। পাশাপাশি জানানো হয় যে, খুব কম খরচে এ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সেমিনারে আরো জানানো হয়, সারা বিশ্বে প্রতি বছর তিন লাখের বেশি নারী মারা যাচ্ছেন জরায়ু ক্যান্সারে। বাংলাদেশে প্রতি বছর মারা যান প্রায় পাঁচ হাজার নারী। সচেতনার অভাবে সময়মতো চিকিৎসা করানো হয় না বলে মৃত্যু হার বেশি বলে মনে করা হয়।
কয়েকমাস আগে থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আট থেকে দশজন রোগীর জরায়ু ক্যান্সারের চিকিৎসা (অস্ত্রোপচার) করা হয়েছে। তাদেরকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলতে কেমোথেরাপিসহ অন্যান্য চিকিৎসা চলমান। তবে ওইসব রোগীরা এখন ভালো আছে।

মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান ডা. মো. আবু সাঈদের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজের গাইনোকোলজি ওনকোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপাক ডা. সাবেরা খাতুন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক ডা. ফৌজিয়া হোসাইন, সহকারি অধ্যাপক কাশফিয়া খাতুন, সহকারি অধ্যাপক ডা. নাসিমা আক্তার, ডা. রণজিৎ বিশ্বাস, ডা. ফোজিয়া আক্তার, ডা. মারিয়া পারভীন, ডা. জিনান রেজা, ডা. আইরিন আক্তার প্রমুখ।

মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. রণজিৎ বিশ্বাস জানান, সার্বিক সুবিধার ব্যবস্থা থাকায় এখানে জরায়ু মুখ ক্যান্সারের চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে। কলেজের চেয়ারম্যান ডা. আবু সাঈদ এ বিষয়ে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।

গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ফৌজিয়া জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিকিৎসা দিতে গিয়ে দেখা যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ১৭-১৮ বছর বয়সি মেয়েরা গর্ভধারণ করে চিকিৎসা নিতে আসছে। এক্ষেত্রে যতদূর সম্ভব সচেতনতা গড়ে তুলতে আমাদেরকেও কাজ করতে হবে।

অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন বলেন, ‘ডা. রণজিৎ বিশ্বাসের কেসস্টাডিতে যে বর্ণনা দেখলাম তাতে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের চিকিৎসা ভালোভাবেই সম্পন্ন করা হয়েছে। মফস্বল এলাকাতেও এ ধরণের চিকিৎসা সেবা পাওয়াটা চিকিৎসা ক্ষেত্রে বড় একটা সাফল্য। সেবাটা অব্যাহত রাখতে পারলে এখানকার মানুষ উপকৃত হবেন। ’ ১৭-১৮ বছর বয়সিদের গর্ভধারণের যে তথ্য উঠে এসেছে সেটি উদ্বেগজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান ডা. মো. আবু সাঈদ বলেন, ‘কারো জন্য কিছু একটা করতে পারা আমাদের টার্গেট। আর কিছু করতে পারলেই যেন আমাদেরকে সফল মনে হয়। জরায়ুমুখ ক্যান্সারের যে চিকিৎসা চালু করা হয়েছে সেটাকে আরো বেশি কার্যকর করতে সব ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’