০৮:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

কুবিতে ইউজিসির নির্দেশনা ছাড়াই ভারপ্রাপ্ত-চুক্তিতে চলছে বিভিন্ন দপ্তর

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উল্লেখযোগ্য দপ্তর সমূহে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) স্থায়ী নিয়োগের নির্দেশনার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও মানা হচ্ছে না সে নির্দেশনা। অন্যদিকে চুক্তিভিত্তিক ও ভিসির পছন্দের জুনিয়র কর্মকর্তাকে প্রমোশন দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান করে চালানো হচ্ছে উল্লেখযোগ্য দপ্তর। ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বাড়ছে যেমন ক্ষোভ, পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য ৪ টি পদের ৩ টিই চলছে ভারপ্রাপ্ততে এবং ১ টি চুক্তিতে।

জানা যায়, চলতি বছরের ২০ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক ১০ বছর পূর্ণ করেছে এমন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জামিনুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি রেজিস্ট্রার বরাবর পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, কোন কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব), পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ পদে ভারপ্রাপ্ত, অতিরিক্ত দায়িত্ব, চলতি দায়িত্ব প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারী/সামরিক কর্মকর্তা ও ক্ষেত্রবিশেষে কলেজের শিক্ষকগণকে চুক্তিভিত্তিক বা খণ্ডকালীন হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পাদনে বিঘ্নতা সৃষ্টি হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন/প্রবিধান অনুযায়ী উল্লিখিত পদ সমূহে পূর্ণকালীন নিয়োগ প্রদান প্রয়োজন।

কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পার হলেও এখনো উল্লেখযোগ্য পদগুলোতে কাউকে স্থায়ী নিয়োগ দিতে পারেনি। বর্তমানে প্রশাসনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, রেজিস্ট্রার পদে রয়েছেন মো. আমিরুল হক চৌধুরী (ভারপ্রাপ্ত), পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী (ভারপ্রাপ্ত), পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) পদে কামাল উদ্দিন ভূইয়া (ভারপ্রাপ্ত) ও পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে রয়েছেন দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়োগ পাওয়া সাবেক রাজউক চেয়ারম্যান মো. সফিকুল ইসলাম। যাকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়।

তবে রেজিস্ট্রার পদে বর্তমান লাইব্রেরিয়ান মো. মজিবুর রহমান মজুমদারকে ২০০৭ সালে স্থায়ী নিয়োগ দেয়া হলেও ২০১৮ সালে তার নামে দূর্নীতি ও জামাত সংশ্লিষ্টতার মৌখিক অভিযোগ এনে লাইব্রেরিতে বদলি করেন তৎকালীন প্রশাসন। এরপর রেজিস্ট্রার পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ড. মো. আবু তাহের দায়িত্ব পালন করলেও ভিসির সঙ্গে সমন্বয়হীনতার কারণে দায়িত্ব পালনে অস্বস্তিবোধ জানিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি।

লাইব্রেরিয়ান পদে বদলির বিষয়ে জানতে কথা হয় মজিবুর রহমানের সাথে কথা হয় দৈনিক নয়া শতাব্দীর। তিনি বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৬ ধারা (১৩) অনুযায়ী রেজিস্ট্রার হলো একটি সংবিধিবদ্ধ পদ। এই পদে আমাকে স্থায়ী রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেয়া সত্ত্বেও জুনিয়র একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে নিয়োগ দেয়া হলো আইনের লংঘন। আমি এই বিষয়ে ভিসি বরাবর ৭ বার চিঠি পাঠিয়েও কোন উত্তর পাইনি।
তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (বিধি-১/এস-১১/৯২-৩০ (১৫০), শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির নির্দেশনা কে উপেক্ষা করেছে পাশাপাশি শূন্যপদে নিয়োগের স্মারক গুলোও মানা হয়নি।

ইউজিসির চিঠি দেয়ার পরও ৫ মাসের মধ্যে কেন উল্লেখযোগ্য পদগুলোতে নিয়োগ দেয়া হয়নি এবং কবে নাগাদ নিয়োগ দেয়া হবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে, ভিসি অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তার দপ্তরে গেলে তিনি প্রতিবেদকের সাথে কথা বলবেন না জানিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন।

এবিষয়ে ইউজিসির সদস্য ও সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান বলেন, এটা শুধু আমাদের নির্দেশনা না মন্ত্রনালয়েরই সিদ্ধান্ত। এবিষয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে একবার চিঠি পাঠিয়েছি তারা জবাব দিয়েছে। আমরা সেটা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এখন আমরা আবার আগামী সপ্তাহে চিঠি পাঠাবো একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অবশ্যই স্থায়ীপদে নিয়োগ দিতে হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ময়মনসিংহে ৩ দিনব্যাপী কৃষি মেলা শুরু

কুবিতে ইউজিসির নির্দেশনা ছাড়াই ভারপ্রাপ্ত-চুক্তিতে চলছে বিভিন্ন দপ্তর

প্রকাশিত : ০৯:২৩:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উল্লেখযোগ্য দপ্তর সমূহে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) স্থায়ী নিয়োগের নির্দেশনার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও মানা হচ্ছে না সে নির্দেশনা। অন্যদিকে চুক্তিভিত্তিক ও ভিসির পছন্দের জুনিয়র কর্মকর্তাকে প্রমোশন দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান করে চালানো হচ্ছে উল্লেখযোগ্য দপ্তর। ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বাড়ছে যেমন ক্ষোভ, পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য ৪ টি পদের ৩ টিই চলছে ভারপ্রাপ্ততে এবং ১ টি চুক্তিতে।

জানা যায়, চলতি বছরের ২০ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক ১০ বছর পূর্ণ করেছে এমন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জামিনুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি রেজিস্ট্রার বরাবর পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, কোন কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব), পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ পদে ভারপ্রাপ্ত, অতিরিক্ত দায়িত্ব, চলতি দায়িত্ব প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারী/সামরিক কর্মকর্তা ও ক্ষেত্রবিশেষে কলেজের শিক্ষকগণকে চুক্তিভিত্তিক বা খণ্ডকালীন হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পাদনে বিঘ্নতা সৃষ্টি হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন/প্রবিধান অনুযায়ী উল্লিখিত পদ সমূহে পূর্ণকালীন নিয়োগ প্রদান প্রয়োজন।

কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পার হলেও এখনো উল্লেখযোগ্য পদগুলোতে কাউকে স্থায়ী নিয়োগ দিতে পারেনি। বর্তমানে প্রশাসনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, রেজিস্ট্রার পদে রয়েছেন মো. আমিরুল হক চৌধুরী (ভারপ্রাপ্ত), পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী (ভারপ্রাপ্ত), পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) পদে কামাল উদ্দিন ভূইয়া (ভারপ্রাপ্ত) ও পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে রয়েছেন দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়োগ পাওয়া সাবেক রাজউক চেয়ারম্যান মো. সফিকুল ইসলাম। যাকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়।

তবে রেজিস্ট্রার পদে বর্তমান লাইব্রেরিয়ান মো. মজিবুর রহমান মজুমদারকে ২০০৭ সালে স্থায়ী নিয়োগ দেয়া হলেও ২০১৮ সালে তার নামে দূর্নীতি ও জামাত সংশ্লিষ্টতার মৌখিক অভিযোগ এনে লাইব্রেরিতে বদলি করেন তৎকালীন প্রশাসন। এরপর রেজিস্ট্রার পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ড. মো. আবু তাহের দায়িত্ব পালন করলেও ভিসির সঙ্গে সমন্বয়হীনতার কারণে দায়িত্ব পালনে অস্বস্তিবোধ জানিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি।

লাইব্রেরিয়ান পদে বদলির বিষয়ে জানতে কথা হয় মজিবুর রহমানের সাথে কথা হয় দৈনিক নয়া শতাব্দীর। তিনি বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৬ ধারা (১৩) অনুযায়ী রেজিস্ট্রার হলো একটি সংবিধিবদ্ধ পদ। এই পদে আমাকে স্থায়ী রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেয়া সত্ত্বেও জুনিয়র একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে নিয়োগ দেয়া হলো আইনের লংঘন। আমি এই বিষয়ে ভিসি বরাবর ৭ বার চিঠি পাঠিয়েও কোন উত্তর পাইনি।
তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (বিধি-১/এস-১১/৯২-৩০ (১৫০), শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির নির্দেশনা কে উপেক্ষা করেছে পাশাপাশি শূন্যপদে নিয়োগের স্মারক গুলোও মানা হয়নি।

ইউজিসির চিঠি দেয়ার পরও ৫ মাসের মধ্যে কেন উল্লেখযোগ্য পদগুলোতে নিয়োগ দেয়া হয়নি এবং কবে নাগাদ নিয়োগ দেয়া হবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে, ভিসি অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তার দপ্তরে গেলে তিনি প্রতিবেদকের সাথে কথা বলবেন না জানিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন।

এবিষয়ে ইউজিসির সদস্য ও সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান বলেন, এটা শুধু আমাদের নির্দেশনা না মন্ত্রনালয়েরই সিদ্ধান্ত। এবিষয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে একবার চিঠি পাঠিয়েছি তারা জবাব দিয়েছে। আমরা সেটা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এখন আমরা আবার আগামী সপ্তাহে চিঠি পাঠাবো একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অবশ্যই স্থায়ীপদে নিয়োগ দিতে হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ