০১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কে হচ্ছেন ঢাকার পুলিশ প্রধান

পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) পর বাংলাদেশ পুলিশের অন্যতম সম্মানজনক পদ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার। পুলিশের সবচেয়ে বড় ইউনিটের বর্তমান প্রধান মোহা. শফিকুল ইসলামের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ অক্টোবর। গত বছর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার প্রজ্ঞাপনে আরও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তাকে। যত দিন ঘনিয়ে আসছে ডিএমপির ৩৬ তম কমিশনার হিসেবে নেতৃত্বে কে আসছেন তা নিয়ে পুলিশের নানা মহলে চলছে জল্পনা-কল্পনা।

ডিএমপি কমিশনারের পদটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদগুলোর মধ্যে একটি। যা অতিরিক্ত আইজিপি সমমর্যাদার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের ওপর নির্ভর করে বাছাই প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে সার্বিক গ্রহণযোগ্যতা, কর্মজীবনের সফলতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এমন নানা সমীকরণ পার হয়েই বসতে হয় ঢাকার পুলিশ প্রধানের পদে। পুলিশ মহলে কমিশনার হিসেবে কয়েকটি নাম নিয়ে আলোচনা চলমান। যাতে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বর্তমান ঢাকা রেঞ্জের উপ পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হাবিবুর রহমান। এ ছাড়া পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুল ইসলাম ও মাহবুবুর রহমানের নামও শোনা যাচ্ছে।

হাবিবুর রহমান : ডিএমপি কমিশনার হওয়ার আলোচনায় শীর্ষে আছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান। ১৭ তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে যোগ দেওয়া হাবিবের জন্ম ১৯৬৭ সালে গোপালগঞ্জের চন্দ্র দিঘলিয়া গ্রামে। সাহস, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার জন্য তিনি তিনবার বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং দুইবার রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদকে (পিপিএম) ভূষিত হয়েছেন। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), ডিএমপি সদর দপ্তরের উপ কমিশনার, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন), ডিআইজি প্রশাসন সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন বিভিন্ন সময়ে।

পেশাগত ও মানবিক কাজের বাইরে সফল ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এবং এশিয়ান কাবাডি ফেডারেশনের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন পুলিশের এই চৌকস কর্মকর্তা। পাশাপাশি মানুষের সেবা করার জন্য গড়েছেন উত্তরণ ফাউন্ডেশন নামে একটি সেবামুখী প্রতিষ্ঠান।

কর্মক্ষেত্রে সততা, সাহসিকতা, দক্ষতা আর সময়োপযোগী ও দূরদর্শী নেতৃত্বগুণের কারণে এরই মধ্যে সুখ্যাতি পেয়েছেন তিনি।
পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ডিআইজি হাবিবুর রহমানের সাফল্যের মুকুটে আরেক পালক। তার একক প্রচেষ্টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে টেলিকম ভবনে প্রতিষ্ঠিত হয় জাদুঘর। সবার জন্য ২০১৩ সালের ২৪ মার্চ তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। পরে ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি ‘জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধনের দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভের ঠিক পাশেই নবনির্মিত জাদুঘর ভবনের উদ্বোধন করেন।

২০১৮ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের গৌরবান্বিত ভূমিকা তুলে ধরে ‘মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ’ নামের একটি বই সম্পাদনা করেন ডিআইজি হাবিব। চলতি মাসেই এই বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ হয়। এ ছাড়া এ বছরের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় হাবিবুর রহমানের গবেষণাগ্রন্থ ‘ঠার: বেদে জনগোষ্ঠীর ভাষা’। বইটিতে তিনি বেদেপল্লির অজানা ভাষাকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে লিখিত বইয়ের সহায়তা নিয়েছেন।

তা ছাড়া তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে নিয়ে বই সম্পাদনা করেছেন। বইটিতে তুলে আনেন মন্ত্রীর বাল্যকাল, পড়াশোনা, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণসহ রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার বিষয়গুলো। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয় ‘নন্দিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান’ বইটি।

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের হাট বাসুদেবপুর গ্রামে সান্দার বেদে গোত্রের প্রায় দু শ পরিবার স্থায়ীভাবে বসবাস করে। যাদের শতভাগ মুসলমান। অথচ এ জনগোষ্ঠীর কেউ মারা গেলে মুসলমান হিসেবে জানাজা ও দাফন-কাফনও করতে পারত না। পরিবারের কোনো সদস্য মারা গেলে আশপাশের কোনো কবরস্থানে তাদের কবরও দিতে দেওয়া হতো না। এমন করুণ অবস্থা জানতে পেরে ডিআইজি হাবিব সহকর্মীদের সহযোগিতায় একটি জায়গা খুঁজে কিনে দান করেন এ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে।
এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হিসেবে করে দিয়েছেন পশু খামার। অনেককে পোশাক কারখানায় চাকরি, পারলার ও খাবার দোকানের ব্যবসা গড়ে দিয়েছেন ডিআইজি হাবিব।

মানবিক পুলিশ হিসেবে খ্যাতি পাওয়া ডিআইজি হাবিবুর রহমান এখন নতুনভাবে দৌলতদিয়ার যৌনপল্লির শিশুদের জন্য কাজ শুরু করেছেন। যার সুফলও মিলছে। বিশেষ করে যৌনপল্লির শত শত শিশুকে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে হাবিবের নিজ হাতে গড়া উত্তরণ ফাউন্ডেশন।

মনিরুল ইসলাম : পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান মনিরুল ইসলাম ১৫ তম বিসিএসে যোগদান করেন। বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার বাহাড়া গ্রামে। মনিরুল ইসলামের জন্ম ১৯৭০ সালের ১৫ জুন। তিনি নর্থামব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্রিটিশ আইনে স্নাতক। তিনি ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার মাধ্যমে এএসপি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। তিনি গোয়েন্দা শাখায় নয় বছর এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে পুলিশের নবগঠিত কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
জঙ্গি নিয়ন্ত্রণ ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে তার অর্জন উল্লেখযোগ্য। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তার বিশেষ গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে।
কর্মজীবনে স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ পদক ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক পেয়েছেন।

এই দুই কর্মকর্তার বাইরে ডিএমপি কমিশনার হওয়ার তালিকায় আছেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ডেভেলপমেন্ট) হিসেবে কর্মরত মো. আতিকুল ইসলাম। এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ প্রধান (অতিরিক্ত আইজিপি) মাহবুবুর রহমান। আতিকের জন্ম ১৯৬৬ সালে রংপুর জেলার কোতোয়ালি থানার জুম্মাপাড়ায়। তিনি আইপিজিএমআর, (ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ) বর্তমানে বিএসএমএমইউ থেকে ফার্মাকোলজি বিষয়ে স্নাতক এবং অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন। বিসিএস-১২ তম ব্যাচের মাধ্যমে ১৯৯১ সালে পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন তিনি।

মাহবুবুর রহমান জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি ১৫ তম বিসিএসে সহকারী পুলিশ সুপার পদে যোগ দেন। এএসপি হিসেবে নরসিংদী জেলা পুলিশে, সার্কেল এএসপি হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলার সদর সার্কেল ও বাজিতপুর সার্কেলে এবং এএসপি সদর সার্কেল হিসেবে নেত্রকোনা জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি) হিসেবে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে দায়িত্ব পালন করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/এ.আর

আজ বিশ্ব ক্যানসার দিবস

কে হচ্ছেন ঢাকার পুলিশ প্রধান

প্রকাশিত : ০৫:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) পর বাংলাদেশ পুলিশের অন্যতম সম্মানজনক পদ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার। পুলিশের সবচেয়ে বড় ইউনিটের বর্তমান প্রধান মোহা. শফিকুল ইসলামের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ অক্টোবর। গত বছর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার প্রজ্ঞাপনে আরও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তাকে। যত দিন ঘনিয়ে আসছে ডিএমপির ৩৬ তম কমিশনার হিসেবে নেতৃত্বে কে আসছেন তা নিয়ে পুলিশের নানা মহলে চলছে জল্পনা-কল্পনা।

ডিএমপি কমিশনারের পদটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদগুলোর মধ্যে একটি। যা অতিরিক্ত আইজিপি সমমর্যাদার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের ওপর নির্ভর করে বাছাই প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে সার্বিক গ্রহণযোগ্যতা, কর্মজীবনের সফলতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এমন নানা সমীকরণ পার হয়েই বসতে হয় ঢাকার পুলিশ প্রধানের পদে। পুলিশ মহলে কমিশনার হিসেবে কয়েকটি নাম নিয়ে আলোচনা চলমান। যাতে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বর্তমান ঢাকা রেঞ্জের উপ পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হাবিবুর রহমান। এ ছাড়া পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুল ইসলাম ও মাহবুবুর রহমানের নামও শোনা যাচ্ছে।

হাবিবুর রহমান : ডিএমপি কমিশনার হওয়ার আলোচনায় শীর্ষে আছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান। ১৭ তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে যোগ দেওয়া হাবিবের জন্ম ১৯৬৭ সালে গোপালগঞ্জের চন্দ্র দিঘলিয়া গ্রামে। সাহস, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার জন্য তিনি তিনবার বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং দুইবার রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদকে (পিপিএম) ভূষিত হয়েছেন। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), ডিএমপি সদর দপ্তরের উপ কমিশনার, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন), ডিআইজি প্রশাসন সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন বিভিন্ন সময়ে।

পেশাগত ও মানবিক কাজের বাইরে সফল ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এবং এশিয়ান কাবাডি ফেডারেশনের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন পুলিশের এই চৌকস কর্মকর্তা। পাশাপাশি মানুষের সেবা করার জন্য গড়েছেন উত্তরণ ফাউন্ডেশন নামে একটি সেবামুখী প্রতিষ্ঠান।

কর্মক্ষেত্রে সততা, সাহসিকতা, দক্ষতা আর সময়োপযোগী ও দূরদর্শী নেতৃত্বগুণের কারণে এরই মধ্যে সুখ্যাতি পেয়েছেন তিনি।
পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ডিআইজি হাবিবুর রহমানের সাফল্যের মুকুটে আরেক পালক। তার একক প্রচেষ্টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে টেলিকম ভবনে প্রতিষ্ঠিত হয় জাদুঘর। সবার জন্য ২০১৩ সালের ২৪ মার্চ তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। পরে ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি ‘জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধনের দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভের ঠিক পাশেই নবনির্মিত জাদুঘর ভবনের উদ্বোধন করেন।

২০১৮ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের গৌরবান্বিত ভূমিকা তুলে ধরে ‘মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ’ নামের একটি বই সম্পাদনা করেন ডিআইজি হাবিব। চলতি মাসেই এই বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ হয়। এ ছাড়া এ বছরের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় হাবিবুর রহমানের গবেষণাগ্রন্থ ‘ঠার: বেদে জনগোষ্ঠীর ভাষা’। বইটিতে তিনি বেদেপল্লির অজানা ভাষাকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে লিখিত বইয়ের সহায়তা নিয়েছেন।

তা ছাড়া তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে নিয়ে বই সম্পাদনা করেছেন। বইটিতে তুলে আনেন মন্ত্রীর বাল্যকাল, পড়াশোনা, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণসহ রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার বিষয়গুলো। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয় ‘নন্দিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান’ বইটি।

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের হাট বাসুদেবপুর গ্রামে সান্দার বেদে গোত্রের প্রায় দু শ পরিবার স্থায়ীভাবে বসবাস করে। যাদের শতভাগ মুসলমান। অথচ এ জনগোষ্ঠীর কেউ মারা গেলে মুসলমান হিসেবে জানাজা ও দাফন-কাফনও করতে পারত না। পরিবারের কোনো সদস্য মারা গেলে আশপাশের কোনো কবরস্থানে তাদের কবরও দিতে দেওয়া হতো না। এমন করুণ অবস্থা জানতে পেরে ডিআইজি হাবিব সহকর্মীদের সহযোগিতায় একটি জায়গা খুঁজে কিনে দান করেন এ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে।
এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হিসেবে করে দিয়েছেন পশু খামার। অনেককে পোশাক কারখানায় চাকরি, পারলার ও খাবার দোকানের ব্যবসা গড়ে দিয়েছেন ডিআইজি হাবিব।

মানবিক পুলিশ হিসেবে খ্যাতি পাওয়া ডিআইজি হাবিবুর রহমান এখন নতুনভাবে দৌলতদিয়ার যৌনপল্লির শিশুদের জন্য কাজ শুরু করেছেন। যার সুফলও মিলছে। বিশেষ করে যৌনপল্লির শত শত শিশুকে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে হাবিবের নিজ হাতে গড়া উত্তরণ ফাউন্ডেশন।

মনিরুল ইসলাম : পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান মনিরুল ইসলাম ১৫ তম বিসিএসে যোগদান করেন। বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার বাহাড়া গ্রামে। মনিরুল ইসলামের জন্ম ১৯৭০ সালের ১৫ জুন। তিনি নর্থামব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্রিটিশ আইনে স্নাতক। তিনি ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার মাধ্যমে এএসপি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। তিনি গোয়েন্দা শাখায় নয় বছর এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে পুলিশের নবগঠিত কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
জঙ্গি নিয়ন্ত্রণ ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে তার অর্জন উল্লেখযোগ্য। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তার বিশেষ গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে।
কর্মজীবনে স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ পদক ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক পেয়েছেন।

এই দুই কর্মকর্তার বাইরে ডিএমপি কমিশনার হওয়ার তালিকায় আছেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ডেভেলপমেন্ট) হিসেবে কর্মরত মো. আতিকুল ইসলাম। এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ প্রধান (অতিরিক্ত আইজিপি) মাহবুবুর রহমান। আতিকের জন্ম ১৯৬৬ সালে রংপুর জেলার কোতোয়ালি থানার জুম্মাপাড়ায়। তিনি আইপিজিএমআর, (ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ) বর্তমানে বিএসএমএমইউ থেকে ফার্মাকোলজি বিষয়ে স্নাতক এবং অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন। বিসিএস-১২ তম ব্যাচের মাধ্যমে ১৯৯১ সালে পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন তিনি।

মাহবুবুর রহমান জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি ১৫ তম বিসিএসে সহকারী পুলিশ সুপার পদে যোগ দেন। এএসপি হিসেবে নরসিংদী জেলা পুলিশে, সার্কেল এএসপি হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলার সদর সার্কেল ও বাজিতপুর সার্কেলে এবং এএসপি সদর সার্কেল হিসেবে নেত্রকোনা জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি) হিসেবে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে দায়িত্ব পালন করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/এ.আর