১২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শীঘ্রই শুরু হচ্ছে আশুগঞ্জে আর্ন্তজাতিক মানের নৌ-বন্দরের নির্মান কাজ

শীঘ্রই শুরু হচ্ছে আশুগঞ্জ নৌ-বন্দরে আর্ন্তজাতিক মানের নৌ-বন্দর নির্মান কাজ। ইতিমধ্যেই দরপত্র আহবান করা হয়েছে। দরপত্রের প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত শুরু হবে বন্দরের দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম নৌ-বন্দর হচ্ছে আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর। কিন্তু দীর্ঘ এক যুগেও বন্দরে লাগেনি কোন উন্নয়নের ছোঁয়া। বন্দরে থাকা দুটি জেটি দিয়েই চলছে অভ্যন্তরীন পন্য লোড-আনলোডের কার্যক্রম। এতে করে প্রায়ই নৌ-বন্দরে কার্গো জটের সৃষ্টি হয়। ফলে পন্য খালাস নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
এ অবস্থায় নৌ-বন্দরের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, অচিরেই শুরু হবে আর্ন্তজাতিক মানের নৌ-বন্দর নির্মান কাজ।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২০১০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে অবস্থিত নৌ-বন্দরটিকে অভ্যন্তরীন নৌ-বন্দর হিসেবে ঘোষনা করে সরকার।কিন্তু ১ যুগ ধরে নৌ-বন্দরে কোন ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হয়নি।
আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর ব্যবহার করেই (আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর হয়ে আখাউড়ার স্থল বন্দর দিয়ে) ভারত গত ২০১১ সালে তাদের ত্রিপুরা রাজ্যের পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের জন্য ভারী মালামাল পরিবহন করে। পরে কয়েক দফায় ভারত এই আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর ব্যবহার করে খাদ্যশস্যসহ ষ্ট্রীল জাতীয় পন্য পরিবহন করে।
গত ১২ বছরে অভ্যন্তরীন নৌ-বন্দরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও আশুগঞ্জ নৌ-বন্দরের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু বন্দরে কোন উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগায় বন্দর ব্যবহারকারীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বন্দরটিতে আর্ন্তজাতিক মানের কন্টেইনার
টার্মিনাল নির্মানসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানান।আশুগঞ্জ নৌ-বন্দরের ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন বলেন, বিআইডব্লিওটিএ যে ইজারা দিয়েছে তাতে কোন ঘাট নেই। বন্দরে দুটি জেটি আছে এর মধ্যে একটি জেটি ভারতের মালামাল নেয়ার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় আমাদের কার্গো জাহাজ বন্দরে থাকার সময় ভারতের কোনো কার্গো জাহাজ বন্দরে আসলে আমাদেরকে দ্রুত ঘাট ছেড়ে দিতে হয়। সিমেন্টের জন্য একটি নির্ধারিত ঘাট
আছে। কিন্তু সারের জন্য কোনো ঘাট নেই।
তিনি বলেন, বন্দরে আর্ন্তজাতিক মানের কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মান করা হলে আমরা আমাদের চাহিদা অনুযায়ী সযোগ-সুবিধা পাব। এতে ব্যবসা বানিজ্যের প্রসার ঘটবে।নৗ-বন্দরের ব্যবসায়ী আলমগীর মিয়া বলেন, এই বন্দরে আর্ন্তজাতিক মানের
কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মান করলে পন্য লোড-আনলোড জটিলতা অনেকটাই কমে যাবে।
তিনি আরো বলেন, আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর থেকে আখাউড়া স্থল বন্দর পর্যন্ত রাস্তার ফোরলেনের কাজ শেষ হলেই আমরা সহজে ভারতে মালামাল পাঠাতে পারব। এতে করে দুই দেশের ব্যবসায়ীক সম্পর্ক আরো বাড়বে।
আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরবিন্দু বিশ্বাস বলেন, আশুগঞ্জ থেকে মহাসড়ক চারলেনে সম্প্রসারনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। চারলেনের কাজ শেষ হলে আশুগঞ্জ নৌ-বন্দরে আর্ন্তজাতিক মানের নৌ-বন্দর নির্মান কাজ শুরু হবে।
এতে করে আশুগঞ্জ উপজেলা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থায় চলে যাবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। জানতে পেরেছি ইতিমধ্যে বন্দরে টার্মিনাল নির্মানের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে। ভারতের একটি উচ্চ পর্যায়ের
প্রতিনিধি দল বন্দরটি পরিদর্শন করে গেছেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিওটিএ) ভৈরব-আশুগঞ্জ নৌ-বন্দরের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, আশুগঞ্জ নদী বন্দরের কাজ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। ইতিমধ্যে জমি অধিগ্রহনের কাজও শেষ হয়েছে। আর্ন্তজাতিক
মানে নৌ-বন্দর নির্মানের জন্যে ইতিমধ্যেই দরপত্র আহবান করা হয়েছে। দরপত্রের প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত শুরু হবে বন্দরের দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ। আশুগঞ্জ নৌ-বন্দরটির অবকাঠামোগত নির্মান কাজ শেষ হলে মোংলা-পায়রা এবং চট্টগ্রাম
নৌ-বন্দর থেকে আসা অভ্যন্তরীন কন্টেইনার বন্দরটি দিয়ে উঠানামা করবে। এতে করে এই বন্দরটি আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক নৌ যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, প্রায় ৩১.৫ একর জমির উপর প্রস্তাবিত আশুগঞ্জ
অভ্যন্তরীন নৌ-বন্দরটির নির্মান ব্যয় ধরা হয়েছে ১হাজার ২শত ২৫কোটি টাকা।
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শীঘ্রই শুরু হচ্ছে আশুগঞ্জে আর্ন্তজাতিক মানের নৌ-বন্দরের নির্মান কাজ

প্রকাশিত : ০৫:১৪:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২
শীঘ্রই শুরু হচ্ছে আশুগঞ্জ নৌ-বন্দরে আর্ন্তজাতিক মানের নৌ-বন্দর নির্মান কাজ। ইতিমধ্যেই দরপত্র আহবান করা হয়েছে। দরপত্রের প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত শুরু হবে বন্দরের দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম নৌ-বন্দর হচ্ছে আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর। কিন্তু দীর্ঘ এক যুগেও বন্দরে লাগেনি কোন উন্নয়নের ছোঁয়া। বন্দরে থাকা দুটি জেটি দিয়েই চলছে অভ্যন্তরীন পন্য লোড-আনলোডের কার্যক্রম। এতে করে প্রায়ই নৌ-বন্দরে কার্গো জটের সৃষ্টি হয়। ফলে পন্য খালাস নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
এ অবস্থায় নৌ-বন্দরের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, অচিরেই শুরু হবে আর্ন্তজাতিক মানের নৌ-বন্দর নির্মান কাজ।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২০১০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে অবস্থিত নৌ-বন্দরটিকে অভ্যন্তরীন নৌ-বন্দর হিসেবে ঘোষনা করে সরকার।কিন্তু ১ যুগ ধরে নৌ-বন্দরে কোন ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হয়নি।
আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর ব্যবহার করেই (আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর হয়ে আখাউড়ার স্থল বন্দর দিয়ে) ভারত গত ২০১১ সালে তাদের ত্রিপুরা রাজ্যের পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের জন্য ভারী মালামাল পরিবহন করে। পরে কয়েক দফায় ভারত এই আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর ব্যবহার করে খাদ্যশস্যসহ ষ্ট্রীল জাতীয় পন্য পরিবহন করে।
গত ১২ বছরে অভ্যন্তরীন নৌ-বন্দরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও আশুগঞ্জ নৌ-বন্দরের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু বন্দরে কোন উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগায় বন্দর ব্যবহারকারীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বন্দরটিতে আর্ন্তজাতিক মানের কন্টেইনার
টার্মিনাল নির্মানসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানান।আশুগঞ্জ নৌ-বন্দরের ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন বলেন, বিআইডব্লিওটিএ যে ইজারা দিয়েছে তাতে কোন ঘাট নেই। বন্দরে দুটি জেটি আছে এর মধ্যে একটি জেটি ভারতের মালামাল নেয়ার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় আমাদের কার্গো জাহাজ বন্দরে থাকার সময় ভারতের কোনো কার্গো জাহাজ বন্দরে আসলে আমাদেরকে দ্রুত ঘাট ছেড়ে দিতে হয়। সিমেন্টের জন্য একটি নির্ধারিত ঘাট
আছে। কিন্তু সারের জন্য কোনো ঘাট নেই।
তিনি বলেন, বন্দরে আর্ন্তজাতিক মানের কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মান করা হলে আমরা আমাদের চাহিদা অনুযায়ী সযোগ-সুবিধা পাব। এতে ব্যবসা বানিজ্যের প্রসার ঘটবে।নৗ-বন্দরের ব্যবসায়ী আলমগীর মিয়া বলেন, এই বন্দরে আর্ন্তজাতিক মানের
কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মান করলে পন্য লোড-আনলোড জটিলতা অনেকটাই কমে যাবে।
তিনি আরো বলেন, আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর থেকে আখাউড়া স্থল বন্দর পর্যন্ত রাস্তার ফোরলেনের কাজ শেষ হলেই আমরা সহজে ভারতে মালামাল পাঠাতে পারব। এতে করে দুই দেশের ব্যবসায়ীক সম্পর্ক আরো বাড়বে।
আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরবিন্দু বিশ্বাস বলেন, আশুগঞ্জ থেকে মহাসড়ক চারলেনে সম্প্রসারনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। চারলেনের কাজ শেষ হলে আশুগঞ্জ নৌ-বন্দরে আর্ন্তজাতিক মানের নৌ-বন্দর নির্মান কাজ শুরু হবে।
এতে করে আশুগঞ্জ উপজেলা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থায় চলে যাবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। জানতে পেরেছি ইতিমধ্যে বন্দরে টার্মিনাল নির্মানের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে। ভারতের একটি উচ্চ পর্যায়ের
প্রতিনিধি দল বন্দরটি পরিদর্শন করে গেছেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিওটিএ) ভৈরব-আশুগঞ্জ নৌ-বন্দরের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, আশুগঞ্জ নদী বন্দরের কাজ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। ইতিমধ্যে জমি অধিগ্রহনের কাজও শেষ হয়েছে। আর্ন্তজাতিক
মানে নৌ-বন্দর নির্মানের জন্যে ইতিমধ্যেই দরপত্র আহবান করা হয়েছে। দরপত্রের প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত শুরু হবে বন্দরের দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ। আশুগঞ্জ নৌ-বন্দরটির অবকাঠামোগত নির্মান কাজ শেষ হলে মোংলা-পায়রা এবং চট্টগ্রাম
নৌ-বন্দর থেকে আসা অভ্যন্তরীন কন্টেইনার বন্দরটি দিয়ে উঠানামা করবে। এতে করে এই বন্দরটি আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক নৌ যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, প্রায় ৩১.৫ একর জমির উপর প্রস্তাবিত আশুগঞ্জ
অভ্যন্তরীন নৌ-বন্দরটির নির্মান ব্যয় ধরা হয়েছে ১হাজার ২শত ২৫কোটি টাকা।