০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীতে ৭০ থেকে ৭৫টির মোটরসাইকেল ছিনতাই চক্র

দেশের বিভিন্ন জেলা শহর, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের দিকে গড়ে উঠেছে মোটরসাইকেল চোর চক্র। বিভিন্ন জায়গায় চুরি হওয়া দেড় থেকে দুই লাখ টাকা দামের মোটরসাইকেল পৌঁছে যায় তাদের হাতে। পরে তা বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, লোভে পড়ে কম দামে এসব বাইক কিনলে বিপদে পড়তে পারেন ক্রেতা। আসামি হয়ে যেতে পারেন বাইক চুরি বা ছিনতাই মামলার।
জানা যায়, রাজধানী থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল যায় দেশের বিভিন্ন জেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলে। সেসব জেলা শহর কিংবা গ্রামাঞ্চলে গড়ে উঠেছে এসব চোরাই মোটরসাইকেল কেনার একটি চক্র। তারা এসব চোরাই বাইক বিক্রি করছে অনেক কাম দামে।

সম্প্রতি রাজধানী থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেলের মামলা তদন্ত করতে গিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ উত্তরা গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা চোর চক্র ও চোরাই মোটরসাইকেল কেনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ জনকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানতে পারেন।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীজুড়ে ৭০ থেকে ৭৫টির মতো মোটরসাইকেল ছিনতাই চক্র তৎপর। এই চক্রের সদস্যরা এতটাই কৌশলী যে সিসিটিভি থাকার পরও পার্ক করে রাখা মোটরসাইকেলের লক খুলে কিংবা ভেঙে বাইক নিয়ে চম্পট দিচ্ছে। চক্রের সদস্যরা এমন এক ধরনের চাবি বানাচ্ছে, যা দিয়ে যেকোনও বাইকের লক খোলা যায় অনায়াসে। এ ছাড়া স্বল্প সময়ের জন্য যারা রাস্তা কিংবা আশপাশে মোটরসাইকেল পার্ক করে রেখে যান, তারা অনেক সময় আলাদা কোনও তালা ব্যবহার করেন না। আর সে কারণেই শখের বাইকটি চোখের নিমেষেই নিজেদের করে নেয় চক্রের সদস্যরা।

সম্প্রতি তদন্তে মোটরসাইকেল ছিনতাই চক্র ও মাদক-সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে উত্তরা গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের সূত্র ধরে একটি মোবাইল নম্বর আসে গোয়েন্দা সদস্যদের হাতে। সেই মোবাইল নম্বরটির তথ্য বিশ্লেষণ করে মোটরসাইকেল ছিনতাই চক্রের বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করেন গোয়েন্দারা। পরে অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

রাজধানীর দক্ষিণ খান ও নোয়াখালী জেলার চাটখিল এলাকায় বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় আলী, আনোয়ার হোসেন রুবেল, শামসুল হুদা, কামাল হোসেন ওরফে আকাশ ও মিজানকে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাইয়ের নানা কৌশল ও ছিনতাইয়ের পর কোন কোন গন্তব্যে যায় এসব মোটরসাইকেল, সেসব তথ্য জানা যায়। ছিনতাই করা বাইক চলে যেতো দোহার, নবাবগঞ্জ, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। সেখানেই চোর চক্রের সঙ্গে সমন্বয় থাকা ক্রেতারা গাড়িগুলো কিনে অন্যদের কাছে বিক্রি করে আসছিল।

উত্তরা গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, ‌‘মোটরসাইকেল ছিনতাই চক্রের যে পাঁচ সদস্যকে আমরা গ্রেফতার করেছি, সেই চক্রের আরও কয়েকজনের আমরা তথ্য পেয়েছি। পাঁচ জনের মধ্যে একজন চোরাই গাড়ির ক্রেতা রয়েছে। যে সবসময় চোর চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতো।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, যাদের কাছে চোরাই গাড়ি পাওয়া যাবে, তাদেরও মামলায় পড়তে হবে। মোটরসাইকেল চুরি হলে সংশ্লিষ্ট থানায় এ ব্যাপারে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা।

চক্রের গ্রেফতারকৃত সদস্যরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দাদের জানায়, রাজধানীর উত্তরা, ডেমরা এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে তাদের লোকেরা। সুযোগ পেলেই গাড়ি নিয়ে চম্পট দেয় তারা। চক্রের সদস্যরা কোনও গাড়ি টার্গেট করলে সেই গাড়ির আশপাশে কথা বলার ছলে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে কথা বলতে বলতে সেই গাড়ির কাছে আসে। পরে সুযোগ বুঝে বিশেষ চাবি দিয়ে লক খুলে গাড়ি নিয়ে চম্পট দেয়। পালসার, টিভিএস, আরটিআর কিংবা দামি কোনও বাইক বেচে দেয় ৩০ থেকে ৪০ হাজারে। অথচ এসব গাড়ি দাম দেড় লাখ টাকার ওপরে।

তারা আরও জানায়, চোরাই গাড়ি তারা নিয়ে যায় দোহার, নবাবগঞ্জ, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকায়। সেখানে ক্রেতারাও টাকা নিয়ে বসে থাকেন কম দামে মোটরসাইকেল কেনার জন্য। কম দামে মোটরসাইকেল কিনে পরে কাগজপত্র নেই বলে বিভিন্ন লোকজনদের কাছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় এসব মোটরসাইকেল বিক্রি করে তারা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘যারা মোটরসাইকেল কিনবেন, তারা অবশ্যই বিআরটিএ থেকে তথ্য যাচাই করে নেবেন। তা না হলে মোটরসাইকেলটি যদি চোরাই প্রমাণিত হয়, তাহলে সেই বাইক কেনার অপরাধে ক্রেতাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।’
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

রাজধানীতে ৭০ থেকে ৭৫টির মোটরসাইকেল ছিনতাই চক্র

প্রকাশিত : ০৮:৪৬:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

দেশের বিভিন্ন জেলা শহর, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের দিকে গড়ে উঠেছে মোটরসাইকেল চোর চক্র। বিভিন্ন জায়গায় চুরি হওয়া দেড় থেকে দুই লাখ টাকা দামের মোটরসাইকেল পৌঁছে যায় তাদের হাতে। পরে তা বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, লোভে পড়ে কম দামে এসব বাইক কিনলে বিপদে পড়তে পারেন ক্রেতা। আসামি হয়ে যেতে পারেন বাইক চুরি বা ছিনতাই মামলার।
জানা যায়, রাজধানী থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল যায় দেশের বিভিন্ন জেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলে। সেসব জেলা শহর কিংবা গ্রামাঞ্চলে গড়ে উঠেছে এসব চোরাই মোটরসাইকেল কেনার একটি চক্র। তারা এসব চোরাই বাইক বিক্রি করছে অনেক কাম দামে।

সম্প্রতি রাজধানী থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেলের মামলা তদন্ত করতে গিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ উত্তরা গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা চোর চক্র ও চোরাই মোটরসাইকেল কেনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ জনকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানতে পারেন।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীজুড়ে ৭০ থেকে ৭৫টির মতো মোটরসাইকেল ছিনতাই চক্র তৎপর। এই চক্রের সদস্যরা এতটাই কৌশলী যে সিসিটিভি থাকার পরও পার্ক করে রাখা মোটরসাইকেলের লক খুলে কিংবা ভেঙে বাইক নিয়ে চম্পট দিচ্ছে। চক্রের সদস্যরা এমন এক ধরনের চাবি বানাচ্ছে, যা দিয়ে যেকোনও বাইকের লক খোলা যায় অনায়াসে। এ ছাড়া স্বল্প সময়ের জন্য যারা রাস্তা কিংবা আশপাশে মোটরসাইকেল পার্ক করে রেখে যান, তারা অনেক সময় আলাদা কোনও তালা ব্যবহার করেন না। আর সে কারণেই শখের বাইকটি চোখের নিমেষেই নিজেদের করে নেয় চক্রের সদস্যরা।

সম্প্রতি তদন্তে মোটরসাইকেল ছিনতাই চক্র ও মাদক-সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে উত্তরা গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের সূত্র ধরে একটি মোবাইল নম্বর আসে গোয়েন্দা সদস্যদের হাতে। সেই মোবাইল নম্বরটির তথ্য বিশ্লেষণ করে মোটরসাইকেল ছিনতাই চক্রের বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করেন গোয়েন্দারা। পরে অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

রাজধানীর দক্ষিণ খান ও নোয়াখালী জেলার চাটখিল এলাকায় বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় আলী, আনোয়ার হোসেন রুবেল, শামসুল হুদা, কামাল হোসেন ওরফে আকাশ ও মিজানকে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাইয়ের নানা কৌশল ও ছিনতাইয়ের পর কোন কোন গন্তব্যে যায় এসব মোটরসাইকেল, সেসব তথ্য জানা যায়। ছিনতাই করা বাইক চলে যেতো দোহার, নবাবগঞ্জ, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। সেখানেই চোর চক্রের সঙ্গে সমন্বয় থাকা ক্রেতারা গাড়িগুলো কিনে অন্যদের কাছে বিক্রি করে আসছিল।

উত্তরা গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, ‌‘মোটরসাইকেল ছিনতাই চক্রের যে পাঁচ সদস্যকে আমরা গ্রেফতার করেছি, সেই চক্রের আরও কয়েকজনের আমরা তথ্য পেয়েছি। পাঁচ জনের মধ্যে একজন চোরাই গাড়ির ক্রেতা রয়েছে। যে সবসময় চোর চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতো।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, যাদের কাছে চোরাই গাড়ি পাওয়া যাবে, তাদেরও মামলায় পড়তে হবে। মোটরসাইকেল চুরি হলে সংশ্লিষ্ট থানায় এ ব্যাপারে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা।

চক্রের গ্রেফতারকৃত সদস্যরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দাদের জানায়, রাজধানীর উত্তরা, ডেমরা এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে তাদের লোকেরা। সুযোগ পেলেই গাড়ি নিয়ে চম্পট দেয় তারা। চক্রের সদস্যরা কোনও গাড়ি টার্গেট করলে সেই গাড়ির আশপাশে কথা বলার ছলে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে কথা বলতে বলতে সেই গাড়ির কাছে আসে। পরে সুযোগ বুঝে বিশেষ চাবি দিয়ে লক খুলে গাড়ি নিয়ে চম্পট দেয়। পালসার, টিভিএস, আরটিআর কিংবা দামি কোনও বাইক বেচে দেয় ৩০ থেকে ৪০ হাজারে। অথচ এসব গাড়ি দাম দেড় লাখ টাকার ওপরে।

তারা আরও জানায়, চোরাই গাড়ি তারা নিয়ে যায় দোহার, নবাবগঞ্জ, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকায়। সেখানে ক্রেতারাও টাকা নিয়ে বসে থাকেন কম দামে মোটরসাইকেল কেনার জন্য। কম দামে মোটরসাইকেল কিনে পরে কাগজপত্র নেই বলে বিভিন্ন লোকজনদের কাছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় এসব মোটরসাইকেল বিক্রি করে তারা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘যারা মোটরসাইকেল কিনবেন, তারা অবশ্যই বিআরটিএ থেকে তথ্য যাচাই করে নেবেন। তা না হলে মোটরসাইকেলটি যদি চোরাই প্রমাণিত হয়, তাহলে সেই বাইক কেনার অপরাধে ক্রেতাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।’
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ