১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে নিজ আশ্রমে ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে ভারতের স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপুকে। বুধবার যোধপুরের বিশেষ আদালত আসারামসহ অপর দুই সঙ্গীকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে এ মামলার অপর দুই আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে।
যোধপুর সেন্ট্রাল জেলের ভেতরেই এই রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি মধুসূদন শর্মা। তবে সাজা ঘোষণা হয়নি। আপাতত জেলেই থাকছে ধর্মগুরু। নূন্যতম সাজা হতে পারে ১০ বছর আর সর্বোচ্চ যাবজ্জীবনের শাস্তিও পেতে পারে ৭৭ বছর বয়সী আসারাম।
আদালতের রায়ের পর খুশি নির্যাতিতার বাবা বলেন, এতদিনে তারা সুবিচার পেলেন। এতদিনের লড়াইয়ে যারা পাশে ছিলেন তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তার দাবি, দোষীদের কঠোর শাস্তি হোক। অন্যদিকে আসারামের মুখপাত্র নীলম দুবে জানিয়েছেন, দেশের বিচার ব্যবস্থাকে তারা সম্মান জানান। আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করেই পরবর্তী পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
পাঁচ বছর আগে ওই কিশোরীকে ধর্ষণসহ অনেক অভিযোগ ছিল এই স্বঘোষিত ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে। পুলিশের পেশ করা চার্জশিটে ধর্ষণের স্পষ্ট উল্লেখ ছিল। এ মামলার সাক্ষীদের হত্যা করে মামলা প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে বার বার। মামলায় নয়জন সাক্ষীর উপর বিভিন্ন সময় হামলা করা হয়েছে। এদের মধ্যে আসারামের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অম্রুত প্রজাপত, রাঁধুনি অখিল গুপ্তা ও অপর এক সাক্ষী ক্রিপাল সিংকে গুলি করে খুন করা হয়।
পুরো ভারতে প্রায় চারশটিরও বেশি আশ্রম আছে এই স্বঘোষিত ধর্মগুরুর, ভক্তসংখ্যাও বহু। হাই প্রোফাইল এই মামলা ঘিরে তাই প্রায় দুর্গের চেহারা নিয়েছে যোধপুর। কেন্দ্রের নির্দেশে সর্বত্র নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যে কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত আসারাম, তিনি থাকেন উত্তরপ্রদেশে। সেখানেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। রাজস্থান, গুজরাট ও হরিয়ানায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী।
আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জোধপুরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। শহরে সব বাস টার্মিনাস ও রেল স্টেশনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। হোটেল ও ধর্মশালায় কারা আসা-যাওয়া করছেন, নজর রাখা হচ্ছে সে দিকেও। শহরের বাইরে পল রোডে আসারামের আশ্রম, সংঘর্ষের আশঙ্কায় সেটিও ফাঁকা করে দেয়া হয়েছে।
অশুভ শক্তির হাত থেকে মুক্তি দেয়ার নাম করে মানাই গ্রামের আশ্রমে নিয়ে উত্তরপ্রদেশের শাহজহানপুরের ১৬ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেছিল বাপু আসারাম। গুজরাতের সুরাতেও আসারাম ও তার ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন দুই বোন। সূত্র: এনডিটিভি, সংবাদ প্রতিদিন ও আনন্দবাজার পত্রিকা
























