র্যাব-৩ সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে একটি আভিযানিক দল গত রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কাভার্ডভ্যান এবং জীপের ভিতরে বস্তার মধ্যে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১৪৬৫ বোতল ফেন্সিডিল, ১ টি কাভার্ডভ্যান ও ১ টি জীপ সহ মাদক পাচার চক্রের মূলহোতা,মোঃ আলী আকবর,রিপন মিয়া (২৭)মোঃ নুর হোসেন (৩৫)কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বাজার মূল্য প্রায় ২৯,০০,০০০-(ঊনত্রিশ লক্ষ) টাকা।
আজ ১৬ অক্টোবর র্যাব কাওরানবাজার মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেঃকর্ণেল আরিফ মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান,গ্রেফতারকৃত জীপের মালিক আলী আকবর উক্ত চক্রের মূলহোতা। কুমিল্লা হতে নারায়ণগঞ্জে ফেন্সিডিল এর চালানটি পৌঁছে দেওয়ার জন্য ধৃত আলী আকবরের সাথে নারায়ণগঞ্জের জনৈক এক ব্যাক্তির সাথে চুক্তি হয়।
চুক্তি মোতাবেক ১৫ অক্টোবর রাত ১০০০ ঘটিকার সময় রাজধানীর তেজগাঁও হতে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে তার ব্যক্তিগত জীপ নিয়ে রওয়ানা করে। পরবর্তীতে কুমিল্লার সোয়াগাজী এলাকায় পৌঁছানোর পর জীপের মালিক আলী আকবর কুমিল্লার একটি হোটেলের সামনে অপেক্ষা করতে থাকে। এরই মধ্যে উক্ত চক্রের মূলহোতা আলী আকবর তার পূর্ব পরিচিত কাভার্ডভ্যানের ড্রাইভার নুর হোসেনকে ফোন করে কুমিল্লার সোয়াগাজী বাজারে অবস্থান করতে নির্দেশ দেয়।
কাভার্ডভ্যানটি সোয়াগাজী বাজারে এসে পৌঁছালে কুমিল্লা এলাকার ডিলার বস্তার ভিতরে ফেন্সিডিল ভর্তি করে কাভার্ডভ্যানে ফেন্সিডিল লোড করে দিয়ে কাভার্ডভ্যানটি তালাবদ্ধ করে দেয়। তারপর আলী আকবর জীপের ব্যাক ডালার ভিতরে বিশেষ কায়দায় ফেন্সিডিল লোড করে। এরপর তারা নারায়ণগঞ্জের জনৈক এক ব্যাক্তির নিকট উক্ত মাদক সরবরাহের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
গ্রেফতারকৃত আলী আকবরের নিজের ১ টি জীপ রয়েছে।মাদক ব্যবসা হতে অর্জিত অর্থ দিয়ে সে আট লক্ষ টাকায় উক্ত রিকন্ডিশন জীপটি ক্রয় করে।গ্রেফতারকৃত জীপের মালিক আলী আকবর কুমিল্লার সোয়াগাজীর সিন্ডিকেট হতে ফেন্সিডিল সংগ্রহ করে। ফেন্সিডিল সংগ্রহের পর কখনও আলী আকবর নিজে আবার কখনও তার নির্দেশনায় গ্রেফতারকৃত নুর হোসেন দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেয়।
বিগত ৩ বছর যাবত উক্ত চক্র ৫০টির অধিক চালান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রতিটি চালানে ৫০০ হতে ১৫০০ পর্যন্ত ফেন্সিডিল ছিল। উক্ত চক্র ফেন্সিডিলের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে গাঁজা ও ইয়াবার একাধিক চালান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেয়। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে উক্ত চক্রের সদস্যরা ইতিপূর্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ধৃত হয়নি। উক্ত চক্রের অপরাপর সদস্যদের বিরুদ্ধে র্যাব অভিযান অব্যাহত থাকবে রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ


























