১০:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামী লাতু মিয়া র‍্যাব কর্তৃক গ্রেফতার

গত ১৭ অক্টোবর ২২ ইং রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকা হতে ফেনী জেলার সোনাগাজীতে ২০০৩ সালে মাকে বেঁধে রেখে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১৩ বছরের মেয়েকে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত অন্যতম আসামী অলি নবী অরফে লাতু মিয়া (৫৫)ফেনীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‍্যাব-৩।

২০০৩ সালের ১৩ মে গভীর রাতে সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের একটি বাড়ীতে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে বিধবা মা ও ১৩ বছরের মেয়েকে জোর করে টেনে হিঁছড়ে বাইরে নিয়ে এসে মাকে বেঁধে রেখে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হত্যার ভয় দেখিয়ে আটকে রেখে মায়ের সামনেই মেয়েকে লাতু মিয়া, ফারুক, জাহাঙ্গীর আলম ও কাশেম মিলে গণধর্ষণ করে।

উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধনী ২০০৩ এর ৯ (৩) ধারায় আসামী মোঃ ফারুক, জাহাঙ্গীর আলম, আবুল কাশেম ও মোঃ লাতু মিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন।উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ১৩ আগস্ট ২০০৩ বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে দীর্ঘ ১৯ বছর পর ১৪ জুলাই ২০২২ খ্রিঃ বিজ্ঞ আদালত জাহাঙ্গীর আলম, আবুল কাশেম ও মোঃ লাতু মিয়াসহ অভিযুক্ত তিন আসামীর বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় মৃত্যুদন্ডের আদেশ প্রদান করেন। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামীকে ০২ লাখ টাকা অর্থদন্ড করেন এবং মোঃ ফারুকের বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত না হওয়ায় খালাস প্রদান করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামী জানায় ঘটনার সময়ে সোনাগাজী এলাকায় মোঃ ফারুক এর নেতৃত্বে সে, জাহাঙ্গীর আলম ও কাশেমসহ আরও অনেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, গ্রাম্য সালিশ বিচারে হস্তক্ষেপ, নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ উপার্জন, ভূমি দখল, জলমহাল দখল, খাস জমি দখল, এলাকায় গ্রুপিং সৃষ্টি করে ফায়দা নেয়া, বিবদমান বিষয়ে উসকানী দেয়া, এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির জন্য সশস্ত্র মহড়া দেয়া, অসহায় নারীদের উত্যক্ত করাসহ তারা নানা অপকর্ম করে বেড়াত।

উক্ত ঘটনার ভিকটিমের পিতা শিশুকালে মারা যাওয়ার পর ভিকটিমের বিধবা মাতা অতি কষ্টে দিন যাপন করছিলেন। তারা বিভিন্ন সময়ে ভিকটিম ও তার মাকে কুপ্রস্তাব দিত। কিন্তু উক্ত কুপ্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় ২০০৩ সালের ১৩ মে গভীর রাতে তারা চারজন মিলে উক্ত ঘটনা ঘটায়। ঘটনার পরদিন উক্ত ঘটনা ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে তারা আত্মগোপনে চলে যায়।

কিন্তু পরবর্তীতে তারা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার হয়ে কিছুদিন জেল খাটার পর জামিনে বের হয়ে সে, জাহাঙ্গীর ও কাশেম পলাতক জীবন শুরু করে। কিন্তু উক্ত সময়ে উক্ত মামলার আসামী ফারুক নিয়মিত বিজ্ঞ আদালতে হাজিরা দিত। জামিনে বের হওয়ার পর মামলা তুলে নেয়ার জন্য তারা ভিকটিম ও ভিকটিমের মাকে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে।

একপর্যায়ে সে ঢাকায় এসে হকার হিসেবে ফুটপাতে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিক্রয় করত। উক্ত পেশায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে পড়ার আশংকা থেকে সে দারোয়ানের চাকুরী নেয়। পলাতক সময়ে সে নিজেকে অলি নবী হিসেবে পরিচয় দিত। মামলার রায়ে মৃত্যুদন্ডের আদেশ হওয়ার পর সে ঢাকায় একটি মাজারে আত্মগোপন করে।গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামী লাতু মিয়া র‍্যাব কর্তৃক গ্রেফতার

প্রকাশিত : ০৭:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর ২০২২

গত ১৭ অক্টোবর ২২ ইং রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকা হতে ফেনী জেলার সোনাগাজীতে ২০০৩ সালে মাকে বেঁধে রেখে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১৩ বছরের মেয়েকে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত অন্যতম আসামী অলি নবী অরফে লাতু মিয়া (৫৫)ফেনীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‍্যাব-৩।

২০০৩ সালের ১৩ মে গভীর রাতে সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের একটি বাড়ীতে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে বিধবা মা ও ১৩ বছরের মেয়েকে জোর করে টেনে হিঁছড়ে বাইরে নিয়ে এসে মাকে বেঁধে রেখে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হত্যার ভয় দেখিয়ে আটকে রেখে মায়ের সামনেই মেয়েকে লাতু মিয়া, ফারুক, জাহাঙ্গীর আলম ও কাশেম মিলে গণধর্ষণ করে।

উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধনী ২০০৩ এর ৯ (৩) ধারায় আসামী মোঃ ফারুক, জাহাঙ্গীর আলম, আবুল কাশেম ও মোঃ লাতু মিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন।উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ১৩ আগস্ট ২০০৩ বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে দীর্ঘ ১৯ বছর পর ১৪ জুলাই ২০২২ খ্রিঃ বিজ্ঞ আদালত জাহাঙ্গীর আলম, আবুল কাশেম ও মোঃ লাতু মিয়াসহ অভিযুক্ত তিন আসামীর বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় মৃত্যুদন্ডের আদেশ প্রদান করেন। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামীকে ০২ লাখ টাকা অর্থদন্ড করেন এবং মোঃ ফারুকের বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত না হওয়ায় খালাস প্রদান করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামী জানায় ঘটনার সময়ে সোনাগাজী এলাকায় মোঃ ফারুক এর নেতৃত্বে সে, জাহাঙ্গীর আলম ও কাশেমসহ আরও অনেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, গ্রাম্য সালিশ বিচারে হস্তক্ষেপ, নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ উপার্জন, ভূমি দখল, জলমহাল দখল, খাস জমি দখল, এলাকায় গ্রুপিং সৃষ্টি করে ফায়দা নেয়া, বিবদমান বিষয়ে উসকানী দেয়া, এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির জন্য সশস্ত্র মহড়া দেয়া, অসহায় নারীদের উত্যক্ত করাসহ তারা নানা অপকর্ম করে বেড়াত।

উক্ত ঘটনার ভিকটিমের পিতা শিশুকালে মারা যাওয়ার পর ভিকটিমের বিধবা মাতা অতি কষ্টে দিন যাপন করছিলেন। তারা বিভিন্ন সময়ে ভিকটিম ও তার মাকে কুপ্রস্তাব দিত। কিন্তু উক্ত কুপ্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় ২০০৩ সালের ১৩ মে গভীর রাতে তারা চারজন মিলে উক্ত ঘটনা ঘটায়। ঘটনার পরদিন উক্ত ঘটনা ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে তারা আত্মগোপনে চলে যায়।

কিন্তু পরবর্তীতে তারা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার হয়ে কিছুদিন জেল খাটার পর জামিনে বের হয়ে সে, জাহাঙ্গীর ও কাশেম পলাতক জীবন শুরু করে। কিন্তু উক্ত সময়ে উক্ত মামলার আসামী ফারুক নিয়মিত বিজ্ঞ আদালতে হাজিরা দিত। জামিনে বের হওয়ার পর মামলা তুলে নেয়ার জন্য তারা ভিকটিম ও ভিকটিমের মাকে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে।

একপর্যায়ে সে ঢাকায় এসে হকার হিসেবে ফুটপাতে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিক্রয় করত। উক্ত পেশায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে পড়ার আশংকা থেকে সে দারোয়ানের চাকুরী নেয়। পলাতক সময়ে সে নিজেকে অলি নবী হিসেবে পরিচয় দিত। মামলার রায়ে মৃত্যুদন্ডের আদেশ হওয়ার পর সে ঢাকায় একটি মাজারে আত্মগোপন করে।গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ