ঢাকা রাত ১১:২০, শুক্রবার, ৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে চলছে বাউত উৎসব

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় চলছে বাউত উৎসব। নানা অপেশাদার ও শৌখিন মাছ শিকারিরা এ উৎসবে মেতে ওঠে। তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের কাটাবাড়ি বিল ও গুমানী নদীর মোহনায় নানা ধরনের মাছ ধরার উপকরণ। বিশেষ করে পলো নিয়ে মাছ শিকারে নামেন দুই শতাধিক মাছ শিকারি। তারা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নানা ধরনের মাছ শিকার করেন উৎসবের আমেজে।

মূলত চলনবিলের দেশীয় মাছের প্রাচুর্যের কারণেই বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ শিকার করতে আসা লোকজন জমিয়ে তুলতেন মাছ শিকারের সেসব এলাকা। আর মাছ শিকারের এ’উৎসবই স্থানীয়ভাবে এ এলাকার লোকজনের কাছে পলো বা বাউত উৎসব নামে পরিচিত বলে জানান কাটাবাড়ি বিলে মাছ শিকার করতে আসা ধামাইচ এলাকার আজিমুদ্দিন। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী বাউত বা পলো উৎস এলাকার ঐতিহ্য। পাশাপাশি সেখানে কথা হয় কাটাবাড়ি গ্রামের সিরাজুল হকের সঙ্গে তিনি জানান, সুদূর অতীতে তাড়াশ এলাকায় বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরই, বিশেষ করে অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে বা শীতের কোনো এক সকালে বিভিন্ন জলাশয়ে দলবদ্ধ হয়ে গ্রাম বা এলাকাবাসী তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে মাছ শিকার করতে যেতেন। সেখানে পলো, বেড় জাল, হেসি জালসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ শিকারের উপকরণ ব্যবহার করা হতো সে সময়। জলাশয়ে যখন গ্রামের কিংবা এলাকার শত শত লোকজন একই সঙ্গে একই স্থানে মাছ শিকারে নেমে পড়েন, তখন জলাশয়ের জল ঘোলা হয়ে যেত। এতে ওই জলাশয়ে থাকা মাছগুলো জেগে উঠত। আর তখনই মাছ শিকারিরা মনের আনন্দে তা শিকার করে খালৈ বা পাতিলবোঝাই করে বাড়িতে ফিরতেন, যা ছিল বাউত বা পলো উৎসবের অন্যতম আনন্দ।

কাটাবাড়ি গ্রামে ঐতিহ্যবাহী পলো বা বাউত উৎসব মাছ শিকার করতে আসা পাশ্ববর্তী কুন্দইল গ্রামের আরেক মাছ শিকারি নজরুল ধামাইচ গ্রামের সাক্তার, বিলসা গ্রামে মোহাম্মাদ আলী জানান, এ বছর চলনবিলে বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরই, বিশেষ করে বিভিন্ন জলাশয়ে দলবদ্ধ হয়ে গ্রাম বা এলাকাবাসী তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে মাছ শিকার করছেন। কাটাবাড়ি গ্রামে চলছে সে পলো বা বাউত উৎসব। আর অনেকেই আজ মাছ শিকার করে বাড়ি ফিরবেন। এ’প্রসঙ্গে তাড়াশ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক শফিউল হক বাবলু বলেন, অতীতে পলো বা বাউত উৎসব অনেক হলেও এখন তেমন আর হয় না। কেননা বর্তমানে জলাশয় ভরাট, বিলের তলায় পলি জমে তা আবাদি জমিতে পরিণত হওয়াসহ নানা উপায়ে খাস সম্পত্তি দখল ও মালিকানায় রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে পলো বা বাউত উৎসব করে মাছ শিকার করার স্থান কমে এসেছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব

এ বিভাগের আরও সংবাদ