ঢাকা সকাল ১০:১৯, শুক্রবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রেলওয়ে ভূমিতে মাদকের স্পট উচ্ছেদের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

বন্দর নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় রেলওয়ের ভূমিতে গড়ে উঠা মাদকের স্পট উচ্ছেদের দাবিতে চটগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের কার্যালয় ঘেরাও করে মানববন্ধন করেছে রেলওয়ে অঞ্চলের সাধারণ এলাকাবাসী। রবিবার, ২৭ নভেম্বর দুপুর ১২ টার দিকে মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার এর কার্যালয় প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে উক্ত মানববন্ধনে দলে দলে যোগদান করেন পাহাড়তলী রেলওয়ের বিভিন্ন এলাকার সমাজ কল্যান কমিটি, মসজিদ কমিটি, মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ শিক্ষার্থী মহল, যুব সমাজ, ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ সহ সাধারণ এলাকাবাসী।

এসময় চটগ্রাম ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার আবিদুর রহমানের হাতে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন প্রীতিলতা স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির আহবায়ক মহিন উদ্দিন, সদস্য সচিব লিটন চৌধুরী রিংকু, মাস্টার মাস্টারলাইন সমাজ কল্যানের সাবেক সহ সভাপতি ইউছুফ রশীদি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোক্তার হোসেন, রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন সাগর, হাসপাতাল কলোনী মন্দির কমিটির সভাপতি বিষ্নু দাশ, যুব নেতা বিপ্লব দাশ, যুব নেতা জাবেদ হোসেন, ছাত্র নেতা শরীফুদ্দিন সোহাগ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

গণস্বাক্ষর সহ স্মারকলিপি হস্তান্তর করলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে মাদক, চুরি ও ছিনতাইয়ের আতুরঘর স্ক্রাব কলোনীকে উচ্ছেদ করবেন বলে উপস্থিত নেতৃবৃন্দদের আশ্বাস প্রদান করেন বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক আবিদুর রহমান।

স্মারকলিপিতে লেখা ছিলো, ❝নান্দনিক পাহাড়তলী বাসীর শুভেচ্ছা গ্রহন করিবেন। আপনি বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রাণ কেন্দ্র পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অভিভাবক। অত্যান্ত দক্ষতার সাথে দীর্ঘদিন ধরে সুনাম ও সফলতা অর্জনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিভাগের রেলওয়েকে আপনি পরিচালনা করে আসছেন। আপনার আওতাধীন অঞ্চলের এলাকাগুলোর মধ্যে ব্যপক ঐতিহাসিক এলাকা আমাদের প্রাণের বৃহত্তম পাহাড়তলী এলাকা। যেখান থেকে প্রীতিলতা, সূর্যসেন, বিনোধ বিহারীদের মতো সূর্যসন্তানদের নেতৃত্বে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে, যাদের স্মৃতি আমরা পাহড়তলীবাসীরা আজ পর্যন্ত গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। এই পাহাড়তলী রেলওয়ে এলাকার বিভিন্ন কলোনী থেকে যুগে যুগে অনেক রেল কৃতী সন্তানেরা বড় হয়ে আজ দেশের গুরুত্বপূর্ন স্থানে রয়েছেন যা আমাদের সকলের জন্যে অত্যান্ত গর্বের বিষয়। পাহাড়তলী থেকে উন্থান হওয়া এই সকল দেশ প্রেমিক ও মেধাবী কৃতী সন্তানদের সফলতার গল্পগুলো আমাদের প্রাণের পাহাড়তলীর নান্দনিক পরিবেশের ফল যা আজ ধ্বংসের মুখে।

অত্যান্ত দুঃখের সাথে আজ আপনাকে জানাতে হচ্ছে আমাদের এই নান্দনিক পাহাড়তলীতে রেলওয়ের ভূমিতেই রয়েছে চট্টগ্রাম শহরের সর্ববৃহৎ উন্মুক্ত মাদকের আখড়া। যেখানে দিনে রাতে এক তালে চলছে মাদক ব্যবসা। শুধু তাই নয় মাদক ব্যবসায়ীদের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি করে আনা মালামাল কেনা বেচার জমজমাট হাট বাজারে রূপ নিয়েছে এই প্রাণের পাহাড়তলীর পুলিশ বিট মোড়স্থ রেলওয়ের স্ক্রাব সেল ডিপোর পিছনের অংশ যার নাম স্ক্রাব কলোনী।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের তিনটি থানার মোড় এই রেলওয়ে ভূমি স্ক্রাব কলোনী। যেকারণে প্রতিনিয়ত প্রশাসনিক বল প্রয়োগে নানা জটিলতার সুযোগ নিয়ে রেল ও পুলিশ প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এলাকার যুবসমাজ বিনষ্ট করার কারখানায় রূপ নিয়েছে এই অবৈধ কলোনী। বিগত ২ থেকে ৩ বছর আগেও যে সকল শত শত যুবক খেলতে গিয়ে শহীদ শাহাজান মাঠে ভিড় জমাতো সেই শত শত এলাকার তরুন যুবকদের আনাগোনা দেখা যায় এই মাদক স¤্রাজ্য স্ক্রাব কলোনীতে। এই কলোনীর অবৈধ মাদক ব্যবসায়ী ও চোর সিন্ডিকেটকে নিধন করতে গিয়ে এই যাবৎ বেশ কয়েকবার হামলা ও অঙ্গহানীর শিকার হয়েছেন র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ ও সাংবাদিক সহ অনেকেই। কলোনীটির উত্তর পাশে থাকা খাল, পূর্ব পাশে থাকা রেলওয়ের স্ক্রাব সেল ডিপোর উচু প্রাচীর, দক্ষিণ পাশে থাকা বিস্তির্ণ রেললাইন যেনো অনেকটা ভৌগলিক বেষ্টনীতে আবদ্ধ করে ভিন্ন একটি জগতের রূপ দিয়ে রেখেছে এই স্ক্রাব কলোনীকে।

এই যাবৎ বহুবার এই রেলভূমিতে অবৈধ দখল উচ্ছেদের মাধ্যমে সংরক্ষণ করার কথা থাকলেও কোনো এক অজানা কারণে তা আর হয়ে উঠে নি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব

এ বিভাগের আরও সংবাদ