কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিভা ফার্মেসীর স্বত্বাধিকারী মাহবুব আফাজ চিকিৎসক না হয়েও রোগী দেখছেন এমন অভিযোগ উঠেছে। কয়েকদিন আগে এক শিশুকে চিকিৎসা দিলে ওই শিশু আরও অসুস্থ হয়ে তার জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে শিশুটির অভিভাবক ভুয়া চিকিৎসককে বিষয়টি জানাতে যায়। এসময় ওই ভুয়া চিকিৎসক উত্তেজিত হয়ে অভিভাবকের উপর চড়াও হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এবিষয়ে ভেড়ামারা থানায় দুজনেই অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, কয়েকদিন আগে পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাচারিপাড়া এলাকার মৃত. জালাল উদ্দিনের ছেলে মো. লিটন (৩৫) তার সন্তানকে মাহবুব আফাজের কাছে তার শিশুর চিকিৎসার জন্য ভালো চিকিৎসক কোনটা জানতে পরামর্শ নিতে যায়। এসময় বিভা ফার্মেসীর মালিক নিজেই শিশুটিকে চিকিৎসা দেয় এবং বলে এই ঔষধ খেলে ভালো হয়ে যাবে। তেমন কিছু হয়নি। এতে ভালো হয়ে যাবে জানায়। কোন শিশু বিশেষজ্ঞর কাছে যাওয়া লাগবে বলে সে জানায়। এরপর অফাজের দেওয়া ওষুধ খেয়ে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে জানতে পারে ভুল চিকিৎসা করা হয়েছে।
শিশুটির অভিভাবক এ বিষয়ে আফাজকে জানাতে গেলে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এরপর দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এর পরেই তার উপর হামলা করা হয়েছে বলে ফার্মেসীর স্বত্বাধিকারী মাহবুব আফাজ অভিযোগ করেন।
থানার অভিযোগে তিনি প্রকৃত ঘটনা উল্লেখ না করে লিখেছেন অভিভাবক লিটন তার কাছে ঘুমের ঔষধ নিতে আসে। না দিলে তার উপর লিটন ও তার লোকজন হামলা করে আহত ও ফার্মেসি ভাংচুর করেছে।
বিভা ফার্মেসীর স্বত্বাধিকারী মাহবুব আফাজ বলেন, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঘুমের ঔষধ দিতে অস্বীকৃতি জানালে লিটন ও তার সঙ্গীরা আমাকে পিটিয়ে আহত ও দোকান ভাংচুর করে। দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
শিশুর অভিভাবক লিটন বলেন, আমার ছেলে আরফান অসুস্থ হলে আফাজ ভাইয়ের কাছে যায় কোন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো। তিনি বলেন আমি ঔষধ দিচ্ছি ভালো হয়ে হয়ে যাবে। তেমন কিছুই হয়নি বলে জানায়। পরে ঔষধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে যায়। ছেলের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে যায়। জানতে পারি ভুল চিকিৎসা দিয়েছে। বিষয়টি তাকে জানাতে গেলে আমার উপর চড়াও হয়। আমি বিষয়টি থানায় লিখিত ভাবে অভিযোগ দিয়েছি।
ভেড়ামারা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আকিবুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ফার্মেসীর মালিক শিশু বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসক না হয়েও চিকিৎসা দিয়েছেন। এতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। অভিভাবক ও তার মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। আফাজের অভিযোগ সম্পন্ন নয়। অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা উল্লেখ করা হয়নি। প্রকৃত ঘটনা উল্লেখ করে আবার অভিযোগ দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপর দিকে অভিভাবকের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি।




















