০৭:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

বৃদ্ধাশ্রম নয় পরিবার হোক বার্ধক্য জীবনের আমৃত্যু আশ্রয়

মানব সমাজের সভ্যতার গতি যত বেগবান হচ্ছে তত কমে যাচ্ছে আবেগ, আন্তরিকতা, ভালোবাসা, মানবিকতা, কৃতজ্ঞতার মত মানবহৃদয়ের কোমল মন। ফলে ক্রমান্বয়ে আমরা হৃদয়হীন পশুতে পরিণত হচ্ছি। সৃষ্টিকর্তার এই সৃষ্টিশলায় বৃদ্ধি বৃত্তি সম্পন্ন একমাত্র জীব হচ্ছে মানুষ। তারই সৃষ্টির সেরা সম্পদ বলে গর্ব এবং অহংকার করে থাকেন। সংবেদনশীল ও হৃদয় সম্পদের ধনী বলে দাবি করা মানুষ কি আসলেই তাই? আমার কাছে এই বিষয়টা সবচেয়ে বড় অদ্ভুত লাগে। এই হৃদয় সম্পদে ধনী মানুষই হৃদয়হীন, অমানবিক হিসেবে পরিচিত পাচ্ছে। একটি শিশুর জীবনের প্রথম প্রভাতে যার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় তিনি হচ্ছেন মা। জীবনের পরম আদর গুলো মায়ের কাছেই পেয়ে থাকেন। সেই সঙ্গে বাবার খাটুনি করা শেষে ঘাম ভেজা শরীরে জড়িয়ে ধরা, চুমু দেওয়ার মতো ঐশ্বরিক সুখ পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যাবে না। বাবা মার মায়া মমতা স্নেহ ভালোবাসা ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠে প্রতিটি শিশু। সন্তানের প্রতি তাদের স্নেহ অকৃত্রিম এবং অতুলনীয়। আমার মিলিত আত্মত্যাগ পরিশ্রম ও স্নেহে লালিত পালিত শিশু ক্রমে পা বাড়ায় আত্ম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এবং একদিন এই বাবা মার কাঁদে ভর করে সেই কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। বড় দুঃখের বিষয় পরিতাপের বিষয়ে এই শিশু যখন বড় হয়ে নিজ পায়ে দাঁড়ায় এবং নিজের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তখন সে ভুলে যায় তার বাবা মার সেই আত্মত্যাগ, কষ্ট পরিশ্রমের চিরন্তলি লড়াইকে। এই সন্তানের কাছে তখন বৃদ্ধ বাবা মা বোঝা হয়ে যায়। এভাবেই সৃষ্টি হয় আরেকটি দরজা। যেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হয় বৃদ্ধাশ্রমে। মাসে মাসে বৃদ্ধাশ্রমে কিছু টাকা পাঠিয়ে কৃতজ্ঞতার পবিত্রদায় পালন করে এই হৃদয়হীন আধুনিক প্রজন্ম। কখনো খোঁজও নেয় না বাব মা কেমন আছেন? স্নেহ ভালবাসা মায়া মমতা এই সবকিছুর বিনিময় তখন শুধু অবহেলা। এই কৃতজ্ঞতাহীন হৃদয় হত্যার কাহিনী আমাদের জন্য সত্যই বড় লজ্জার এবং দুর্ভাগ্যের। যে বাবা-মা নিজেদের রক্তকে পানি করে শরীরে ঘাম ঝরিয়ে নিজে না খেয়ে সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সর্বশো ত্যাগ করলেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অবজ্ঞা অবহেলায় কি তাদের পাওনা ছিল? এটা কি তাদের উপযুক্ত প্রতিদান? একটু ভালোবাসা যত্ন সুখ চাওয়া কি তাদের অন্যায়। মানুষ মূলত দুইবার পুরোপুরিভাবে পর নির্ভরশীল হয়। প্রথমত শিশুকালে শেষমেষ বার্ধক্যকে। বার্ধক্য মানব জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একে এড়িয়ে যাওয়ার মত কোন পথ খোলা নেই। বার্ধককে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যুবরণ করেন যারা, তাদের কথা আলাদা। যারা বার্ধক্যে উপনীত হয়ে কালাতিপাত করছেন, তারা কিছু না কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। কারণ বার্ধক কে তাদের রূপ যৌবন কেড়ে নেয়। তাছাড়া বার্ধক্য মানুষ একদম নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। তখন অধিকাংশ পরিবারের সচল ব্যক্তিদের অবহেলায়, অনাদরে তাদের দিন কাটে। বর্তমানে সময়ে পরিবর্তিত, সামাজিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় যৌথ পরিবারের ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। বাড়িতে ছেলের বউ কিংবা ছেলের সঙ্গে বোনি বোনার অভাবে তারা একই বাড়িতে থাকতে পারছেন না। তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বৃদ্ধ বাবা মার প্রত্যাশা খুব বেশি কিছু নয়। দুবেলা দুমুঠো খাবার, একটু আশ্রয়, ঠিকানা যত্ন আর বেশি করে ভালবাসা। ভুলে গেলে চলবে না তারা আমাদের একান্ত আপনজন আমাদের জন্মদাতা আমাদের বাবা মা। তারা আমাদের লালন-পালন করে মানুষের মতো মানুষ না করলে আজ আমরা কোথায় থাকতাম। পোশাকে আধুনিকতা আসে না, আসে ভাবনা মন ও মননে। আমাদের মন ও মনন সেই অঙ্গীকারের শুদ্ধতাই উজ্জ্বল হোক এটাই কামনা করি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সুইহারী আশ্রম এর দূর্গাপূজা পুর্নমিলনীতে এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম

বৃদ্ধাশ্রম নয় পরিবার হোক বার্ধক্য জীবনের আমৃত্যু আশ্রয়

প্রকাশিত : ০৫:১২:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

মানব সমাজের সভ্যতার গতি যত বেগবান হচ্ছে তত কমে যাচ্ছে আবেগ, আন্তরিকতা, ভালোবাসা, মানবিকতা, কৃতজ্ঞতার মত মানবহৃদয়ের কোমল মন। ফলে ক্রমান্বয়ে আমরা হৃদয়হীন পশুতে পরিণত হচ্ছি। সৃষ্টিকর্তার এই সৃষ্টিশলায় বৃদ্ধি বৃত্তি সম্পন্ন একমাত্র জীব হচ্ছে মানুষ। তারই সৃষ্টির সেরা সম্পদ বলে গর্ব এবং অহংকার করে থাকেন। সংবেদনশীল ও হৃদয় সম্পদের ধনী বলে দাবি করা মানুষ কি আসলেই তাই? আমার কাছে এই বিষয়টা সবচেয়ে বড় অদ্ভুত লাগে। এই হৃদয় সম্পদে ধনী মানুষই হৃদয়হীন, অমানবিক হিসেবে পরিচিত পাচ্ছে। একটি শিশুর জীবনের প্রথম প্রভাতে যার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় তিনি হচ্ছেন মা। জীবনের পরম আদর গুলো মায়ের কাছেই পেয়ে থাকেন। সেই সঙ্গে বাবার খাটুনি করা শেষে ঘাম ভেজা শরীরে জড়িয়ে ধরা, চুমু দেওয়ার মতো ঐশ্বরিক সুখ পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যাবে না। বাবা মার মায়া মমতা স্নেহ ভালোবাসা ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠে প্রতিটি শিশু। সন্তানের প্রতি তাদের স্নেহ অকৃত্রিম এবং অতুলনীয়। আমার মিলিত আত্মত্যাগ পরিশ্রম ও স্নেহে লালিত পালিত শিশু ক্রমে পা বাড়ায় আত্ম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এবং একদিন এই বাবা মার কাঁদে ভর করে সেই কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। বড় দুঃখের বিষয় পরিতাপের বিষয়ে এই শিশু যখন বড় হয়ে নিজ পায়ে দাঁড়ায় এবং নিজের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তখন সে ভুলে যায় তার বাবা মার সেই আত্মত্যাগ, কষ্ট পরিশ্রমের চিরন্তলি লড়াইকে। এই সন্তানের কাছে তখন বৃদ্ধ বাবা মা বোঝা হয়ে যায়। এভাবেই সৃষ্টি হয় আরেকটি দরজা। যেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হয় বৃদ্ধাশ্রমে। মাসে মাসে বৃদ্ধাশ্রমে কিছু টাকা পাঠিয়ে কৃতজ্ঞতার পবিত্রদায় পালন করে এই হৃদয়হীন আধুনিক প্রজন্ম। কখনো খোঁজও নেয় না বাব মা কেমন আছেন? স্নেহ ভালবাসা মায়া মমতা এই সবকিছুর বিনিময় তখন শুধু অবহেলা। এই কৃতজ্ঞতাহীন হৃদয় হত্যার কাহিনী আমাদের জন্য সত্যই বড় লজ্জার এবং দুর্ভাগ্যের। যে বাবা-মা নিজেদের রক্তকে পানি করে শরীরে ঘাম ঝরিয়ে নিজে না খেয়ে সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সর্বশো ত্যাগ করলেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অবজ্ঞা অবহেলায় কি তাদের পাওনা ছিল? এটা কি তাদের উপযুক্ত প্রতিদান? একটু ভালোবাসা যত্ন সুখ চাওয়া কি তাদের অন্যায়। মানুষ মূলত দুইবার পুরোপুরিভাবে পর নির্ভরশীল হয়। প্রথমত শিশুকালে শেষমেষ বার্ধক্যকে। বার্ধক্য মানব জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একে এড়িয়ে যাওয়ার মত কোন পথ খোলা নেই। বার্ধককে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যুবরণ করেন যারা, তাদের কথা আলাদা। যারা বার্ধক্যে উপনীত হয়ে কালাতিপাত করছেন, তারা কিছু না কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। কারণ বার্ধক কে তাদের রূপ যৌবন কেড়ে নেয়। তাছাড়া বার্ধক্য মানুষ একদম নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। তখন অধিকাংশ পরিবারের সচল ব্যক্তিদের অবহেলায়, অনাদরে তাদের দিন কাটে। বর্তমানে সময়ে পরিবর্তিত, সামাজিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় যৌথ পরিবারের ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। বাড়িতে ছেলের বউ কিংবা ছেলের সঙ্গে বোনি বোনার অভাবে তারা একই বাড়িতে থাকতে পারছেন না। তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বৃদ্ধ বাবা মার প্রত্যাশা খুব বেশি কিছু নয়। দুবেলা দুমুঠো খাবার, একটু আশ্রয়, ঠিকানা যত্ন আর বেশি করে ভালবাসা। ভুলে গেলে চলবে না তারা আমাদের একান্ত আপনজন আমাদের জন্মদাতা আমাদের বাবা মা। তারা আমাদের লালন-পালন করে মানুষের মতো মানুষ না করলে আজ আমরা কোথায় থাকতাম। পোশাকে আধুনিকতা আসে না, আসে ভাবনা মন ও মননে। আমাদের মন ও মনন সেই অঙ্গীকারের শুদ্ধতাই উজ্জ্বল হোক এটাই কামনা করি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh