দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- ১’ উৎক্ষেপণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে স্পেসএক্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি দল। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৮টায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদসহ বাংলাদেশ সরকার ও বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের নেতৃত্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ প্রতিনিধি দলটি মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডো শহরে পৌঁছায়। অরল্যান্ডো শহরে পৌঁছানোর পর পলক ছবিসহ ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন।
পলক লিখেছেন, অরল্যান্ডো এসে পৌঁছালাম। আগামী ১০ মে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ হবে ইনশাআল্লাহ। সকলের দোয়া কামনা করি।

এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেয়া হচ্ছে ১ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা। আর ঋণ হিসেবে এইচএসবিসি ব্যাংক বাকি ১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা দিচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকি ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য রাখা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্পেস এক্সের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে উপস্থিত থাকবে এ প্রতিনিধি দলটি। এছাড়া সেখানে উপস্থিত থাকবেন জয়।
আগামী ১০ মে উৎক্ষেপণের জন্য চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে স্পেসএক্স। এর আগে কয়েকবার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের তারিখ পেছানো হয়। সর্বশেষ গত ৭ মে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের তারিখ নির্ধারিত ছিল। পরে এটি পিছিয়ে ১০ মে করা হয়।
৪ মে স্যাটেলাইটটির পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফল হওয়ার কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। অরল্যান্ডোর কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্যাটেলাইটটির পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১৭ সালের অক্টোবরে। এর পর গত ডিসেম্বরে এর সার্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে ওড়ার উপযোগী ঘোষণা করা হয়। এরই মধ্যে ১৬ ডিসেম্বর বৈরি আবহাওয়া এবং আরো কিছু যুক্তিযুক্ত বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের তারিখ পিছিয়ে যায়।
























