কেউ বাড়ি বিক্রির টাকা, আবার কেউ প্রবাসী মৃত সন্তানের টাকা, দিন মজুরদের জমানো টাকাসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ একটু লাভের আশায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় (এনজিও) টাকা রেখেছিলেন। কয়েক বছর লাভ পেলেও বছর দুয়েক আগে থেকে সেই লাভ দেয়া বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ। এমননি গত ছয় মাস যাবত গ্রাহকদের প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে নির্বাহী পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা। ফলে অনেক গ্রাহক এখন নিঃস্ব হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা গ্রামের সোসাইটি ফর হিউম্যান ইউনিটি এন্ড রিসোর্সেস ইউটিলাইজেশন (শুরু) নামের এনজিও কর্তৃপক্ষ এমন কান্ড ঘটিয়েছে। টাকা ফেরত পেতে জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে গ্রাহকরা। এনজিও’র মালিক পলাতক থাকায় হতাশায় ভুগছে গ্রাহকরা। শুক্রবার সকালে টাকা ফেরত পেতে ওই এনজিও কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে গ্রাহকরা। মানববন্ধন চলাচলে বক্তব্য রাখেন ওই এনজিও এর সদস্য তারেক হাসান, আলী আহম্মদ, জয়নু বেগম, অঞ্জনা বেগম প্রমুখ।
গ্রাহকরা জানান, ১২ বছর আগে গালা গ্রামের মাজেদুর রহমান, আবু সাইদ, আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েক জনে মিলে ‘শুরু’ নামের এনজিওটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে বাড়ি বিক্রির টাকা, গ্রামের মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিরীহ কৃষক ও দিন মজুরাও টাকা রাখেন। এমননি অনেক প্রবাসীরাও টাকা রেখেছেন। তিন শতাধিক গ্রাহকের প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা নিয়ে এনজিও নির্বাহী পরিচালক মাজেদুর রহমান উধাও হয়েছেন। কষ্টে অর্জিত টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গ্রাহকরা।
৮৫ বছরের বৃদ্ধ আলী আহম্মদ বলেন, আমার চার মেয়ে ও এক ছেলে। ১০ বছর আগে সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় আমার ছেলে মারা যায়। সেখান থেকে পাওয়া দুই লাখ টাকা ‘শুরু’ এনজিওতে রেখেছিলাম। সেই দুই লাখ টাকা নিয়েও মালিক পালিয়েছে। আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি।
শারিরীক প্রতিবন্ধী শাহজাহান মিয়া বলেন, আমি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারি না। তাই বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ভিক্ষা করে জীবন যাপন করি। সেই টাকা থেকে জমিয়ে এক লাখ টাকা ১২ বছর আগে জমা করেছিলাম। সেখান থেকে আমি কোন লাভ নেয়নি। সেই টাকা নিয়েও মালিক পালিয়েছে। কোথায় গেলে, কার কাছে গেলে আমার টাকা ফেরত পাবো আমি তাও জানি না।
৬০ বছরের বৃদ্ধা জয়নু বেগম বলেন, আমার বাড়ি বিক্রি করা চার লাখ টাকা এই এনজিওতে রেখেছিলাম। আমার টাকা নিয়ে মালিক পালিয়ে যাওয়ায় আমি এখন নিঃস্ব। হতাশায় ভুগছি।
অপর গ্রাহক তারেক হাসান, বাবলী তালুকদার, অজ্ঞনা বেগম, মঞ্জু বেগম ও রহমান আলী বলেন, এই ‘শুরু’ এনজিওতে আমাদের গ্রামের তিন শতাধিক গ্রাহকের সাড়ে তিন কোটি টাকা জমা ছিলো। সেই টাকা নিয়ে মালিক পালিয়েছে। আমাদের টাকা ফেরত চাই।
এ বিষয়ে শুরু এনজিও’র নির্বাহী পরিচালক মাজেদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, কয়েক প্রতারক চক্র মিলে এনজিওটি করেছিলো। আমরা তাদের তাদের কোন অনুমতি দেয়নি। তবে আমরা ওই কমিটি বাতিলের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করতে পারবো।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব










