০৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ডোর-টু-ডোর যাচাইয়ে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ১৪৭২ মৃত ভাতাভোগী শনাক্ত : ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরাসরি যাচাই-বাছাই বা ‘ডোর-টু-ডোর লাইভ ভেরিফিকেশন’ কার্যক্রমের মাধ্যমে ১ হাজার ৪৭২ জন মৃত ভাতাভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধের পাশাপাশি প্রকৃত ও অসহায় মানুষের কাছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পথ আরও সুগম হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বয়স্ক ভাতা বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০১৩, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৪ এবং প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম নীতিমালা-২০২৫ এর আলোকে এ যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। চলতি বছরের ৩রা জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ইউনিয়ন কমিটির সার্বিক সহযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভাতাভোগীদের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে যাচাই করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যাচাই শেষে কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর সংবলিত তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করে গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিত উপজেলা ভাতা বাস্তবায়ন কমিটির সভায় শনাক্ত হওয়া মৃত ভাতাভোগীদের ভাতা স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রথম কিস্তির পে-রোলে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত না করার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভুয়া ফটোকার্ড ও বিভ্রন্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, যাচাই করা তালিকায় চাঁদখানা ইউনিয়নের ‘মোহনী বালা’ নামে কোনো ভাতাভোগীর অস্তিত্ব নেই। অন্যদিকে, আব্দুল মজিদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই নিয়ম অনুযায়ী তাঁর ভাতা স্থগিত করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে দুস্থ ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। এ সহায়তা যেন কোনোভাবেই অপব্যবহার বা অনিয়মের শিকার না হয়, সে লক্ষ্যেই আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের ডোর-টু-ডোর যাচাই কার্যক্রম ভবিষ্যতে ভাতা বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

সমাজসেবা কার্যালয়ের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সুধীজন ও সচেতন নাগরিকরা। তাঁদের মতে, মাঠপর্যায়ে সরাসরি যাচাইয়ের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের অধিকার নিশ্চিত করার এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মাছুম আলী বলেন, কিশোরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এ সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, বরং দেশব্যাপী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়নেও একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ডিবির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুনকে বরখাস্ত

ডোর-টু-ডোর যাচাইয়ে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ১৪৭২ মৃত ভাতাভোগী শনাক্ত : ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত : ০৩:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরাসরি যাচাই-বাছাই বা ‘ডোর-টু-ডোর লাইভ ভেরিফিকেশন’ কার্যক্রমের মাধ্যমে ১ হাজার ৪৭২ জন মৃত ভাতাভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধের পাশাপাশি প্রকৃত ও অসহায় মানুষের কাছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পথ আরও সুগম হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বয়স্ক ভাতা বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০১৩, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৪ এবং প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম নীতিমালা-২০২৫ এর আলোকে এ যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। চলতি বছরের ৩রা জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ইউনিয়ন কমিটির সার্বিক সহযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভাতাভোগীদের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে যাচাই করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যাচাই শেষে কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর সংবলিত তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করে গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিত উপজেলা ভাতা বাস্তবায়ন কমিটির সভায় শনাক্ত হওয়া মৃত ভাতাভোগীদের ভাতা স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রথম কিস্তির পে-রোলে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত না করার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভুয়া ফটোকার্ড ও বিভ্রন্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, যাচাই করা তালিকায় চাঁদখানা ইউনিয়নের ‘মোহনী বালা’ নামে কোনো ভাতাভোগীর অস্তিত্ব নেই। অন্যদিকে, আব্দুল মজিদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই নিয়ম অনুযায়ী তাঁর ভাতা স্থগিত করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে দুস্থ ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। এ সহায়তা যেন কোনোভাবেই অপব্যবহার বা অনিয়মের শিকার না হয়, সে লক্ষ্যেই আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের ডোর-টু-ডোর যাচাই কার্যক্রম ভবিষ্যতে ভাতা বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

সমাজসেবা কার্যালয়ের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সুধীজন ও সচেতন নাগরিকরা। তাঁদের মতে, মাঠপর্যায়ে সরাসরি যাচাইয়ের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের অধিকার নিশ্চিত করার এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মাছুম আলী বলেন, কিশোরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এ সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, বরং দেশব্যাপী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়নেও একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

ডিএস./