০৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে প্রথমবারের মতো কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব অনুষ্ঠিত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ উৎসবে কবীর ও লালনের মরমী সংগীত উপভোগ করেন প দর্শক-শ্রোতা।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় লালন বিশ্বসংঘ আয়োজিত এ উৎসবে ঢাকা থেকে আসা কবীর-লালন মিউজিক্যাল মিশনের ১০ জন গুণী ভাবসংগীত শিল্পী সংগীত পরিবেশন করেন। তাঁদের পরিবেশনায় মূর্ত হয়ে ওঠে কবীর ও লালনের মানবতাবাদী, অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তচিন্তার দর্শন।

শ্রীমঙ্গলের কৃতী লেখক ও গবেষক অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ উৎসবের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করা হয়। পরে প্রধান অতিথি মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী আলোক প্রজ্বালনের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
আবদুল মান্নানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী অনিরুদ্ধ দাস।

শিল্পীদের কণ্ঠে একের পর এক মরমী গান পরিবেশিত হলে দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন। গানের বাণী ও সুরে উঠে আসে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সাম্য, মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং আত্মোপলব্ধির নানা দর্শন। পুরো আয়োজনজুড়ে সৃষ্টি হয় এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক আবহ।

উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিতে এ উৎসবের যাত্রা শুরু হয়। পরে দেশের সাতটি বিভাগে ধারাবাহিকভাবে উৎসবটি আয়োজন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শ্রীমঙ্গলের আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

আয়োজকেরা জানান, কবীর ও লালনের দর্শন, মানবতাবাদ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং মরমী সংগীতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে তুলে ধরাই এ উৎসবের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি সংগীতের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ডিবির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুনকে বরখাস্ত

শ্রীমঙ্গলে প্রথমবারের মতো কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত : ০৩:১৪:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ উৎসবে কবীর ও লালনের মরমী সংগীত উপভোগ করেন প দর্শক-শ্রোতা।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় লালন বিশ্বসংঘ আয়োজিত এ উৎসবে ঢাকা থেকে আসা কবীর-লালন মিউজিক্যাল মিশনের ১০ জন গুণী ভাবসংগীত শিল্পী সংগীত পরিবেশন করেন। তাঁদের পরিবেশনায় মূর্ত হয়ে ওঠে কবীর ও লালনের মানবতাবাদী, অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তচিন্তার দর্শন।

শ্রীমঙ্গলের কৃতী লেখক ও গবেষক অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ উৎসবের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করা হয়। পরে প্রধান অতিথি মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী আলোক প্রজ্বালনের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
আবদুল মান্নানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী অনিরুদ্ধ দাস।

শিল্পীদের কণ্ঠে একের পর এক মরমী গান পরিবেশিত হলে দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন। গানের বাণী ও সুরে উঠে আসে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সাম্য, মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং আত্মোপলব্ধির নানা দর্শন। পুরো আয়োজনজুড়ে সৃষ্টি হয় এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক আবহ।

উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিতে এ উৎসবের যাত্রা শুরু হয়। পরে দেশের সাতটি বিভাগে ধারাবাহিকভাবে উৎসবটি আয়োজন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শ্রীমঙ্গলের আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

আয়োজকেরা জানান, কবীর ও লালনের দর্শন, মানবতাবাদ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং মরমী সংগীতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে তুলে ধরাই এ উৎসবের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি সংগীতের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ডিএস./