গাজীপুরের কালীগঞ্জে পরপর দুই দিনে পৃথক দুটি মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার এক গ্রামে কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরদিন পৌর এলাকার আরেকটি স্থান থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুটি ঘটনাই ঘটেছে পৃথক এলাকায়। পুলিশ উভয় মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করেছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের মধ্য চুয়ারিয়াখোলা গ্রামে অনিক বিশ্বাস (১৮) নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা রতন বিশ্বাসের ছেলে এবং কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করতেন।
পরিবারের সদস্যরা বাড়ির একটি কক্ষে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অনিকের চাচা নারায়ণ বিশ্বাস এ তথ্য জানিয়েছেন।
এরপর শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে কালীগঞ্জ পৌরসভার বালীগাঁও চৌধুরীবাড়ী এলাকার শিশু মিতালী পার্কের পাশে একটি পুকুরপাড় থেকে দেলোয়ার হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একটি সজিনা গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।
দেলোয়ারের বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর গ্রামে। তিনি আব্দুল গফুরের ছেলে। জীবিকার প্রয়োজনে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে কালীগঞ্জের বালীগাঁও এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাঁর স্ত্রী স্থানীয় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত।
দেলোয়ারের স্ত্রী মোর্শেদা বেগমের দাবি, তাঁর স্বামী মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বামীকে বাসায় রেখে তিনি স্বাভাবিকভাবেই রাত কাটান। শনিবার সকালে ঘরে তাঁকে না পেয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার পর স্বামীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি সাজ্জাদ করিম খান বলেন, প্রাথমিকভাবে দুটি মৃত্যুর ঘটনাকেই আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। মরদেহ দুটি গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ডিএস./




















