মানিকগঞ্জে ব্র্যাকের উদ্যোগে টিবি, ম্যালেরিয়া, এইচআইভি এবং কোভিড-১৯
কার্যক্রমের উপর এক ওরিয়েন্টেশন প্রগ্রামে বক্তারা যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে
সমাজের সকল শেণী পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
জেলা সমন্বয়ক মোঃ ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় গতকাল ব্র্যাক আঞ্চলিক কার্যালয়ে
অনুষ্ঠিত এ ওরিয়েন্টেশনে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসার ইমাম, শিক্ষক,
জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব
জ্যোতিশ্বর পাল বলেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে সমাজের সকল শেণী পেশার মানুষকে
এগিয়ে আসতে হবে।
এক সময় ছিল যখন মানুষ যক্ষ্মা হলে লজ্জায় চিকিৎসা নিতো না, কাউকে জানাতেন
না। সময়ের পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে এ রোগের ভালো চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে।
ঠিক মতো এক নাগাড়ে ছয় মাস ওষধ খেলে যক্ষ্মা ভালো হয়ে যায়। কাজেই এখন আর
লুকোচুরির কিছূই নেই। রোগের লক্ষণ দেখা দেয়ার সাথে সাথেই ডাক্তারের
পরামর্শ নিতে হবে, ব্র্যাক অফিসে যেতে হবে। নিজে যেতে না পারলে অন্যের
সহায়তা নিতে হবে-মূল কথা হলো বিষয়টি কাউকে না কাউকে জানাতে হবে। তবেই
আমরা যক্ষ্মারোগ থেকে সহজেই মুক্ত থাকবো। তা না হলে এক জন থেকে আরেকজনের
মধ্যে যক্ষ্মার জীবানু ছড়িয়ে পড়বে। এ মেসেজটি সকলের মধ্যে প্রচার করতে
হবে। আর এ প্রচারের কাজটি মসজিদের ইমাম, শিক্ষক সমাজ, জনপ্রতিনিধিরা
দ্রুত করতে পারেন, কারণ তারা সমাজের পথ প্রদর্শক, মানুষ গুরুত্ব সহকারে
তাদের কথাগুলো আমলে নেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার
পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, বিশ্বে যে দশটি রোগে
সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যান তার মধ্যে যক্ষা অন্যতম। যক্ষা একটি ভয়ানক
রোগ। এক নাগাড়ে তিন সপ্তাহের অধিক সময় কাশি, গায়ে জ্বর, রাতে ঘাম দিয়ে
জ্বর ছাড়া, শরীরের ওজন কমে যাওয়া, ক্ষুধামন্দা এ গুলো যক্ষার প্রধান
লক্ষন। এ লক্ষণ গুলো দেখা দিলেই নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যেতে হবে।
এবং চিকিৎসকের পরামর্শমতো বুকের একটা এক্সরে, রক্তের কমপ্লিট ব্লাড
কাউন্ট, কফ পরীক্ষা করতে হবে। তিনি যক্ষ্মা রোগের কারণ, প্রতিকার ও
চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
ব্র্যাক জেলা সমন্বয়ক মোঃ ওমর ফারুক বলেন, সরকারের সহযোগিতায় মানুষকে
বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে ব্র্যাক। মানিকগঞ্জে প্রতিদিন গড়ে
বিনামূল্যে ২০-২৫জন সম্ভাব্য যক্ষ্মারোগীর এক্স-রে, ১৬ জনের জিনএক্সপার্ট
ও ৬ জনের করোনা সনাক্তের জন্য এন্টিজেন্ট টেস্ট করছে বেসরকারি উন্নয়ন
সংস্থা ব্র্যাক। যাদের যক্ষ্মারোগ সনাক্ত হয়, তাদের আমরা বিনামূল্যে
পূর্ণ মেয়াদে চিকিৎসা প্রদান করে আসছি। আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত
থাকবে।
এ সময় ব্র্যাক যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির এরিয়া সুপারভাইজার মোঃ
মাহফুজুর রহমান বলেন, একজন যক্ষা রোগী চিকিৎসা না পেলে তার মাধ্যমে গড়ে
নুন্যতম ১৫ জন সুস্থ মানুষ যক্ষায় আক্রান্ত হন। যক্ষা ছোঁয়াছে অর্থাৎ
হাচি, কাশি, চুমু, আলিংগন এসবের মাধ্যমেই যক্ষা ছড়ায়। যক্ষা রোগীর কাশিতে
লেগে থাকা যক্ষার জীবানু উন্মুক্ত পরিবেশে ৬ মাস বেঁচে থেকে তা অন্যকে
সংক্রমন করার ক্ষমতা রাখে। যক্ষার জীবানু সাদা কালো ধনী গরীব বুঝে না।
সবাই সমান ভাবে যক্ষায় আক্রান্ত হতে পারেন। যক্ষা রোগাক্রান্ত পুরুষ বা
নারীর শিশু সন্তান যক্ষা রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি থাকে বেশি। তাই
যক্ষ্মা সনাক্ত হলে বা সন্দেহ হলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে।
তিনি যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে ব্র্যাকের কার্যকর দিক সমূহ তুলে ধরেন।










