প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তকে প্রজ্ঞাপন আকারে জারির দাবিতে রবিবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছে কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
শনিবার বেলা সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে নূর বলেন, আমরা গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে অহিংসভাবে আন্দোলন করে আসছি। এরপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। সরকারের প্রতিনিধিরা আমাদের কাছে সময় চেয়েছে, আমরা তাদেরকে সময় দিয়েছি। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। প্রজ্ঞাপন জারি নিয়ে আমাদের সঙ্গে টালবাহানা করা হচ্ছে। এর জবাব ছাত্রসমাজ রাজপথে দেবে।
নূর আরো বলেন, কোটার বিষয়টি দেখার জন্য কমিটি গঠন করার নামে ছাত্রসামজের সাথে প্রহসন করা হচ্ছে। কোটা বাতিল ঘোষণা করার পর কোটার বিষয়টি দেখার জন্য আবার কমিটি কেন? আমরা অতিদ্রুত প্রজ্ঞাপন চাই।
সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ৯ মে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করার সময় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়, আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আন্দোলনকারীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কুমিল্লা ও রংপুরে পুলিশ তাদের গ্রেফতারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের অপচেষ্টা করলে ছাত্ররা বসে থাকবেন না।
তিনি বলেন, আমাদেরকে বারবার আশ্বাস দেয়া হয়েছে ৭ মে’র মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, ৭ মে পেরিয়ে গেলেও প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। আর প্রজ্ঞাপন জারি না করায় ছাত্রসমাজের মাঝে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে দেয়া আশ্বাসের কথা রাখা হয়নি। তাই আমরা কোটা প্রজ্ঞাপনের দাবিতে আগামীকাল (রবিবার) দেশের সকল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সকাল ১১টায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করব। আর এ বিক্ষোভ চলাকালীন সময় ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত সকল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরূল হক নূর, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
















