প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তকে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি দাবি ও আন্দোলনকারীদের হয়রানি করার প্রতিবাদে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ধর্মঘট করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
ঢাবি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাকারের সামনে সোমবার সকাল ৯টা থেকে জড়ো হতে থাকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এরপর সকাল ১০টা থেকে ছাত্র ধর্মঘট শুরু হয়।
ছাত্রধর্মঘটে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরূল হক নূর, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেনসহ প্রমুখ কেন্দ্রীয় নেতারা। আন্দোলনকারীরা ঢাবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করছে।
এ সময় তারা ‘আর নয় কালক্ষেপণ, এবার চাই প্রজ্ঞাপন, ‘প্রজ্ঞাপনে তালবাহানা, চলবে না চলবে না, ‘দাবি মোদের একটাই, প্রজ্ঞাপন প্রজ্ঞাপন, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দিব না, ‘লেগেছে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে, ইত্যাদি বলে স্লোগান দিতে থাকে। ধর্মঘটের শুরুতে আন্দোলনকারীরা ঢাবির কলাভবনের মূল ফটক বন্ধ করে দেয়। তারপর তারা সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে স্লোগান দিতে থাকে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর বলেন, সারা বাংলার ছাত্র সমাজ আজ একতাবদ্ধ। তারা তাদের অধিকার নিয়ে রাজপথে। ছাত্র সমাজ কখনো ব্যর্থ হতে পারে না। প্রজ্ঞাপন না নিয়ে তারা ঘরে ফিরবে না।
আন্দোলনের আহ্বায়ক মামুন বলেন, আমাদেরকে বারবার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল ৭ মে’র মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, ৭ মে পেরিয়ে গেলেও প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। আর প্রজ্ঞাপন জারি না করায় আজকে ছাত্রসমাজ আবার রাজপথে নেমেছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দেয়া আল্টিমেটাম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোটা বাতিলে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ার আজ সোমবার সারাদেশের সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে ধর্মঘট চলছে বলে জানান আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতারা। এদিকে আজকের ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে ঢাবির আইন বিভাগসহ কয়েকটি বিভাগে পরীক্ষা বর্জন ও ক্লাস বন্ধ রয়েছে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের ঢাবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে একইদিন বিকেল ৫টার মধ্যে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করার আল্টিমেটাম দেয় সরকারকে। অন্যথায় তারা আজ সোমবার সকাল ১০টা থেকে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে অনির্দিষ্টকালের ছাত্র ধর্মঘট ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেয়।


























