১২:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

আজও পাঁচ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৭ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

যশোর, রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও টাঙ্গাইলে পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সাত মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।

যশোরে পৃথক দুটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। রবিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে যশোর শহরতলীর শেখহাটি ও খোলাডাঙ্গায় এ ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে।

নিহতরা মাদক ব্যবসায়ী দাবি করে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে। তবে তাদের পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি একেএম আজমল হুদা জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে যশোর শহরতলীর শেখহাটি ও খোলাডাঙ্গায় মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি করছে- এমন সংবাদ পায় পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশ ওই স্থান দুটিতে যায়। এসময় শেখহাটির নওয়াব আলীর খেজুর বাগান নামক স্থান থেকে দুইটি মৃতদেহ ও ৪শ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে খোলাডাঙ্গা মাঠের মধ্যে থেকে এক মরদেহ ও একশ’ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এদিকে র‌্যাব জানিয়েছে, রাজশাহীতে র‌্যাবের সঙ্গে ‌‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী নিহত হয়েছেন। রবিবার রাত ১২টার দিকে নগরীর উপকণ্ঠ বেলপুকুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, এক রাউন্ড তাজা গুলি এবং এক রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাবের ভাষ্য, নিহত লিয়াকত এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকসহ আটটি মামলা রয়েছে।

এছাড়া ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। নিহত মো. সব্দুল ইসলাম ওই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। রবিবার রাত পৌনে ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ একটি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

ঝিনাইদহ র‌্যাব-৬ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক এএসপি গোলাম মোর্শেদ জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের তে-মাথা নামক স্থানে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি চালায়। পরে র‌্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন সব্দুল ইসলাম। উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পুলিশের সঙ্গে ‌‌‘বন্দুকযুদ্ধে’ জনাব আলী (৩২) নামে চিহ্নিত এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। রবিবার রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার উথলী গ্রামের সন্যাসীতলা মাঠে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। জনাব আলী ওই গ্রামের জামাত আলীর ছেলে। তার নামে জীবননগর থানাসহ অন্যান্য থানায় অন্তত ১১টি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে একটি শটগান, দুটি কার্তুজ, তিনটি রামদা এবং এক বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। বন্দুকযুদ্ধের সময় জীবননগর থানার তিন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।

এদিকে, টাঙ্গাইলে র‌্যাব-১২ এর সঙ্গে একদল মাদক পাচারকারীর গুলি বিনিময় হয়। এতে কুখ্যাত মাদক বিক্রেতা আবুল কালাম আজাদ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিহত হন। রাত সাড়ে ১২ টায় ঘাটাইলে এই বন্ধুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদক, বিদেশি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। বন্দুকযুদ্ধে দুই র‌্যাব সদস্যও আহত হয়েছেন।

উল্লেক্য, গত শনিবার দিনগত রাতেও পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দেশের ছয় জেলায় ছয়জন নিহত হন। ময়মনসিংহ, ফেনী, বরিশাল, যশোর, দিনাজপুর ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এ ঘটনা ঘটে। এসব ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত চারজন মাদক ব্যবসায়ী, একজন ডাকাত ও অপর একজনকে ছিনতাইকারী বলে দাবি করে পুলিশ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চ্যালেঞ্জে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন

আজও পাঁচ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৭ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

প্রকাশিত : ১০:০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ মে ২০১৮

যশোর, রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও টাঙ্গাইলে পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সাত মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।

যশোরে পৃথক দুটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। রবিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে যশোর শহরতলীর শেখহাটি ও খোলাডাঙ্গায় এ ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে।

নিহতরা মাদক ব্যবসায়ী দাবি করে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে। তবে তাদের পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি একেএম আজমল হুদা জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে যশোর শহরতলীর শেখহাটি ও খোলাডাঙ্গায় মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি করছে- এমন সংবাদ পায় পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশ ওই স্থান দুটিতে যায়। এসময় শেখহাটির নওয়াব আলীর খেজুর বাগান নামক স্থান থেকে দুইটি মৃতদেহ ও ৪শ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে খোলাডাঙ্গা মাঠের মধ্যে থেকে এক মরদেহ ও একশ’ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এদিকে র‌্যাব জানিয়েছে, রাজশাহীতে র‌্যাবের সঙ্গে ‌‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী নিহত হয়েছেন। রবিবার রাত ১২টার দিকে নগরীর উপকণ্ঠ বেলপুকুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, এক রাউন্ড তাজা গুলি এবং এক রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাবের ভাষ্য, নিহত লিয়াকত এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকসহ আটটি মামলা রয়েছে।

এছাড়া ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। নিহত মো. সব্দুল ইসলাম ওই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। রবিবার রাত পৌনে ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ একটি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

ঝিনাইদহ র‌্যাব-৬ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক এএসপি গোলাম মোর্শেদ জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের তে-মাথা নামক স্থানে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি চালায়। পরে র‌্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন সব্দুল ইসলাম। উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পুলিশের সঙ্গে ‌‌‘বন্দুকযুদ্ধে’ জনাব আলী (৩২) নামে চিহ্নিত এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। রবিবার রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার উথলী গ্রামের সন্যাসীতলা মাঠে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। জনাব আলী ওই গ্রামের জামাত আলীর ছেলে। তার নামে জীবননগর থানাসহ অন্যান্য থানায় অন্তত ১১টি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে একটি শটগান, দুটি কার্তুজ, তিনটি রামদা এবং এক বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। বন্দুকযুদ্ধের সময় জীবননগর থানার তিন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।

এদিকে, টাঙ্গাইলে র‌্যাব-১২ এর সঙ্গে একদল মাদক পাচারকারীর গুলি বিনিময় হয়। এতে কুখ্যাত মাদক বিক্রেতা আবুল কালাম আজাদ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিহত হন। রাত সাড়ে ১২ টায় ঘাটাইলে এই বন্ধুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদক, বিদেশি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। বন্দুকযুদ্ধে দুই র‌্যাব সদস্যও আহত হয়েছেন।

উল্লেক্য, গত শনিবার দিনগত রাতেও পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দেশের ছয় জেলায় ছয়জন নিহত হন। ময়মনসিংহ, ফেনী, বরিশাল, যশোর, দিনাজপুর ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এ ঘটনা ঘটে। এসব ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত চারজন মাদক ব্যবসায়ী, একজন ডাকাত ও অপর একজনকে ছিনতাইকারী বলে দাবি করে পুলিশ।