০২:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

অর্থ সংকটে পড়েছে ভারতের কংগ্রেস!

ভারতের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল কংগ্রেস। স্বাধীনতার পর ৭১ বছরের মধ্যে ৪৯ বছরই দেশ শাসন করা দলটি অর্থসংকটে পড়েছে?

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকে চ্যালেঞ্জ করতে একদল এলিট বুদ্ধিজীবী কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ১৮৮৫ সালে। দীর্ঘকাল দেশ শাসনের অভিজ্ঞতা লব্ধ দলটি এখনো দেশটির প্রধান বিরোধী দল।

পুরো দেশে ছড়িয়ে আছে এর অসংখ্য সমর্থক।

অথচ সেই দলটিই নাকি অর্থসংকটে পড়েছে! দলটির অফিসিয়াল টুইটার থেকে গত বৃহস্পতিবার সহায়তা চেয়ে বার্তা দেয়ার পরই মূলত সেই প্রশ্ন উঠছে। ইতোমধ্যে তা নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা, বিতর্ক।

অনেকেই কংগ্রেসের এমন আবেদনে বিস্মিত হয়েছে—কারণ তারা বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে ভারতের প্রাচীন দলটি অর্থ সংকটে পড়েছে।

এটা কি দলটির সমর্থকদের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত একটি স্বচ্ছ সংগঠনে পরিণত করার উদ্যোগ নাকি সত্যিকার অর্থেই দলটি আর্থিক সংকটে পড়েছে- এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

কংগ্রেসের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দেখভালের দায়িত্বে থাকা দিব্যা স্পন্দনা ব্লুমবার্গকে বলেছেন, “আমাদের অর্থ নেই”।

যদিও পর্যবেক্ষণ সংস্থা এসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর) বলছে, ২০১৭ সালে কংগ্রেসের আয় ছিল ৩৩ মিলিয়ন ডলার। যখন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা দলের ঘোষিত অর্থের পরিমাণ ছিল ১৫১ মিলিয়ন ডলারের বেশি। সেই হিসেবে অবশ্য অনেক কম।

দলগুলো মূলত সদস্যদের চাঁদা কিংবা ডোনারের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ বা অন্য অর্থনৈতিক উদ্যোগ থেকে অর্থ আয় করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো দলগুলোর আদৌ কি অন্য কোন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আছে যা থেকে তারা আয় করতে পারে?

আবার যদিও দলগুলোকে তাদের আয় ব্যয়ের হিসেব প্রকাশ করতে হয়, কিন্তু সেটি কি তারা আসলেই স্বচ্ছতার সাথে করে?

এডিআর (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা সালিশি ব্যবস্থা) বলছে, ৬৯ শতাংশ পার্টি আয়ের উৎস এখনো অজানা সূত্র। একই সঙ্গে কংগ্রেসের আবেদনকে বলছে, পাবলিক স্ট্যান্ট। তার মতে ক্লিন পার্টি হিসেবে পরিচিত লাভের জন্য এটা একটি স্মার্ট পদক্ষেপ। কিন্তু প্রশ্ন হলো ভারতে নির্বাচনী প্রচারণা এখন অনেক ব্যাপ্তি লাভ করেছে।

বিমান ভাড়া করা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কৌশল বিদ এমন নানা দিক তৈরি হয়েছে। আর এসব কারণে ২০১৯ সালের নির্বাচন হবে যে কোনো দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।সূত্র: বিবিসি বাংলা

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চ্যালেঞ্জে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন

অর্থ সংকটে পড়েছে ভারতের কংগ্রেস!

প্রকাশিত : ১২:৫১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ মে ২০১৮

ভারতের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল কংগ্রেস। স্বাধীনতার পর ৭১ বছরের মধ্যে ৪৯ বছরই দেশ শাসন করা দলটি অর্থসংকটে পড়েছে?

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকে চ্যালেঞ্জ করতে একদল এলিট বুদ্ধিজীবী কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ১৮৮৫ সালে। দীর্ঘকাল দেশ শাসনের অভিজ্ঞতা লব্ধ দলটি এখনো দেশটির প্রধান বিরোধী দল।

পুরো দেশে ছড়িয়ে আছে এর অসংখ্য সমর্থক।

অথচ সেই দলটিই নাকি অর্থসংকটে পড়েছে! দলটির অফিসিয়াল টুইটার থেকে গত বৃহস্পতিবার সহায়তা চেয়ে বার্তা দেয়ার পরই মূলত সেই প্রশ্ন উঠছে। ইতোমধ্যে তা নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা, বিতর্ক।

অনেকেই কংগ্রেসের এমন আবেদনে বিস্মিত হয়েছে—কারণ তারা বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে ভারতের প্রাচীন দলটি অর্থ সংকটে পড়েছে।

এটা কি দলটির সমর্থকদের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত একটি স্বচ্ছ সংগঠনে পরিণত করার উদ্যোগ নাকি সত্যিকার অর্থেই দলটি আর্থিক সংকটে পড়েছে- এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

কংগ্রেসের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দেখভালের দায়িত্বে থাকা দিব্যা স্পন্দনা ব্লুমবার্গকে বলেছেন, “আমাদের অর্থ নেই”।

যদিও পর্যবেক্ষণ সংস্থা এসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর) বলছে, ২০১৭ সালে কংগ্রেসের আয় ছিল ৩৩ মিলিয়ন ডলার। যখন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা দলের ঘোষিত অর্থের পরিমাণ ছিল ১৫১ মিলিয়ন ডলারের বেশি। সেই হিসেবে অবশ্য অনেক কম।

দলগুলো মূলত সদস্যদের চাঁদা কিংবা ডোনারের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ বা অন্য অর্থনৈতিক উদ্যোগ থেকে অর্থ আয় করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো দলগুলোর আদৌ কি অন্য কোন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আছে যা থেকে তারা আয় করতে পারে?

আবার যদিও দলগুলোকে তাদের আয় ব্যয়ের হিসেব প্রকাশ করতে হয়, কিন্তু সেটি কি তারা আসলেই স্বচ্ছতার সাথে করে?

এডিআর (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা সালিশি ব্যবস্থা) বলছে, ৬৯ শতাংশ পার্টি আয়ের উৎস এখনো অজানা সূত্র। একই সঙ্গে কংগ্রেসের আবেদনকে বলছে, পাবলিক স্ট্যান্ট। তার মতে ক্লিন পার্টি হিসেবে পরিচিত লাভের জন্য এটা একটি স্মার্ট পদক্ষেপ। কিন্তু প্রশ্ন হলো ভারতে নির্বাচনী প্রচারণা এখন অনেক ব্যাপ্তি লাভ করেছে।

বিমান ভাড়া করা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কৌশল বিদ এমন নানা দিক তৈরি হয়েছে। আর এসব কারণে ২০১৯ সালের নির্বাচন হবে যে কোনো দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।সূত্র: বিবিসি বাংলা