এবার ঈশ্বরদীতে ৩’শ কোটির স্থলে ১৩৫ কোটি টাকার লিচু উৎপাদন হওয়ায় চাষিদের ক্ষতি হয়েছে ১৬৫ কোটি টাকা। লিচু উৎপাদন কম হওয়ায় শিমুলতলাসহ লিচুর হাটগুলোর সাথে জড়িতরাও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
গত মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানিতে লিচু বাগানের মাটি নরম থাকা, ছাব্বিশ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করা বৈশাখ জ্যৈষ্ঠে অনাকঙ্খিত অতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ায় সৃষ্ট প্রকৃতির বিরুপ প্রতিক্রিয়ায় লিচু উৎপাদনে এবার ধ্বস নেমেছে। সার কীট নাশকের অতিরিক্ত মূল্য থাকায় উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পায়। এসব কারণে ঈশ্বরদীতে গত মৌসুমের তুলনায় মোট ২ লাখ ৭০ হাজার গাছের মধ্যে শতকরা সত্তর ভাগ গাছে লিচুর উৎপাদন কম হয়েছে। এতে ঈশ্বরদী এলাকায় এবার ৯৫৭০ জন কৃষক চার হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ করেছে। প্রায় ৩’শ কোটি টাকার লিচুর স্থলে মাত্র ১৩৫ কোটি টাকার লিচু উৎপাদন হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী ১ লাখ ৮০ হাজার গাছে গড়ে ৫ হাজার করে মোট ৫৪ কোটি লিচু উৎপাদন হয়েছে। প্রতিটি লিচুর মূল্য ২ টাকা ৫০ পয়সা হিসেবে ১৩৫ কোটি টাকার লিচু উৎপাদন হয়েছে। ফলে লিচু চাষি, লিচু বাজার জাত করণের সাথে জড়িত ব্যাপারী, লেবার, পরিবহণ মালিক ও আড়ৎদাররাও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। এতে অনেকেই এবার কর্মবিমুখ হয়ে পড়েছেন। প্রকৃতির বিরুপ প্রভাব না থাকলে এবং সার কীটনাশকের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকলে আগামি মৌসুমে লিচুর উৎপাদন স্বাভাবিক হবে বলে কৃষি বিভাগও আশাবাদী।

ছাব্বিশ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করা বৈশাখ জ্যৈষ্ঠে অনাকঙ্খিত অতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ায় সৃষ্ট প্রকৃতির বিরুপ প্রতিক্রিয়ায় লিচু উৎপাদনে ধবস নামায় লিচু চাষি, বাজার জাত করণের সাথে জড়িত ব্যাপারী, লেবার, পরিবহণ মালিক ও আড়ৎদাররাও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
আগামী মৌসুমে ঈশ্বরদী এলাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশ ঠিক থাকলে, সার কীট নাশকের দাম সহজলভ্য এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে বেশী লিচু উৎপাদন ও বাম্পার ফলনের মাধ্যমে লিচু চাষি, ব্যাপারি, লেবার ও আড়ৎদারদের অবস্থার পরিবর্তন হবে বলে আশা করেন স্থানীয় লিচু চাষিরা।
বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষিপদক প্রাপ্ত অভিজ্ঞ লিচু চাষি আব্দুল বারী ওরফে কপি বারী, লিচু বাগান মালিক বরকত আলী, এ্যাডভোকেট হেদায়েত উল হক ও ব্যাপারী রহমত আলীসহ অনেকেই সাংবাদিকদের কাছে একই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

ঈশ্বরদীর অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা রোকসানা কামরুন্নাহার জানান, বিক্ষিপ্তভাবে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে লিচু আবাদ হয়েছে এবার। অতিবৃষ্টির কারণে আগাম কুশি বের হয়ে ফলনের ক্ষতি হয়েছে। প্রতি ইউনিয়নে সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে যাতে আগামিতে আরও বেশী করে বাণিজ্যিকভাবে লিচু উৎপাদন করা সম্ভব হয়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে কাটিয়ে ফলন বৃদ্ধিরও চেষ্টা করা হচ্ছে।




















