০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাহী প্রকৌশলীকে বাঁচাতে  পুনঃ তদন্তের নামে অর্থ আত্মসাত ধামাচাপার চেষ্টা

গত ৫৪ দিন আগে তাড়াশের ভদ্রাবতী খাল খননে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি। ঘটনার সত্যতা মিললেও পুনঃ তদন্তের নামে প্রকৃত রহস্য ধামাচাপা দেওয়ার আয়োজন চলছে।
জানা যায়, তাড়াশ উপজেলায় গত ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর খাল খননের দুটি প্রতিবেদনে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পায়। এছাড়া ২৫ সেপ্টেম্বর রাস্তার কাজে অনিয়ম পায় তদন্ত কমিটি কিন্তু ব্যবস্থাতো দূরের কথা, উল্টো বহাল তবিয়তে আছেন সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে এরইমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে তদবীরও করানো হচ্ছে।
এবিষয়ে পাবনা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নবীউল ইসলামকে তদন্তের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে ভদ্রাবতী খালের আবার ও পুনঃ তদন্ত করা হবে।
নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলামের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ হয়। এরপর অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণও পায় মন্ত্রণালয় ও এলজিইডির তদন্ত কমিটি। গত ১৭ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আঞ্চলিক পাবনা অফিসের তদন্ত কমিটিও অনিয়মের প্রমাণ পায়। স্থানীয়রা বলছেন, সরিষার মধ্যে ভূত থাকায়, ব্যবস্থা না নিয়ে চোর-পুলিশ খেলছে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ।
এর আগে প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়,  খাল খননে শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কথা ৩০ শতাংশ এবং বেকু দিয়ে কাজ করার কথা ৭০ শতাংশ। অথচ
সম্পূর্ণ কাজই করা হয়েছে বেকু দিয়ে।
বেকুর দরের চেয়ে শ্রমিকের মজুরি দর বেশি, তাই বিলও প্রদান করা হয়েছে শ্রমিকের মজুরি দরে। বিভিন্ন নামে বেনামে এমনকি মৃত শ্রমিকদের নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে বিল উত্তোলন করা হয়েছে।
যন্ত্র ব্যবহার করে, শ্রমিকের মজুরির দরে বিল প্রদান করার ফলে সরকারের ৪১ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত লোকসান হয়েছে।
ঠিকাদার কবির তালুকদার জানান,  গত ৫৪ দিনেও খাল খননের প্রতিবেদন না দিয়ে এখন শুনছি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এতো দিনে পুনঃ তদন্তের জন্য যাবেন। তার সাথে নির্বাহী প্রকৌশলীর গোপন আঁতাত আছে কিনা সন্দিহান।
এলজিইডির রাজশাহী আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জুলফিকার আলী জানান, খাল খননের তদন্ত প্রতিবেদন আমার অফিসে জমা হয়নি।
উল্লেখ্য যে, গত অর্থবছরে নির্বাহী প্রকৌশলীর অদক্ষতায় ২৭ কোটি টাকা উন্নয়ন বঞ্চিত হয় সিরাজগঞ্জবাসী।  কামারখন্দ উপজেলায় কাজ না করেই বিল উত্তোলন, টেন্ডার ছাড়াই কাজ করে বিল উত্তোলনের পাঁয়তারা। এছাড়া জেলার একাধিক রাস্তায় নিম্নমানের কাজ করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন ছাড়াই  কয়েক কোটি টাকার বিল প্রদানে অনিয়ম করেন নির্বাহী প্রকৌশলী।
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কৃষকের মেরুদণ্ড শক্তশালী হলে জাতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী হবে: ফারজানা শারমিন পুতুল

নির্বাহী প্রকৌশলীকে বাঁচাতে  পুনঃ তদন্তের নামে অর্থ আত্মসাত ধামাচাপার চেষ্টা

প্রকাশিত : ০৬:৫৯:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর ২০২৩
গত ৫৪ দিন আগে তাড়াশের ভদ্রাবতী খাল খননে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি। ঘটনার সত্যতা মিললেও পুনঃ তদন্তের নামে প্রকৃত রহস্য ধামাচাপা দেওয়ার আয়োজন চলছে।
জানা যায়, তাড়াশ উপজেলায় গত ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর খাল খননের দুটি প্রতিবেদনে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পায়। এছাড়া ২৫ সেপ্টেম্বর রাস্তার কাজে অনিয়ম পায় তদন্ত কমিটি কিন্তু ব্যবস্থাতো দূরের কথা, উল্টো বহাল তবিয়তে আছেন সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে এরইমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে তদবীরও করানো হচ্ছে।
এবিষয়ে পাবনা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নবীউল ইসলামকে তদন্তের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে ভদ্রাবতী খালের আবার ও পুনঃ তদন্ত করা হবে।
নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলামের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ হয়। এরপর অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণও পায় মন্ত্রণালয় ও এলজিইডির তদন্ত কমিটি। গত ১৭ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আঞ্চলিক পাবনা অফিসের তদন্ত কমিটিও অনিয়মের প্রমাণ পায়। স্থানীয়রা বলছেন, সরিষার মধ্যে ভূত থাকায়, ব্যবস্থা না নিয়ে চোর-পুলিশ খেলছে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ।
এর আগে প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়,  খাল খননে শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কথা ৩০ শতাংশ এবং বেকু দিয়ে কাজ করার কথা ৭০ শতাংশ। অথচ
সম্পূর্ণ কাজই করা হয়েছে বেকু দিয়ে।
বেকুর দরের চেয়ে শ্রমিকের মজুরি দর বেশি, তাই বিলও প্রদান করা হয়েছে শ্রমিকের মজুরি দরে। বিভিন্ন নামে বেনামে এমনকি মৃত শ্রমিকদের নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে বিল উত্তোলন করা হয়েছে।
যন্ত্র ব্যবহার করে, শ্রমিকের মজুরির দরে বিল প্রদান করার ফলে সরকারের ৪১ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত লোকসান হয়েছে।
ঠিকাদার কবির তালুকদার জানান,  গত ৫৪ দিনেও খাল খননের প্রতিবেদন না দিয়ে এখন শুনছি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এতো দিনে পুনঃ তদন্তের জন্য যাবেন। তার সাথে নির্বাহী প্রকৌশলীর গোপন আঁতাত আছে কিনা সন্দিহান।
এলজিইডির রাজশাহী আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জুলফিকার আলী জানান, খাল খননের তদন্ত প্রতিবেদন আমার অফিসে জমা হয়নি।
উল্লেখ্য যে, গত অর্থবছরে নির্বাহী প্রকৌশলীর অদক্ষতায় ২৭ কোটি টাকা উন্নয়ন বঞ্চিত হয় সিরাজগঞ্জবাসী।  কামারখন্দ উপজেলায় কাজ না করেই বিল উত্তোলন, টেন্ডার ছাড়াই কাজ করে বিল উত্তোলনের পাঁয়তারা। এছাড়া জেলার একাধিক রাস্তায় নিম্নমানের কাজ করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন ছাড়াই  কয়েক কোটি টাকার বিল প্রদানে অনিয়ম করেন নির্বাহী প্রকৌশলী।
বিজনেস বাংলাদেশ/bh